হাতিয়া অবৈধ বাংলা ইটভাটার ছড়াছড়ি : আইন আছে প্রয়োগ নেই

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মো: আবদুল মন্নান


আইন আছে কিন্তু প্রয়োগ না থাকায় হাতিয়ায় প্রতি বছরই জন্ম হচ্ছে নতুন নতুন বাংলা ইট ভাটার। এসব ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে গাছ পোড়ানোর কারণে ছোট বড় সব ধরনের বাগান উজাড় হয়ে যাচ্ছে। নানা জাতের গাছ নিধনের ফলে দীর্ঘ মেয়াদে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে।

১২০ ফুট দীর্ঘ উঁচু চিমনির পরিবর্তে মাত্র ২০ ফুট বাংলা চিমনি ব্যবহার করায় ইটভাটার ধোঁয়া ও কালো ছাই বাতাসে কার্বনডাই অক্সাইড ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে পাশে অবস্থিত লোকালয়ে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। অক্সিজেন সংকট এবং অতিমাত্রায় কার্বনডাই অক্সাইড গ্রহণের ফলে শিশু বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষ শ্বাসকষ্ট, গলার প্রদাহ, পেটের পীড়া, এমনকি প্রাণঘাতী ফুসফুস ক্যান্সারের মত জটিল সকল রোগের আশংকা রয়েছে। একইভাবে আক্রান্ত হচ্ছে পশু পাখি, গাছপালা এবং কৃষকের উৎপাদিত ফসল ও অন্যদিকে কৃষিজমি হারাচ্ছে উর্বরতা। বাংলা ইটভাটার এসব মালিকরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নতুন নতুন এলাকায় ইটভাটা তৈরি করছে।

হাতিয়া উপজেলার সব ইউনিয়ানে অবাদে পরিবেশ দূষণকারী ইটভাটা স্থাপনের প্রতিযোগীতা গড়ে উঠেছে। এসব ইটভাটাগুলোতে বেশীর ভাগ জ্বালানো হচ্ছে নানা প্রজাতির বৃক্ষাধি। যাতে একদিকে কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে অন্যদিকে নিধন হচ্ছে মূল্যবান গাছপালা আর জ্বলছে ফসলীয় জমিন। অভিযোগ রয়েছে ইটভাটা মালিক সমিতির যোগসাজসে পরিবেশ অধিদপ্তরের নোয়াখালী অঞ্চলের কিছু অসাধু কর্মকর্তা মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে বাংলা ইটভাটা স্থাপনে মালিকদের সহযোগীতা করেছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবাধে চলছে বিভিন্ন নামের বাংলা ব্রিকস্ ইট ভাটা কাঠ পোড়ানোর এসব ইটভাটার মালিকদের সাথে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে কেহ জানান ছাড়পত্র প্রক্রিয়াধীন আছে। আবার কেহ বলে ছাড়পত্র পেয়েছি। পরিবেশের ক্ষতি বা দুষন যেন না হয় সে জন্য অধিদপ্তর ছাড়পত্র দেয় ব্রয়লার অথবা জিকজাক ইটভাটা স্থাপনের জন্য। কিন্তু যারা ছাড়পত্র পেয়েছে বললেন তারা কিভাবে বাংলা ইটভাটা স্থাপন করেছে, আর যাদের ছাড়পত্র বললেন প্রক্রিয়াধীন আছে তারা কিভাবে বাংলা ইটভাটা স্থাপন করেছে? এসব প্রশ্নের জবাব কোন মালিকপক্ষ না দিয়ে জানান পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন এসব ইট ভাটা পরিদর্শন করে যায়, তাতে কোন অসুবিধা হয়না। যদিও ১৯৯৫ইং সালের পরিবেশ সংরক্ষন আইন প্রণয়ন করা আছে, কিন্তু উৎকোচ বিনিময় প্রথা চালু থাকার কারণে এসব আইনের কোন কার্যকারিতা নেই। অথচ এই আইনে পরিবেশ দূষনকারীদের জন্য কারাদন্ড ও অর্থদন্ডেরও বিধান আছে।
তাই এলাকাবাসীর দাবী পরিবেশ বিপর্যয় হতে রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অন্যদিকে বাংলা চিমনি যুক্ত ইটভাটার কিছু কিছু মালিক দলীয় প্রভাব ও জনপ্রতিনিধির প্রভাব খাটিয়ে পরিবেশ আইনকে তোয়াক্কা না করে চালিয়ে যাচ্ছে যমজমাট ইট তৈরীর মহোৎসব। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মো: রেজারউল করিম ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান,সাম্প্রতিক কালে পরিবেশ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলার দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে এবং হাতিয়া থানা ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে বলা হয়েছে, যে সকল ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তর অধিদপ্তর ছাড়পত্র নাই সেগুলো যেন দুরুত্ব বন্ধ করে দেন। এছাড়া ও এই বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) জনাব মো:কামরুজামান শিকদার, দৈনিক ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান,অতিশিখ্রই এই বিষয়ে একটি অভিযান পরিচালনা করা হবে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।


Notice: Undefined index: email in /home/insaf24cp/public_html/wp-content/plugins/simple-social-share/simple-social-share.php on line 74