বিদ্যুৎ বিহীন হাতিয়ার সাত লক্ষ মানুষ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মো: আবদুল মন্নান, হাতিয়া থেকে


প্রতীকী ছবি

আলো ঝলমলে সারা বাংলাদেশে। শুধু হাতিয়া দ্বীপটি যেন চাঁদের কলংকের মতো। অন্ধকার কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা এই দ্বীপ বাসির। ডিজিটাল বাংলাদেশের শ্লোগান দ্বীপ হাতিয়াই এসে হাস্যকর উপহাসে পরিনত হয়। হাতিয়া বাসির দুর্ভাগ্যের অন্ধকার দূর হোক পরিপূর্ন হোক সত্যিকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন। বিদ্যুৎ শক্তির দুর্বলতার কারণে এখানকার মানুষ আধুনিক বিজ্ঞানের সহজলভ্য সুবিধাবলী হতে চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। এ দ্বীপে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত হলে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় উন্নতি আসবে। ছোটখাট শিল্পকারখানা স্থাপন করে বেকারত্বের হার কমানো যাবে। বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা পাবে হাতিয়ার মানুষ। সর্বোপরি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নে এ দ্বীপ অনেকদূর এগিয়ে যাবে। হাতিয়া স্থানীয় ইলিশ মাছ, ছেওয়া শুটকী, ধান, ডাল, আলু, বাদাম উৎপাদনে দেশের অন্যতম দ্বীপ নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা। ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও এর মূল অন্তরায় বিদ্যুৎ। প্রায় ৬ লাখ অধিবাসী ও ৪ হাজার বর্গ কিঃ মিঃ দ্বীপ এটি। দ্বীপটিতে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও বিদ্যুৎ এর স্বল্পতার কারনে কোন উদ্যোক্তার নজর পড়ছে না এ অঞ্চলটি।

বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, ১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গর্ভনর আজম খান সুইডেন সরকারের আর্থিক সহায়তায় ৫০ কিলো ওয়ার্ট এর ২টি জেনারেটর দিয়ে দ্বীপাঞ্চল হাতিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। সে থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ভর্তুকি দিয়ে কোন রকমে চালু আছে। উপজেলায় সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে হাতিয়া একটি পরিপূর্ণ শিল্প নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে। ১০ বছরের মধ্যে পুরো হাতিয়াবাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা পাল্টে যাবে বলে শিল্পোদ্যোক্তরা মনে করেন। তাই হাতিয়ার বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রকে সাব মেরিন ক্যাবল এর মাধ্যমে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড-এ সংযোজনের জোর দাবী এই দ্বীপবাসীর।

শিল্পোদ্যোক্তরা জানান, সাব মেরিন ক্যাবল এর মাধ্যমে হাতিয়ার বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রকে ন্যাশনাল গ্রিডে অন্তর্ভূক্ত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে হাতিয়ায় ছোট ও মাঝারি ধরনের বিভিন্ন প্রকার শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে এবং বিভিন্ন সেক্টর থেকে সরকারি রাজস্ব আয় বাড়বে। হাতিয়া কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, হাতিয়া বার্ষিক ধান উৎপাদন ১১৬০৮১.৩১ মেঃ টন। বার্ষিক চাহিদা ৫৫৭৩৭.০০ টন এবং বার্ষিক উদ্বৃত্ত ৬০৩৪৪.৩১ টন। ফলে এখানে একাধিক মাঝারি ও বড় ধরনের চাল কল স্থাপন করা যায়। হাতিয়া মৎস্য অফিস সুত্রে জানা যায়, বার্ষিক মাছ উৎপাদন ৯৭৫৭.০০ টন। বার্ষিক চাহিদা ২৯১.০০ টন এবং বার্ষিক উদ্বৃত্ত ৬৮৪৬.০০ টন। এ উদ্বত্ত মাছ দেশ বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। এ মূল্যবান সম্পদকে পচন বা নষ্টের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে দ্বীপে ২/৩টি বড় হিমাগার নির্মান একান্ত প্রয়োজন।

হাতিয়া আবাসিক প্রকৌশলী জানান, জাতীয় গ্রিডে হাতিয়ায় বিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য উর্ধ্বতন মহলে আমাদের সুপারিশ ও প্রস্তাব করা আছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পাওয়ার সিস্টেম লি: এবং ভারতের উষার এগ্রো লি: যৌথভাবে ৫ মেঘাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি অত্যাধুনিক বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন কাজ হাতে নিয়েছেন তথ কালীন সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মো: ফজলুল আজিম। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পুরো হাতিয়ার ৭ লাখ মানুষ সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধা পাতেন। এ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের বিনামূল্যে কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করবেন। কিন্তু সেই ৫ মেঘাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পটি আজ অন্ধ কারে ডুবে গেছে । দ্বীপের বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণের জন্য প্রয়োজন ৪ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ। ১৯৯১ সালে এ ঘাটতি পূরণ করার জন্য সরকার ১২শ’ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৪টি অত্যাধুনিক জেনারেটর স্থাপন করে। বর্তমানে এর ২টি ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে আছে। বাকি ২টির মধ্যে ১টি বিকল হওয়ার পথে। এখানে জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ নেই।স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিশাল জেনারেটর দিয়ে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দুরেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হত। কিন্তু কালের বিবর্তনে হাতিয়া’র বিদ্যুৎ পিছনে হাঁটছে।পৌরসভা এলাকার এক বর্গ কিলোমিটার এলাকায় আছে বিদ্যুৎ সংযোগ তাও শতভাগ না। বাকি এলাকায় খাম্বা, তার ও ঘরে মিটার আছে কিন্তু বিদ্যুৎ নেই। তাই হাতিয়ার বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রকে সাব মেরিন ক্যাবল এর মাধ্যমে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড-এ সংযোজনের জোর দাবী এই দ্বীপবাসীর।


দেখুন ইনসাফ সংবাদ…