আমার মা-বাবা : স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ নিয়ামত

আমার মা-বাবা : স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ নিয়ামত

সোহেল আহম্মেদ


পৃথিবীর সব মা বাবারই সন্তানের প্রতি রয়েছে অফুরন্ত মায়া মমতা ও ভালবাসা। যে কারনে সন্তানের জন্য সব রকমের দুঃখ কষ্ট সইতে পারেন অনায়াসেই। তারা সন্তানের সুখের কথা চিন্তা করে নিজেেদের সুখ বিসর্জন দেন হাসি মুখে। শত কষ্ট করে হলেও পূরণ করার চেষ্টা করেন সন্তানের চাওয়া পাওয়া। জীবনের সর্বশেষ মুহুর্ত পর্যন্ত সন্তানের জন্য কল্যান কামনা করেন সকল মা-বাবা।

আমার মা-বাবাকে ঘিরে ছোট বেলার অনেক স্মৃতি হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে । হঠাৎ মনে হল কিছু লিখি, তাই লেখতে বসলাম।

আমার মা একজন গৃহীনি। আর বাবা একজন কৃষক, পল্লী চিকিৎসক ও সর্বোপরি একজন মুক্তিযোদ্ধা।
দুজনেই এখনো বেঁচে আছেন। বাবা এখন আর কৃষি কাজ করেন না। একটা ছোট খাটো ফার্মেসী আছে সেখানেই তিনি সময় কাটান। গ্রামেই থাকেন। শহরে বাড়ি ঘর বানানোর মত সচ্ছলতা আসেনি তার জীবনে।

আমার জন্ম মামার বাড়িতে। বিবাহিত ৩ মেয়ে, অবিবাহিত ১ মেয়ে ও নাবালেগ ১ ছেলে রেখে আমার নানা পরলোক গমন করেন। নানা ছিলেন মড়ল। বিস্তর জমিজমার মালিক। তিনি মারা যাওয়ার পর তার সংসারে নানু, আমার মা আর নাবালেগ মামা ছাড়া আর কেউ ছিলনা। বিয়ের পর নানুর আবদারে শ্বশুর বাড়িতেই থেকে যান আমার বাবা।

সেখানে একজন পল্লী চিকিৎসক হিসেবে তিনি যথেষ্ট সুনাম ও মানুষের ভালবাসা অর্জন করেন। ডাক্তারী করে বেশ ভালই চলছিল সংসার। প্রতিদিন সকাল বেলা রুগী দেখতে বেরিয়ে যেতেন আর সারা দিন গ্রামে গ্রামে ঘুরে রুগী দেখতেন ও ঔষধ বিক্রি করতেন। বাড়িতে এসে অর্জিত টাকাগুলো মার হাতে দিয়ে বলতেন, গুনে দেখতো কত আছে ? মা গুনতেন আর মাঝে মাঝে দু একটা বড় নোট বিছানার নিচে গুঁজে রাখতেন। এভাবে মা নাকি এক সময় বেশ টাকার মালিক হয়ে গেছিলেন।

তবে বেশি দিন সুখ সয়নি আমার বাবা মার কপালে।আমি দুনিয়াতে আসার কয়েক বছর পরই বিভিন্ন কারনে নানুর সাথে বাবার মনোমালিন্য শুরু হয়। সম্ভবত আমিই অকল্যানটা সাথে করে নিয়ে এসছিলাম। যাই হোক একদিন নানুর বাড়ি ছেড়ে আমরা চলে এলাম আমাদের বাড়িতে।

আমাদের জায়গা হল আমার দাদার রেখে যাওয়া ৩ রুম বিশিষ্ট একটা পুরাতন টিনের ঘরের এক রুমে। বাকী দুইটির একটিতে চাচাজি আরেকটিতে ছোট কাকা তাদের ফ্যামেলী নিয়ে থাকেন।নতুন করে জীবন যুদ্ধ শুরু হল আমার বাবা মার।

