আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের বিষয়ে কথা বলতে সোমবার সচিবালয়ে সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল।

বৈঠকে এক মাসের জন্য চলমান আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বৈঠকটি শুরু হয়ে ৬টা ১৮ মিনিটে শেষ হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, মুক্তযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, উপ দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

হাসান আল মামুনের নেতৃত্বে বৈঠকে পরিষদের ১৯ সদস্যের মধ্যে ছিলেন একরামুল হক, আল ইমরান হোসাইন, কানিজ ফাতেমা, আফসানা সাফা, লীনা মিত্র, লুবনা জাহান প্রমুখ।

এদিকে, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আগামী ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করার বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

সন্ধ্যায় বৈঠক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে ফিরে প্রতিনিধি দলের নেতা হাসান আল মামুন আন্দোলন স্থগিত রাখার বিষয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জনান। এ সময় উপস্থিত শত শত শিক্ষার্থী ‘মানি না, মানবো না’- বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একই সাথে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি, রাতে লাইট বন্ধ করে ঢাবি ছাত্রীদের উপর পাশবিক নির্যাতনসহ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।

প্রসঙ্গত, পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো-কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ না দেয়া, চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহারের সুযোগ না দেয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন কাট মার্কস ও বয়সসীমা নির্ধারণ করা এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধায় নিয়োগ দেয়া।