জার্মানিতে বসবাসরত মুসলমানদের এবং মসজিদের নিরাপত্তা বাড়ানোর আহ্বান

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


জার্মানির সবচেয়ে বড় এবং
ইউরোপের অন্যতম বড় মসজিদে প্রার্থনারত মুসলমানরা

জার্মানিতে বসবাসরত মুসলমানদের এবং তাদের প্রার্থনালয় রক্ষায় জার্মান কর্তৃপক্ষকে আরো সচেষ্ট হতে আহ্বান জানিয়েছে ডিটিব। গত কয়েকমাসে বেশ কয়েকটি মসিজদ এবং মুসলিম সেন্টারে হামলার ঘটনার পর এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

রোববার রাতে বার্লিনের একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে যা গত দু’মাসে জার্মানিতে মসজিদে হামলার ২৪তম ঘটনা বলে জানিয়েছে তুর্কি ইসলামি সংগঠন ডিটিব।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায় যে, ইচ্ছাকৃতভাবে একের পর এক মসজিদে হামলা চালানো হচ্ছে।

ডিটিব বিবৃতিতে মুসলমানদের প্রার্থনালয় রক্ষায় জার্মান কর্তৃপক্ষকে আরো সচেষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ঘটে যাওয়া হামলার পেছনে কারা জড়িত তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ডিটিব জার্মানিভিত্তিক সংগঠন হলেও তুর্কি সরকারের সঙ্গে এটির ঘনিষ্ঠ সংযোগ রয়েছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, মসজিদে একের পর এক হামলা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ নিরব রয়েছে যা উগ্র-ডানপন্থি এবং ‘বিদেশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের (জার্মান) শাখাগুলোর’ কাছে এসব হামলার প্রতি নিরব সমর্থন বলে মনে হচ্ছে।

কোলনের কেন্দ্রীয় মসজিদ হিসেবে পরিচিত এই মসজিদটি ইউরোপের অন্যতম বড় এবং জার্মানির সবচেয়ে বড় মসজিদ। এটির আয়তন ৪৫০০ বর্গমিটার। এতে একসঙ্গে দুই থেকে চার হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। জার্মানিতে তুর্কি মুসলিমদের সংগঠন ডিটিব মসজিদটি নির্মাণ করেছে। নামাজের পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সংলাপ, খেলাধুলা আয়োজনের ব্যবস্থা এবং দোকান ও লাইব্রেরি রয়েছে।

জার্মানির সবচেয়ে বড় এবং
ইউরোপের অন্যতম বড় মসজিদ

পুলিশ জানিয়েছে, বার্লিনের রাইনিকেনডর্ফ জেলার মসজিদে সম্ভবত তিন তরুণ অগ্নিসংযোগ করেছে। আগুনে কেউ আহত না হলেও মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রার্থনালয়টির ভেতরের আসবাবপত্রসহ সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে।

বার্লিনে মসজিদে হামলা ছাড়াও একই দিনে মেশেডা শহরে তুর্কি অভিবাসী এসোসিয়েশনের কার্যালয়ে আগুন বোমা ছোঁড়া হয়েছে। আর শুক্রবার লাওফেনে আরেক মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে পুলিশ এ সবের তদন্ত করছে।

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যাতে গতবছর দেশটিতে মুসলিমবিরোধী ৯৫০টি ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ রয়েছে। আর এসব অপরাধের অনেকগুলোর সঙ্গে উগ্র-ডানপস্থিরা জড়িত।

মসজিদের সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কিনা তাও অবশ্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত আফ্রিন অঞ্চলে তুর্কি সামরিক বাহিনীর হামলা নিয়ে জার্মানিতে বসবাসরত কুর্দিরা ক্ষিপ্ত রয়েছে। তাই সিরিয়ায় সেই লড়াইয়ের প্রভাবে এসব হামলা হচ্ছে কিনা, তাও বিবেচনায় রাখছে কর্তৃপক্ষ।


ডিডব্লিউ