বর্ষবরণের নামে মুসলমানদের ঈমান হরণ করার চেষ্টা চলছে : জাতীয় ঐতিহ্য পরিষদ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


যে বর্ষ প্রবর্তন করেছিলেন মুসলমানরা, সেই বাংলা বর্ষবরণের নামে মুসলমনাদের ঈমান-আক্বীদা বিরোধী ভিনদেশী হিন্দুত্ববাদি সংস্কৃতির প্রসার ঘটানোর চেষ্টা চলছে। নতুন বছরের প্রথম দিন বাঘ-ভাল্লুক, সাপ, বিচ্ছু, কুমির, পেঁচা, ময়ূর ও বিভিন্ন দেব-দেবীর বড় বড় মূর্তি, ছবি নিয়ে ও মুখোশ পরে মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে যে র‌্যালি বের করা হয়, এখানে কার কাছে নতুন বছরের মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করা হচ্ছে? ইসলামের বিশ্বাস মতে কোন জীবজন্তু, বন্যপ্রাণী ও দেবদেবীর মূর্তির কাছে কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করলে ঈমান থাকবে না।

মুসলমানদের বিশ্বাস মতে ভাল-মন্দ, মঙ্গল-অমঙ্গল সব কিছুই আল্লাহর হুকুমেই সংঘটিত হয়ে থাকে। মুসলমানদের কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করতে হবে একমাত্র আল্লাহর কাছে। সুতরাং মুসলমানদের জন্যে মঙ্গল শোভাযাত্রার সংস্কৃতি চর্চা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

আজ পহেলা বৈশাখ সকাল ১১টায় রাজধানীর একটি হোটেলে ‘মুসলিম বাংলা সন প্রবর্তন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম। আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, নেজামে ইসলাম পার্টির ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা মুসা বিন ইজহার, ছাত্র মজলিসের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট লেখক রুহুল আমিন সাদী, জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব ওয়ালি উল্লাহ আরমান, কলরবের পরিচালক রশিদ আহমদ ফেরদাউস, দৈনিক প্রথম আলোর ধর্মীয় উপদেষ্টা মুফতি শায়খ উসমান গনি, যুব জমিয়তের সভাপতি মুফতি রিজওয়ানুল বারী সিরাজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরের সভাপতি মাওলানা ইনামুল হক মুসা, নারিন্দা জামে মসজিদেও পেশ ইমাম মাওলানা উবায়দুল্লাহ মাসরুর, এ্যাড. শিহাব উদ্দিন শেহাব, নুর বিডি ডটকমের সম্পাদক সৈয়দ শামছুল হুদা, পীর ইয়ামেনী জামে মসজিদের খতীব মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, রেডিও ৭১এর আরজে মামুন চৌধুরী, ডক্টরস ফোরামের সভাপতি ডা. আব্দুল আজিজ, আজীমপুর শাহী জামে মসজিদেও খতীব মুফতি মাহবুবুর রহমান, বিশিষ্ট আবৃত্তিকার ও সংবাদ উপস্থাপক জনাব রায়হানুল কবীর, ক্যারিয়র বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান মুফতি আফজাল হুসাইন, সবার খবর পত্রিকার সম্পাদক আব্দুল গফফার,আহ্বান শিল্পীগোষ্ঠীর পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম, জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা মুহা. হুমায়ুন কবীর, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা শেখ মুহাম্মাদ নুর-উন-নাবী ও ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রী নেতা মুতাসিম বিল্লাহ প্রমূখ।

বক্তারা পহেলা বৈশাখে দেশের সকল সরকারি স্কুল-কলেজে মঙ্গল শোভাযাত্রার ন্যায় ঈমানবিধ্বংসী আগ্রাসী সংস্কৃতির আয়োজনকে শিক্ষা অধিদফতর কর্তৃক বাধ্যতামূলক করার তীব্র নিন্দা জানান। তারা বলেন, মুসলিম ছাত্র/ছাত্রীদেরকে ঈমানবিরোধী রীতি পালনে রাষ্ট্র কখনোই বাধ্য করতে পারে না। এটা নাগরিকদের অধিকার রক্ষার সংবিধানের মৌলিক নীতিমালার ঘোরতর বিরোধী।

বর্ষবরণের উৎসবের নামে নারী-পুরুষ পরস্পরের মুখে উল্কি আঁকা, জীবজন্তুর মুখোশ পরা, নারীরা লালপাড়ের সাদা শাড়ি পরিধান করে কপালে শাখা-সিঁদুর লাগিয়ে সম্মিলিত উলুধ্বনি দেয়াÑ এগুলোর সবই হিন্দু ধর্মীয় রীতি। হিন্দুসম্প্রদায়ের মানুষ এসব পালন করতে পারে। কিন্তু মুসলমানদের জন্যে এসব পালনের কোনই সুযোগ নেই। তাছাড়া পান্তা-ইলিশের নামে যে সংস্কৃতির চর্চা এখন চলে থাকে, তাও আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কোন অংশ নয়। অনুষ্ঠান শেষে গরম ভাত ও গরুর গোশত দিয়ে সকলকে আপ্যায়ন করা হয়।