ধর্ষণের দায়ে ‘হিন্দু ধর্মগুরু’র আমৃত্যু কারাদণ্ড

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


স্বঘোষিত হিন্দু ধর্মগুরু আসারাম বাপু

আশ্রমে কিশোরী ধর্ষণের দায়ে স্বঘোষিত হিন্দু ধর্মগুরু আসারাম বাপু (৭৭)কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে ভারতের রাজস্থানের যোধপুরের বিশেষ আদালত। পাঁচ বছরের পুরোনো ধর্ষণের মামলায় আজ (বুধবার) আদালত তাকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা দিয়েছে।

যোধপুর বিশেষ আদালতে আসারামকে আজ সকালে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। নিরাপত্তার কারণে যোধপুর কারাগারেই আদালত বসান বিচারপতি মধুসূদন শর্মা।

আসারামকে দোষী সাব্যস্ত করার সময় আসারাম রাম নাম জপ করেন এবং তিনি বৃদ্ধ হওয়ায় তার প্রতি দয়া করার জন্য বিচারপতির উদ্দেশ্যে আবেদন জানান। বিচারপতি অবশ্য ওই আবেদনে গুরুত্ব দেননি। সাজা ঘোষণার পর আসারাম আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সাজা ঘোষণার পর আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন আসারাম

আসারামের পক্ষে আজ ১৪ জন আইনজীবীর বিশেষ দল আদালতে উপস্থিত ছিল। তার আইনজীবীরা কম সাজা দেয়ার আবেদন জানান। অন্যদিকে, সরকারপক্ষের আইনজীবী আসারামকে কঠোর সাজা দেয়ার দাবি জানান।

এদিকে, আসারাম বাপুকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করার পর তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি পুরানো ভিডিও টুইট করেছে দেশের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস। স্বঘোষিত ধর্মগুরুর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেখিয়ে বিরোধীদল কটাক্ষ করে বলেছে, একটা মানুষকে, সে কোন সঙ্গে রয়েছে, তা দেখেই বিচার করতে হয়, চিনতে হয়।

নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আসারাম বাপু

২০১৩ সালে আসারাম বাপুর বিরুদ্ধে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়ার আশ্রমে থাকত ওই কিশোরী। তার অভিযোগ, ২০১৩ সালের ১৫ আগস্ট রাতে যোধপুরের আশ্রমে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে স্বঘোষিত ধর্মগুরু আশারাম।

২০১৩ সালে আসারামকে গ্রেপ্তার করে রাজস্থান পুলিশ। আদালত সেসময় তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়। বিভিন্ন সময়ে দায়রা আদালত, রাজস্থান হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে মোট ১২ বার জামিনের আবেদন করেছিলেন আসারাম। কিন্তু প্রত্যেকবারই ওই আবেদনই খারিজ হয়ে যায়। সেই থেকে যোধপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন আসারাম। এবার আমৃত্যু কারাগারে থাকতে হবে তাকে। আসারামের এক মুখপাত্র অবশ্য বলেছেন তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন।


উৎস, পার্সটুডে