যুক্তরাজ্যে মুসলিমবিদ্বেষ: ১০ নারীর হামলায় আহত কিশোরী বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মারজান হুসাইন চৌধুরী 


মরিয়ম মুস্তফা

যুক্তরাজ্যের নটিংহামে মুসলিম বিদ্বেষী ১০ ব্রিটিশ নারীর হামলার শিকার মিসরীয় কিশোরী মরিয়ম মুস্তফা বিনা চিকিৎসায় বুধবার মারা গেছেন।

মরিয়মের চিকিৎসায় হাসপাতালের অবহেলা ছিল বলে তাঁর পরিবার অভিযোগ করেছে। খবর দ্য সান অনলাইন‘র।

জানাগেছে, ১৮ বছর বয়সী মরিয়ম মুস্তফা ব্রিটেনের নটিংহাম কলেজে পড়াশোনা করতেন। তিনি প্রকৌশলী হতে চেয়েছিলেন।

নটিংহাম কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ইউলটান মেলর যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমকে বলেছেন, “মরিয়ম বেশ মেধাবী ও দেখতে সুন্দরী ছিল। তাঁর অনেক বড় স্বপ্ন ছিল। সে বেঁচে থাকলে সফল ক্যারিয়ারের অধিকারী হতে পারত।”

মরিয়মের পরিবার ইন্টারনেটে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নটিংহামের একটি বিপণিবিতান থেকে আসার সময় পাবলিক বাসে মুসলিম বিদ্বেষী ১০ ব্রিটিশ নারী তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, মিসরের অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী নাবিলা আকরাম বলেছেন, “এ ঘটনার পর তিনি এক কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছেন। দূতাবাস এখন হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা ভাবছে।”

তিনি আরও বলেন, “মারাত্মক আঘাতের কারণে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের পরও হাসপাতল কর্তৃপক্ষ মরিয়মকে চিকিৎসা না দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছে। মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।”

যুক্তরাজ্যের নটিংহামের একটি বিপণিবিতান থেকে আসার সময় পাবলিক বাসে মুসলিম বিদ্বেষীরা হামলা করে মরিয়মের ওপর

মরিয়মের মা নিসরিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, “মুসলিম বিদ্বেষের কারণেই আমার মেয়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারী নারীদের আমরা কেউ চিনি না।”

তিনি আরও বলেন, “ওই মুসলিম বিদ্বেষী ব্রিটিশ নারীরা প্রথমে মরিয়মকে পেটাতে শুরু করে। এর পর লাথি ও ঘুষি মারতে থাকলে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। নারীরা তাকে ধাওয়া করলে সে একটি বাসে ওঠে চালককে অনুরোধ জানায় যাতে চালক বাসটি ছেড়ে দেন। কারণ ধেয়ে আসা ওই নারীরা তাকে মেরে ফেলবে। কিন্তু বাসচালকও তার কথা শোনেনি।”