অবশ্য নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক আসবাবপত্র নানুই দিয়ে দিছিলেন আমাদের সাথে। হঠাৎ করে বাড়িতে এসে বাবা কি করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না।পরিশ্রমের কাজ করে অভ্যাস নেই, হাল চাষও করেন নি কোন দিন।আর ডাক্তারী তো আর হঠাৎ করে জমানো যায়না, এলাকায় ডাক্তার হিসেবে পরিচিত হতেও বেশ সময়ের প্রয়োজন। তাছাড়া ব্যবসা শুরু করতে হলে তো টাকারও প্রয়োজন।অবশেষে ভেবে চিন্তে ঠিক করলেন, হাল চাষই করতে হবে,যত কষ্টই হোক।এছাড়া অন্য কোন উপায় নেই।

আমর বয়স তখন ৬ -৭ বছর। বাবাকে দেখতাম গরু না থাকায় কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জমি চাষ করতেন। মইয়ের উপর কলাগাছ তুলে নিজেই টানতেন। কিন্তু বেশিদিন এভাবে হালচাষ করতে পারেননি বাবা।

এক সময় ঢাকা চলে যান এবং একটা প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরি নেন।
কিন্তু কয়েক মাসের মাথায় ফিরে আসেন কংকালসার শরীর নিয়ে। গ্যাসট্রিকের রুগী হওয়ায় মা ছাড়া আর কারো হাতের রান্না খেতে পারতেন না আমার বাবা, এখনো পারেন না। তাই ঢাকায় চাকরী করা আর হলনা বাবার।

তাপর বহু কষ্টে দুইটি গরু কিনলেন।আর পুরাদমে শুরু করলেন হাল চাষ। খুব ভোরে উঠে চলে যেতেন ক্ষেতে লাঙ্গল নিয়ে।সকাল ১০টা বা ১১টায় বাড়ি ফিরতেন। খেয়ে দেয়ে আবার যেতেন আর টানা সন্ধা পর্যন্ত কাজ করতেন।

একরাত্রে হঠাৎ মার ডাকে আমার ঘুম ভাঙল। জেগে দেখি মা বসে আছেন।ব ললাম কি হইছে? মা বললেন, চল তোর বাবাকে দেখে আসি। সেই কখন হাল নিয়ে ক্ষেতে গেছে কিন্তু এখনো তো মসজিদে আজান হয়না। চল তোর বাবাকে দেখে আসি। আমি আর আমার মা বেরিয়ে পড়লাম। ক্ষেতে গিয়ে দেখি গভীর রাতে জনশূন্য মাঠে লাঙল হাতে নির্বিক এক যোদ্ধা জীবন যোদ্ধে জয়ী হওয়ার স্বপ্নে যুদ্ধ করে চলছে। আমাদেরকে দেখে বললেন, তোমরা কেন এসছো ? আর একটু পরেই তো সকাল হয়ে যাবে।

কা ফাটা রোদে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত ক্ষেতে কাজ করতে দেখেছি আমার বাবাকে।এত কষ্টের পরও আদর স্নেহে কোন ভাটা পড়েনি। আমার পড়াশুনা,আমার স্বাস্থ্য, আমার ভবিষ্যৎ ইত্যাদি নিয়ে খুব সিরিয়াস ছিলেন তিনি।সময় পেলেই আমাকে নিয়ে পড়াতে বসতেন।ক্লাস ওয়ান টু বাবার কাছেই পড়েছি। স্কুলে গিয়ে প্রথমেই তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছি।

আমার বাবা শিক্ষিত। মুক্তিযোদ্ধের পরপরই ম্যাট্রিক পাস করেন তিনি। আর মা হলেন স্বশিক্ষিত।একাডেমিক পড়াশুনা খুব একটা না করলেও বিভিন্ন বই পুস্তক অধ্যয়ন করে তিনি একসময় স্বশিক্ষিত হয়ে ওঠেন। অংক ইংরেজী বাদে অন্য বিষয়গুলো তিনিও মাঝে মধ্যে পড়াতেন আমাকে।

ছোট বেলা বাবাকে প্রায়ই লেখা লেখি করতে দেখতাম। তিনি কিছুদিন একটা সাপ্তাহিক পত্রিকায়ও কাজ করেছেন।
কবিতা, গল্প উপন্যাসও লেখতেন। গল্প উপন্যাসের কয়েকটা পান্ডুলিপি পুরনো কাগজের স্তুপে উই পোকার খাদ্যে পরিনত হয়েছে। অর্থাভাবে প্রকাশ পায়নি।
তবে একটা কবিতার বই প্রকাশ হয়েছিল বাবার। সেটাতে মায়ের লেখা কয়েকটা কবিতাও স্থান পেয়েছিল।

