কুন্দুজ থেকে আরাকান!


মুফতী হারুন ইজহার
| লেখক ও চিন্তক


ছবিটি আফগানিস্তানের কুন্দুজে ওলামা তুলাবাদের কোরআনের মাহফিলের। এদের বেশির ভাগ এখন বেঁচে নেই।
বাংলাদেশের ওলামা তুলাবারা শীতের মৌসুম জুড়ে মাহফিলে মাহফিলে সরব ছিলেন বাংলাদেশের সর্বত্র। তাদের জাস্ট একটু স্মরণ করিয়ে দেয়া যে এ কুন্দুজ নামক শহরটি আপনাদের কিতাবসমূহে ব্যাপকভাবে সুপরিচিত সে ‘মাওয়ারাউন্নাহর’র একটা এলাকা যার পুরো আয়তনটা এখন কমিউনিস্ট, শিয়া এবং মুরতাদদের নিয়ন্ত্রণে কেবল কুন্দুজ ছাড়া। যে বিশাল ভূমি থেকে ইমাম বুখারী থেকে শুরু করে ইসলামের সকল ক্ষণজন্মা মনীষীগণের জন্ম হয়েছিলেন সেখানে এখন আর কোন মাদ্রাসা ও মাহফিলর চিহ্ন অবশিষ্ট নেই।

এবার ওলামা তুলাবাদের আবারো স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে হাটহাজারি, পটিয়াসহ বাংলাদেশের আাকাবেরগণ ৫০, ৬০, ৭০,৮০ এবং ৯০ এর দশকে আরাকানি মুসলমানের দাওয়াতে সেখানে মাহফিল করতেন সে মাহফিলের মাঠগুলোর দখল বুঝে নিচ্ছে মগ বৌদ্ধরা। যেখানে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশি উপজাতিরও। ওখানের মাদ্রসা আর মাহফিল নামক বস্তুগুলোর স্থায়ী সমাধি হয়েছে।

তাহলে কি কোন আশার বাণী নেই?
আছে, কিন্তু সেজন্য উম্মাহ্’র কর্তৃপক্ষরা সচেতন, ইমানদার, দূরদর্শী, ত্যাগী এবং স্মার্ট,বুদ্ধিমান ও সাহসী তরুণদের একবারের জন্য তাদের দরবারে তলব করছেননা। না এটা হচ্ছেনা!
খোদার কসম, তাঁরা ভয়ানক ভবিষ্যতর দুর্গন্ধটা নাকে টের পাচ্ছেননা।

আমি বলে রাখি, কুন্দুজের জন্য চিন্তা করতে হবেনা। তালেবান থ্যারাপি কতটা কার্যকর সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। কিন্তু এতদঞ্চলের জিওপলিটিক্যাল বাস্তবতা অনেক জটিল, তার চেয়েও বড় বিপদ স্থানীয় মীরজাফর সেক্যুলার গোষ্ঠী, তার চেয়ে বড় সমস্যা ইমানের ঘরে নেফাকের হাতছানি, আর নানা ইসলামপন্থায় সমন্বয়ের অভাব।