বর্ষবরণের নামে ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ বন্ধের দাবীতে স্মারকলিপি

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |  ডেস্ক রিপোর্ট


ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ বরণের নামে ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ বন্ধের দাবীতে আজ ১২ এপ্রিল দুপুরে সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান ও সিলেটে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন খেলাফতে রব্বানীর চেয়ারম্যান ও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মুফতী ফয়জুল হক জালালাবাদী, মুসলিম ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আছলাম রহমানী, দারুস সালাম মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মাশুক আহমদ সালামী, বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মাওলানা শাহ আশরাফ আলী মিয়াজানি, লেঃ কর্নেল সৈয়দ আলী আহমদ, মাদানী কাফেলা বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা রুহুল আমীন নগরী, মাওলানা নাসির উদ্দিন নিজামপুরী, মাওলানা ময়নুল ইসলাম ওমরপুরী, হাফিজ মাওলানা মুজিবুর রহমান, ডাঃ হাবিবুর রহমান, জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, মানুষ নিত্য নৈমিত্তিক জীবনাচার সম্পাদনের জন্য সন, তারিখ গণনার রেওয়াজ আদিকাল থেকে চলে আসছে। মুসলমান কৃষকেরা গোলা ভরে ধান উঠিয়ে, জমিদারী খাজনা পরিশোধ করে, মৌসুম অনুযায়ী নতুন ধানের চিড়া, মুড়ি ও পিঠা তৈরি করে পাড়া প্রতিবেশিদের মধ্যে বিতরণ সহ দোয়া-দুরূদ ও শিরনী-সালাত ইত্যকার অনুষ্ঠানদি পালনের মধ্য দিয়ে আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করতেন। ব্যবসায়ীরা বিগত সনের বকেয়া আদায় করে, দেনাদারের মধ্যে মিষ্টি মিঠাই বিতরণ করে নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করতেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে জমিদারী প্রথাও নেই, নেই খাজনা আদায়ের সেই রেওয়াজও। কারণ এসব তালিয়ে গেছে অপসংস্কৃতি আর আনন্দ উৎসবের নামে যতসব বেফাঁস উন্মাদনা ও বেলেল্লাপনায়।

আমাদের প্রতিবেশী কোন কোন সমাজে মঙ্গল শুভাযাত্রা, নাচ, গান মোমবাতি প্রজ্জলন ইত্যাদির মাধ্যমে দেব-দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা, নারী-পুরুষের সম্মিলিত নৃত্য, উন্মাদনা, মদ্যপান করে নেশায় মত্ত হয়ে রং ছিটাছিটি ইত্যাদি আভিজাত্য এবং সংস্কৃতি হলেও মুসলমানদের জন্য তা সম্পূর্ণ হারাম বা অবৈধ এবং ক্ষেত্র বিশেষ শিরক’। রুচিবোধ সম্পন্ন মানুষের কাছে তা অনৈতিক ও গর্হিত কাজ। এ সবের সাথে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ইংরেজি ও বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে বিজাতীয় তথা ব্রাহ্মণ্যবাদী ও পশ্চিমাদের অনুকরণ করে মুসলমানরাও নানবিধি বেফাঁস উন্মাদনা ও বেলেল্লাপনায় মেতে উঠেন। আল্লাহর জমিনে এসব কু-কর্ম ভয়াবহ আযাব ও গযবের কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, এসব অপসংস্কৃতি আমাদের সমাজে ভাইরাস ছড়াচ্ছে। যা থেকে মুসলিম সমাজকে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব। নেতৃবৃন্দ বর্ষবরণের নামে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলন, রাস্তাঘাটে নারী পুরুষের অবাদ বিচারণ ও অশ্লীল ভাব-ভঙ্গিমা প্রদর্শন, সম্মিলিত নৃত্য, বৈশাখী মেলার নামে জুয়া,যাত্রা, হাউজিং বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান।

ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বর্ষবরণের নামে বিজাতীয় কার্যকলাপ বন্ধের দাবীতে ১৩ এপ্রিল শুক্রবার বাদ আছর কোর্ট পয়েন্টে মানববন্ধন। ১৪ এপ্রিল শনিবার বাদ জোহর আগামী বছরের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা ও আজব ও গজব থেকে পরিত্রাণে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।