বিনা নোটিশে ভ্রাম্যমাণ আদালত, নাগরিককে মারধর

mobile-court-tirtureআগে থেকে কোনো নোটিশ বা সতকর্তামূলক ঘোষণা ছাড়াই রাজধানীর বাংলা মটর ওভার ব্রিজের সামনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে নাগরিকদের হেনস্তা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় একজন নাগরিককে প্রকাশ্যেই পুলিশ জামার কলার ধরে টেনেহেঁচড়ে পুলিশ বক্সে নিয়ে মারধর পর্যন্ত করেছে। আর এই ঘটনা ঘটেছে ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমানের সামনেই।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত বাংলামোটর সিগন্যালে ওই আদালত পরিচালিত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমিনুল ইসলাম নামের একজন নাগরিক ওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় তাকে
কয়েকজন পুলিশ সদস্য আটক করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিয়ে আসতে চান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তাকে টেনে হেঁচড়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে জরিমানা করলে তিনি জরিমানার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘হুট করে আপনারা মানুষকে না জানিয়ে কেন এভাবে আদালত বসালেন?’ এ নিয়ে উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ তাকে ধমক দিলে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে তাকে আটকের নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট। আটক করতে গেলে তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার জামার কলার ধরে তাকে পুলিশ বক্সের ভেতর ঢুকিয়ে বেধড়র মারধর করে।

ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমানের সামনে এ ঘটনা ঘটলেও তিনি পুলিশ নিবৃত্ত করতে কোনো চেষ্টা করেননি। বরং পুলিশের পক্ষ নিয়ে আক্রান্ত নাগরিকের বিরুদ্ধেই গণমাধ্যমের কাছে বক্তব্য দেন তিনি।

মশিউর বলেন, মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওই ব্যক্তি খারাপ আচরণ করছিলেন। তাকে স্বাভাবিক মনে হয়নি। ওই ব্যক্তি ভ্রাম্যমাণ আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সময় তিনি আদালতে দাঁড়িয়েই ধূমপান করছিলেন। তাঁকে ধূমপানের জন্য ৩০০ টাকা এবং পদচারী-সেতু ব্যবহার করে রাস্তা পার না হওয়ার জন্য ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জানা গেছে, ম্যাজিস্ট্রেট মো. মশিউর রহমান তিন ঘণ্টা আদালত পরিচালনা করে ৮১ জনকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একজনকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।