মাগফিরাতের চতুর্থ দিন আজ

 এহসান বিন মুজাহির তরুণ আলেম, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক


 

এহসান বিন মুজাহির
তরুণ আলেম, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক

 


 

 

মাহে রমজানের দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের চতুর্থ দিন আজ সোমবার। ইতোমধ্যে রহমতের দশটি দিন শেষ হয়ে মাগফিরাতের তিনটি দিন পার হলে গেল। দেশের ধর্মপ্রাাণ মুসলমানগণ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে রোজা আদায় করছেন। কিন্তু কী কারণে রোজার পবিত্র নষ্ট হয় এবং রোজা ভঙ্গ হয় তা আমাদের অনেকের কাছে অজানা। বক্ষমান নিবন্ধে এবিষয়ে উপস্থাপন করা হলো যাতে করে রোজাদারগণ সঠিকভাবে রোজা রেখে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেন। ইচ্ছকৃত মুখ ভরে বমি করা। খুলি করা অথবা নাকে পানি দেওয়ার সময় গলার মধ্যে পানি চলে যাওয়া এবং তা গিলে ফেলা। সহবাস ছাড়া অন্য কোনো পন্থা বির্জপাত ঘটানো। ধুমপান করা রাত আছে মনে করে সুবহে ছাদিকের পর পানাহার করা। ভুলবশত পানাহার করে রোজা ভেঙ্গে েেগছে মনে করে ইচ্ছা করে পানাহার করা। ইচ্ছাকৃতভাবে কানে ও নাকে ওষুধ দেয়া এসকল কারণে রেজা ভেঙ্গে যায়। দাঁতের মাঝখানে অসাবধানতাবশত থাকা কোনো জিনিস ছোলা বা বুটের সমান কিংবা তার চেয়ে বেশি কিংবা কম ছিল, এমন দ্রব্য মুখ থেকে বের করে আবার খেয়ে ফেললে রোজা ভেঙ্গে যাবে। (দুররে মুখতার ৩য় খ- ৩৯৪ পৃ.)

দু-এক ফোটা চোখের পানি মুখের ভেতরে চলে গেলে, আর সেটা গিলে ফেললে রোজা ভাঙ্গবে না, তবে যদি ফোটার পরিমাণ বেশি হয়, আর তাতে লবণাক্ততা অনুভূত হয়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। (ফাতওয়ায়ে আলমগিরী ১ম খন্ড ২০৩ পৃ.)

রোজা রাখা অবস্থায় বমি হলে রোজা ভেঙে গেল কি না এবিষয়ে রোজাদারগণ সংশয়ে থাকেন। এ সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, মাহে রমজানে যদি কারো আপনা আপনি বমি এসে যায়, তার রোজা ভাঙ্গে না। আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বমি করে তার রোজা ভেঙে যাবে। (কানযুল উম্মাল, ৮ম খন্ড, ২৩০ পৃ.)

রাসুল (সা.) আরও বলেন- যার আপনা আপনি বমি এসেছে তার উপর কাজা নেই। আর যে জেনে বুঝে বমি করেছে, সে কাজা করবে। (তিরমিজি ২য় খ- ১৭৩ পৃ.)

মিসওয়াক করা। চোখে সুরমা লাগানো। স্বপ্নদোষ হওয়া। দাত হতে রক্ত বাহির হওয়া। জুনবী তথা নাপাক অবস্থায় সাহরি খাওযা। চোখে ওষুধ লাগানো। ভুলবশত পানাহার করা। অনিচ্ছাকৃতভারেব অল্প ভুমি হওয়ার এসকল কারণে রোজা ভাঙ্গে না। রোজা রাখা স্মরণ অবস্থায় কোন পানাহার বা স্ত্রী সাথে সহবাস করলে এমতাবস্থায় কাজা ও কাফফারাহ উভয়টি ওয়জিব। মুখে থুথু জমা করে গিলে ফেলা। টুথপেস্ট দিযে দাত ব্রাশ করা। কয়লা মাজন দ্রব্য দিয়েদাত মাজা। নাপাক অবস্থায় গোসল ছাড়া সারাদিন থাকা। স্ত্রীর সাথে হাসি টাট্টা করা যাতে সহবাস বা বির্জনির্গত হওয়ার আশংকা হয়। রোযা রাখা অবস্থায় গোনাহের কাজ করা । অযথা কোনো জিনিস চিবানো। গিবত করা। চুগলখোরী করা। অশ্লীল কথাবার্তা বলা। সিঙ্গা লাগানো এসকল কারণে রোজা মাকরুহ হয়। মহান আল্লাহতাআলা আমাদেরকে সঠিকভাবে রোজা রেখে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।