নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে নয়, সুপ্রিম কোর্টে আপিল করছেন কাদের সিদ্দিকী

কাদের সিদ্দিকীটাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের উপনির্বাচনে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া নির্বাচন কমিশনের রায় বহালে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রবিবার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন তিনি।

এরআগে বৃহস্পতিবার মনোনয়ন নিয়ে করা তার রিট আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। আদেশে তাকে নির্বাচন কমিশনের ট্রাইবুনালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

রবিবার এ বিষয়ে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কাছে জানতে চা্ইলে তিনি বলেন, হাইকোর্ট কমিশনের রায়ের বিষয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার কথা বলেছেন। এ ট্রাইব্যুনালতো হবে নির্বাচনের পরে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে ট্রাইব্যুনালে গিয়ে কি লাভ হবে? এজন্য রবিবার হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।

আবদুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, তার নিজের মনোনয়ন বাতিল হলেও দলের অন্য দুই নেতার মনোনয়ন বৈধ ছিল। তাই নির্বাচন হলে তারাতো লড়তে পারবেন।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চ ইসির বাতিল করা কাদের সিদ্দিকীর রায় বহাল রেখে রিট খারিজের ঘোষণা করেন।

ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড. মোহাম্মদ ইয়াসিন খান বলেছেন, আবদুল কাদের সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র অবৈধ বলে আদালত রিট খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই বহাল রইল। এই রায়ের ফলে টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপনির্বাচনে কোনো বাধা রইল না।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষে ছিলেন ড. মোহাম্মদ ইয়াসিন খান। কাদের সিদ্দিকীর পক্ষে ছিলেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী।

এরআগে ৩১ জানুয়ারি একই বেঞ্চে এ রুলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর আগে গত ২ নভেম্বর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীর প্রার্থীতা বাতিলের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের প্রেক্ষিতে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতি) আসনের উপনির্বাচন ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত স্থগিত করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এই সময়ের মধ্যে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বিচারপতি আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে হাইকোর্ট বেঞ্চে নিষ্পত্তির আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

এর আগে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের করা আপিলের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২ নভেম্বর পর্যন্ত টাঙ্গাইলে-৪ এর উপনির্বাচন স্থগিত করেছিলেন।

গত ১৩ অক্টোবর টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপনির্বাচনে কাদের সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী নাসরিন কাদের সিদ্দিকীসহ চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) নির্বাচন কমিশনে জানিয়েছে, কাদের সিদ্দিকীর প্রতিষ্ঠান সোনার বাংলা প্রকৌশলী সংস্থার নামে অগ্রণী ব্যাংকের ১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে।

কাদের সিদ্দিকী এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এবং নাসরিন কাদের সিদ্দিকী পরিচালক। ওই ঋণখেলাপি হওয়ায় তাদের দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

ওই নির্বাচনে জমা পড়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ইকবাল সিদ্দিকী ও হাসমত আলী, জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) সাদেক সিদ্দিকী, বিএনএফের আতাউর রহমান খান এবং এনপিপির ইমরুল কায়েসের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এরপর গত ১৮ অক্টোবর মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে কাদের সিদ্দিকীর আপিল খারিজ করে দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে তার স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকীর আপিলও খারিজ করা হয়।

পরে ২০ অক্টোবর মনোনয়নপত্র বাতিলে ইসির রায়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট দায়ের করেন কাদের সিদ্দিকী।

গত ২১ অক্টোবর কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র গ্রহণে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বুধবার বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের অবকাশকালীন বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালত ঋণখেলাপি দেখিয়ে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে।

পরদিন ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার উপনির্বাচনে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়ন গ্রহণ করে ‘গামছা’ প্রতীক বরাদ্দ দেন টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলিমুজ্জামান।

এদিকে একই দিনে দের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র গ্রহণে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করে রাষ্ট্র। এ্ আপিলের সূত্র ধরেই আগামী ১০ নভেম্বর টাঙ্গাইল-৪ আসনে অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচন ২ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করল আদালত।

টাঙ্গাইল-৪ আসনের সাবেক সংসদ লতিফ সিদ্দিকী সংসদ থেকে পদত্যাগ করায় গত ১ সেপ্টেম্বর আসনটি শূন্য ঘোষণা নির্বাচন কমিশন।