যারা ফেসবুক চালায় না তাদের ও আছে ফেসবুক প্রোফাইল!

 আপনি ফেসবুক ব্যবহার করেন না বলে কি ফেসবুক আপনার পেছনে লেগে নেই? যদি অনলাইনে যান, তবে আপনার তথ্য ঠিকই সংগ্রহ করে রাখে ফেসবুক। তৈরি করে রাখে ‘ছায়া প্রোফাইল’।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। যাঁরা ফেসবুকের সদস্য নন, তাঁদের কোনো তথ্য কি ফেসবুকের কাছে আছে? জাকারবার্গ ওই প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেননি। কিন্তু বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তার প্রয়োজনে অনেক সময় যাঁরা ফেসবুক ব্যবহার করেন না, তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করে ফেসবুক।

প্রাইভেসি-বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন থেকে তথ্য সংগ্রহের এ পদ্ধতিতে শ্যাডো প্রোফাইল তৈরি করে রাখা যায়।

বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুনানিতে রিপাবলিকান সিনেটর বেন লুজানের প্রশ্নের জবাবে জাকারবার্গ বলেন, নিরাপত্তার প্রয়োজনে ফেসবুকে যাঁরা অ্যাকাউন্ট খোলেননি এমন মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কারণ ফেসবুকের কাছে এ ধরনের প্রোফাইল থাকলে তাঁদের প্ল্যাটফর্ম থেকে অনৈতিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করা বন্ধ হয়। বিজ্ঞাপনের জন্য তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি যেকেউ ইচ্ছা করলে বন্ধ করে দিতে পারে।

কেউ যদি ফেসবুকে লগ-আউট করার পর অন্য কোথাও অনলাইনে কথাবার্তা বলে সেগুলোও কি জানতে পারে ফেসবুক? এ প্রশ্নের জবাবে জাকারবার্গ বলেন, ফেসবুক ব্যবহার-সংক্রান্ত কিছু নির্দিষ্ট বিষয় রয়েছে। যদি লগ-ইন করা না-ও থাকে, তা-ও ফেসবুক ব্যবহারকারীকে অনুসরণ করতে পারে। কেউ ফেসবুক সিস্টেমকে অনৈতিক কাজে লাগাচ্ছে কি না, তা বোঝার জন্য ওই ট্র্যাকিং করার প্রয়োজন পড়ে।

আসল ঘটনা হচ্ছে, ফেসবুক ব্যবহার করুক বা না করুক, মানুষের অনলাইন ব্যবহারের অভ্যাস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে ফেসবুক। বিভিন্ন থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপকে কুকি ও পিক্সেল বসানোর জন্য অর্থ দেয়। এ ছাড়া লাইক, শেয়ার বাটন তো আছেই। এসবের মাধ্যমে ফেসবুকের কাছে উন্নত বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য তথ্য চলে যায়।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানী রুবেন বিনস বলেন, গুগলের পাশাপাশি শীর্ষ তিন তথ্য সংগ্রাহক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফেসবুক আছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বেলজিয়ান আদালত জানান, কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই ইউরোপিয়ান প্রাইভেসি আইন ভঙ্গ করে তথ্য সংগ্রহ করছে ফেসবুক।

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নে জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড্যানিয়েল কান গিলমোর বলেন, ফেসবুকে যোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে অনাকাঙ্ক্ষিত মেইল পাঠিয়েছে ফেসবুক টিম। এর মধ্যে বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনদের মেইল ঠিকানা ও নাম রয়েছে। ওই মেইলে এমন একটি ওয়েব বাগ রয়েছে, যা খুললে ফেসবুকের সার্ভার ঠিকই তাঁকে শনাক্ত করে ফেলবে।

৪৪ জন সিনেটরের সমন্বয়ে গঠিত মার্কিন কংগ্রেসে আইনপ্রণেতাদের বাণিজ্যবিষয়ক ও বিচারক কমিটির যৌথ শুনানিতে হাজির হতে হয় জাকারবার্গকে। সেখানে তথ্য সুরক্ষা, বিজ্ঞাপন, সন্ত্রাস নির্মূল ও নানা ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড ঠেকাতে ফেসবুকের পরিকল্পনা বিষয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় জাকারবার্গকে।