আজ পবিত্র লাইলাতুল মি‘রাজ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ইসলাম ডেস্ক


আজ (শনিবার, ১৪ এপ্রিল) পবিত্র লাইলাতুল মি’রাজ, যা শবে মেরাজ নামেও পরিচিত। প্রিয় মহানবী (সা.)-এর ঊর্ধ্বজগত ভ্রমণের রাত এটি। যে রাতে তিনি সপ্তম আকাশে ভ্রমণ করে মহান আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেছিলেন এবং মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাযের হুকুম নিয়ে দুনিয়াতে ফিরে এসেছিলেন। সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে তাই এটি একটি পবিত্র ও ফজিলতপূর্ণ রাত্রি।

আজ দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ দিন ঐচ্ছিক ছুটি।

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে আজ দিবাগত রাতে (২৬ রজব দিবাগত রাতে) বাংলাদেশে পবিত্র লাইলাতুল মি‘রাজ উদযাপিত হবে।

সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল। তবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা হলো ‘মি’রাজ’। মি’রাজ ইসলামের ইতিহাসে এমন-কি সমস্ত নবুওয়াতের ইতিহাসেও এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।

বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও এ রাতে বিশেষ এবাদত বন্দেগী করা হয়। এর মধ্যে কোরআনখানি, জিকির আসকার, ওয়াজ মাহফিল, দোয়া-দুরুদ পাঠ অন্যতম।

আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং মেরাজের তাৎপর্য প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিপালনে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে শবে মি’রাজ পালন করে মুসলমানরা।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর ২৩ বছরের নবুয়তী জীবনের অন্যতম অলৌকিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলো এই মিরাজ। মদীনায় হিজরতের আগে মক্কায় অবস্থানকালে ২৬শে রজব দিবাগত রাতে তিনি আল্লাহ প্রদত্ত বাহনে চড়ে মিরাজ গমনের মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মহান সান্নিধ্য লাভ করেন। মিরাজ গমন করে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর কাছ থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আদেশসহ ইসলামী সমাজ পরিচালনার বিধি-বিধান নিয়ে আসেন। পবিত্র কুরআনে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

বিশ্ব মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সার্বজনীন জীবন ব্যবস্থা হিসেবে রূপ দেয়ার জন্য তিনি বিশ্বের পালনকর্তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পেয়েছিলেন পবিত্র মিরাজ রজনীতে। এ জন্য এ রাতটি প্রত্যেক মুসলমানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। রাসূল (সাঃ)-এর সকল মুুযিযার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুযিযা হলো পবিত্র মিরাজ। এ রাতে তিনি বায়তুল মোকাদ্দাসে সকল নবীর ইমাম হয়ে সাইয়্যিদুল মুরসালিনের আসনে স্থায়ীভাবে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। ফলে এ রাতটি নিঃসন্দেহে তার শ্রেষ্ঠত্বের গৌরবোজ্জল নির্দশন বহন করে।

পবিত্র কুরআনের সূরা বনী ইসরাইলের প্রথম আয়াতে রাসূল (সাঃ)-এর মিরাজ গমনের বর্ণনা এসেছে এভাবে, তিনি সেই পরম পবিত্র মহিমাময় সত্তা যিনি তার স্বীয় বান্দাহ (সাঃ)-কে এক রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত। যার পরিবেশকে করেছেন তিনি বরকতময়। যাতে তাকে নিজের কিছু কুদরত দেখান। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুরই শ্রোতা ও দ্রষ্টা।

২৬ রজব রাসূল (সাঃ) উম্মে হানী বিনতে আবু তালিবের ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। হঠাৎ জিব্রাঈল (আঃ) এসে রাসূল (সাঃ)-কে মসজিদুল হারামে নিয়ে যান। সেখানে তার বুক বিদীর্ণ করে জমজম কূপের পানি দিয়ে সিনা মোবারক ধৌত করে শক্তিশালী করেন। তারপর সেখান থেকে তিনি বোরাক নামক এক ঐশী বাহনে চড়ে বায়তুল মোকাদ্দাসে এসে সকল নবীর ইমামতি করে দুই রাকাত নামায আদায় করেন। তারপর তিনি বোরাকে চড়ে ঊর্ধ্বে গমন করতে থাকেন। একের পর এক আসমান অতিক্রম করতে থাকেন। পথিমধ্যে মূসা (আঃ)সহ অনেক নবী রাসূলের সাথে সাক্ষাৎ হয়। সপ্তম আসমানের পর বায়তুল মামুরে গিয়ে জিব্রাঈল (আঃ)-কে রেখে তিনি রফরফ নামক আরেকটি ঐশী বাহনে চড়ে বিশ্বের স্রষ্টা মহান আল্লাহর দরবারে হাজির হন। বর্ণনায় আছে, রাসূল (সাঃ) আল্লাহর এতটা কাছাকাছি গিয়েছিলেন যে দু’জনের মধ্যখানে ধনুক পরিমাণ ব্যবধান ছিল। সেখানে আল্লাহর সাথে রাসূল (সাঃ)-এর কথোপকথন হয়। এক বর্ণনার মাধ্যমে জানা যায়, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাসূল (সাঃ)-এর কাছে জানতে চান তিনি আল্লাহর জন্য কি উপহার এনেছেন। তখন রাসূল (সাঃ) তাশাহুদ পাঠ করেন এবং বলেন, এটি আপনার জন্য উপহার হিসেবে এনেছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাযসহ জীবন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন বিধি-বিধান রাসূলকে উপহার দেন। মিরাজ থেকে আসার পর এ ঘটনার বর্ণনা দেয়া হলে বিনা প্রশ্নে তা বিশ্বাস করেন হযরত আবু বকর (রাঃ)।

রাসূলের মিরাজ গমনের বিষয়ে পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এছাড়া মুফাসসীরগণও এ সম্পর্কে ব্যাপক তথ্য প্রমাণাদি পেশ করেছেন।

পবিত্র মিরাজের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান বিশ্বের মজলুম মানুষকে নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তির জন্য কাজ করতে হবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন মসজিদ মাদরাসাসমূহে আলোচনা এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।