মুসলিম রাজত্বের এক অনন্য নিদর্শন সৈয়দপুরের চিনি মসজিদ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | সোহেল আহম্মেদ


এক সময় এই বাংলার রাজত্ব্য মুঘল সম্রাটদের হাতে ছিল। সম্রাট আকবর তাদের মধ্যে অন্যতম। সেই সময়ের অনেক নিদর্শন মুসলিম রাজত্বের সাক্ষী হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বাংলার আনাচে-কানাচে।

তেমনি মুসলিম রাজত্বের এক অনন্য নিদর্শন হল নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরের চিনি মসজিদ। সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তরে ইসলামবাগ এলাকায় সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এই চিনি মসজিদ। তৎকালীন সময়ে ভারতবর্ষে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে আগমনকারী অলি-আওলিয়াদের উৎসাহ-অনুপ্রেরনায় বহু মসজিদ স্থাপিত হয় এই উপমহাদেশে। সৈয়দপুর চিনি মসজিদটি সে সময়মই নির্মিত হয়।

প্রায় দেড়শো বছর আগে নির্মিত এ মসজিদটি এখনো অক্ষত অবস্থায় মুসলিম ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক বহন করছে।

চিনি মসজিদ

ধর্মপ্রান মুসুল্লিদের পদচারনায় মুখরিত মসজিদটি বাংলাদেশের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক মসজিদ সমূহের অন্যতম। অপরুপ সুন্দর চিনা মাটির পাথরে খোদাই করা এ মসজিদটির নির্মাণকাজ হাজী বাকের ও হাজী মুকু নামের দুই ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ১৮৬৩ সালে সর্বপ্রথম শুরু করেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর সম্মিলিত ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়। লোকমুখে শুনা যায়, এলাকাবাসী মুষ্টির চাল সংগ্রহ করে এবং কেউ কেউ পুরো এক মাসের উপার্জন দান করে দিয়ে অতি কষ্টে মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করেন।

মসজিদের স্থপতি হিসেবে মোঃ মখতুল ও নবী বক্স নামের দুই ব্যক্তির কথা শোনা যায়।
আরো শোনা যায়, শঙ্কু নামে এক হিন্দু নির্মাণ শ্রমিক দৈনিক ১০ আনা মজুরিতে অত্যন্ত দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে মসজিদের প্রাচীন ভবন নির্মাণ করেছিলেন।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মসজিদের ফ্লোরে মার্বেল পাথর বসানো হয়। তবে শুরুতে ফ্লোর মোজাইক করা ছিল। এখনো বারান্দার খিলানের ৮টি কলামে মোজাইকের চমৎকার ফিনিশিং লক্ষ করা যায়। এ যাবৎ মসজিদের মূল ঘরটি দুই ধাপে এবং বারান্দা তিন ধাপে বর্ধিত করা হয়েছে। বর্ধিত অংশ গুলোকে আদি ভবনের সাথে মাঝামাঝি দুইটি খিলান দিয়ে সংযোক্ত করা হয়েছে। প্রথম বারের বর্ধিত অংশ পাকিস্তান আমলে আর দ্বিতীয় বারের বর্ধিত অংশ সাম্প্রতিক কালে নির্মিত হয়েছে। বর্ধিত অংশগুলোকে মূল মসজিদের সাথে হুবহু মিল রেখে নিপুন ভাবে নির্মাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও একটু খেয়াল করে দেখলেই স্পষ্ট পার্থক্য ধরা পড়ে আদি ও বর্তমান নির্মাণ শৈলিতে।

দ্বিতল বিশিষ্ট মসজিদটির প্রবেশ পথের উপরে আজানের মিম্বর বানানো হয়েছে এবং সেটাতে উঠার জন্য একটি চিকন সিড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।এক সময় ওই মিম্বর থেকেই সুললিত কন্ঠে আজানের ধ্বনি ভেসে আসত কিন্তু বর্তমানে এটি শুধু সৌন্দর্য বর্ধনকারী হিসেবেই ব্যবহার হচ্ছে।
মসজিদের পেছনে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বিদের একটি প্রাচীন কবরস্থান রয়েছে।

এই প্রাচীন ও ঐতিহাসিক চিনি মসজিদ দেখার জন্য প্রতিনিয়ত দূর দুরান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটকরা। ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন অথবা বিমানেও যাওয়া যায় ঐতিহাসিক নিদর্শনের লীলাভূমি এই সৈয়দপুরে। আপনিও দেখে আসতে পারেন যে কোন সুযোগে।