বিচারপতিদের ‘ডিনারে আমন্ত্রণ’ করা যাবে না

photo-1454051740বিচারপতিদের ব্যক্তিগত ডিনারে আমন্ত্রণ জানানোর সমালোচনা করলেন সুপ্রিম কোর্টেরই একজন সাবেক বিচারপতি।

অবসরে যাওয়ার পর বিচারপতিদের রায় লেখা ‘সংবিধানপরিপন্থী’ বলে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার মন্তব্যের পর তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ২৮ জানুয়ারি বিচারপতি সিনহাকে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উপস্থিত ছিলেন।

দৃশ্যত ওই নৈশভোজের সমালোচনা করেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মো. আবদুল মতিন। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে তিনি অবসরে যান। তার আগে তাকে ডিঙ্গিয়ে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

বাংলাদেশের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী তথা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে খায়রুলের হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রায় দিলেও তিনি সেই রায়টি লেখেন অবসরে যাওয়ার পর। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর উদ্যোগে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিচারপতি আব্দুল মতিন বলেন, ‘বিচারপতিদের নিয়ে সংসদে আলোচনা করা যাবে না এবং ব্যক্তিগত ডিনারে আহ্বান করা যাবে না- ভারতে এ ধরনের আইন থাকলেও আমাদের এখানে এ ধরনের আইন নেই। আমি মনে করি, এ ধরনের সংস্কৃতি বন্ধ করা দরকার। না হয় বিচারপতিরা স্বাধীনভাবে রায় দিলেও জনগণের মধ্যে বিচার বিভাগের প্রতি এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় প্রত্যেক নাগরিকের বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু সে বিচার হতে হবে স্বাধীনভাবে।’

সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় অংশ নেন ড. কামাল হোসেন, বিচারপতি আব্দুল মতিন, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন, সৈয়দ আবুল মকসুদ, আবুল হাসান চৌধুরী, আলী ইমাম মজুমদার, ড. তোফায়েল আহমেদ, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, এডভোকেট মুহাম্মদ মহসেন রশিদ, এডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী, জাকির হোসেন, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এবং হুমায়ূন কবীর হিরু প্রমুখ।