আলেমদের আল্টিমেটামের পর ক্ষমা চাইলেন আজান শুনে ক্ষেপে যাওয়া আ.লীগ নেতা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


আলেমদের আল্টিমেটামের পর ক্ষমা চাইলেন সিলেটের বালাগঞ্জের আওয়ামীলীগ নেতা আনহার মিয়া।

আজ শনিবার সকাল ১১টার দিকে তার ফেসবুক আইডিতে ‘স্ট্যাটাস’ দিয়ে আজান নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি, একই সাথে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এরআগে, স্থানীয় আলেম-উলামাদের পক্ষ থেকে আনহার মিয়াকে ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার এবং তওবা করার আহ্বান জানান।

এছাড়া, সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দীনি বিদ্যাপীঠ জামেয়া হুসাইনিয়া গহরপুরে শনিবার বিকেলে সভা আহবান করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

এসবের মধ্যেই তিনি ক্ষমাপ্রার্থনা করলেন।

আওয়ামীলীগ নেতা আনহারের ফেসবুক স্ট্যাটাস

তিনি ওই পোষ্টে বলেন-

আসসালামু আলাইকুম।
সুপ্রিয় এলাকাবাসী!
আমার একটি ভিডিও ক্লিপ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া এসেছে, ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ আঘাত পেয়েছেন। এই বিষয়ে আমি কোন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে যাব না। আমি কি বলেছি? কেন বলেছি সেটা এই মূহুর্তে আমার বিবেচ্য নয়। একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান হিসেবে স্ব-প্রণোদিত হয়ে বলতে চাই, আমার একটি বক্তব্যের কারণে আমার মুসলমান ভাই-বোনেরা কষ্ট পেয়েছেন, তা আমার কাছেও কষ্টকর। তাই আমি আমার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। যে যে বন্ধুরা এই বিষয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। যারা আমার সমালোচনা করেছেন, সবাইকে ধন্যবাদ, কারণ তারা আমাকে পরিশোদ্ধ ও ত্রুটিমুক্ত দেখতে চান। পাশাপাশি আল্লাহর কাছেও ক্ষমা চাইছি। আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, আল্লাহ প্কা যেন আমাদেরকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করেন। আমি সকলের দোয়া প্রত্যাশী।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ বোয়ালজুড় ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আজান শুনে ক্ষেপে যান বোয়ালজুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনহার মিয়া।

আজান হওয়ায় তার ক্ষেপে যাওয়ার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় উঠে। নিজ দলের নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা চলাকালিন সময়ে পাশের মসজিদে যোহরের আজান দেয়া হয়। এসময় আনহার মিয়া বলেন, “আদিলকিলামি করওইন, কুনুখানো মিটিং মাটিং দেখলে তারা দেওয়ানা হইযায় আজান দেওয়ার লাগি। কেনে আজান দুই মিনিট আগে দিলো অখানর জয়াব দিতো অইবো। কেনে দুই মিনিট আগে আজান দিলো, অনুষ্ঠান দেখলে দেওয়ানা অই যায়।”

এর পর তিনি মাইক হাতে নিয়ে বলেন, “আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে যেকোন জাতীয় অনুষ্ঠানে আজান দিয়ে বাধা দেয়া হয়। এর কারণ হচ্ছে অনুষ্ঠানে বাধা দেয়া। কোনো অনুষ্ঠান হলে এখানে আজানের প্রতিযোগিতা হয়। আমি মসজিদ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি, কেন দুই মিনিট আগে আজান দেওয়া হলো আমি বুঝলাম না।”

এরপর ওই মসজিদের ইমামকে ডেকে এনে শাসিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীও ক্ষুদ্ধ।

বিষয়টি নিয়ে ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন


আল্লামা বাবুনগরীর ইনসাফ শো- দেখতে ক্লিক করুন এখানে …