১০-১২ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত বাবা আমাকে ব্যায়াম করাতেন। আমাকে কোনদিন কাজ করতে বলেন নি। মাঝে মধ্যে নিজের ইচ্ছায় যেতাম।যেদিন আমি কাজে যেতাম সেদিন বাবা বাড়িতে এসে আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে মাকে বলতেন,তোমার ছেলে তো ভাল কাজ করতে পারে। তোমার ছেলে আজ কাজে না গেলে তো কাজটা সময় মত শেষই হতোনা। ছেলেটা যাওয়াতে কাজটা কত তারাতারি শেষ হয়ে গেল।

আমার মা সারাদিন বসার সুযোগ পেতেন না। আমরা তিনও ভাই বোন তখন ছোট। আমি আঁচলে ধরে রাখতাম, মেজো বোনটাকে হাতে আর ছোটটাকে কোলে নিয়ে চলতে হতো আমার মাকে। তিন ভাই বোনকে গোসল করানো,খাওয়ানো,কাপড় চোপড় ধৌত করা,ঘর দোর পরিষ্কার করা,উঠান ঝাড়ু দেওয়া, কয়েকদিন পর পর ঢেঁকিতে ধান ভানা, ধান বন শুকানো, কাঁথা সেলাই করা,পাশের বাড়ির কল থেকে নিয়মিত খাবার পানি আনা, তারপর আবার রান্না বান্না ইত্যাদি কাজকর্ম করতে করতে প্রায় দিনই সন্ধায় অথবা রাত্রে গোসল করতে হতো মাকে।

এত পরিশ্রমের পরেও খাওয়ার সময় ভাল খাবারটা আমাদের খাইয়ে বাঁসি পঁচাটাই নিজের জন্য বেছে নিতেন তিনি। বাবা সিরিয়াস গ্যাসট্রিকের রুগী। তাই সারা জীবন বাবার জন্য ঝাল ছাড়া আলাদা একটা তরকারি রান্না করতে হয়েছে আমার মাকে। কোনদিন বিরক্তি তো দেখিই নি হঠাৎ যদি কোনদিন বাবা বলে ফেলেছেন কি পাক করলা খাওয়া যায়না ? সেদিন মা’র পেটে আর ভাত যায়নি। আবার নতুন তরকারী পাকিয়ে খাওয়ানোর জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে যেতেন। যতক্ষন বাবা তৃপ্তি সহকারে খাইতে না পারছেন ততক্ষনই মা ছটফট করতেন।

আমার মাকে কোনদিন শুনিনি বাবাকে কো ব্যাপারে ফরমায়েশ দিতে। বাবাকে কোনদিন এক গ্লাস পানিও নিজে ভরে পান করতে হয়নি। আমার সামনে কোনদিন আমার মা বাবা ঝগড়া করেন নি। উনাদের মধ্যে কোন ব্যাপারে মনোমালিন্য হলেও আমাকে কখনো বুঝতে দিতেন না।

আমার মা সব সময় বাবার মেজাজ বুঝেই চলেন,যে কারনে ঝগড়া ঝাটি খুব একটা হয়না উনাদের মধ্যে। বাবা যখন কাজ থেকে ফিরতেন, মা হাত মুখ ধোয়ার পানি,তোয়ালে, তেল ইত্যাদি রেডি রাখতেন। বাবা খেতে বসার আগেই মা আমাকে বলতেন,যাও বাবা তোমার বোনদের নিয়ে একটু ঘুরে আস।তোমার বাবা কাজ করে আসছেন,এখন ভাত খাবেন।তোমরা এখানে দুষ্টামী করলে উনার খাওয়া দাওয়া করতে অসুবিধা হবে। আমিও দুই বোনকে নিয়ে বাড়ির বাইরে বেড়াতে চলে যেতাম।

আমার বাবাকে আমি কখনো কাঁদতে দখিনি। যে কোন পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলে নেওয়ার মত অসম্ভব যোগ্যতা রয়েছে উনার। দাদু মারা যাওয়ার পরও যখন বাবাকে কাঁদতে দেখিনি তখন মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, মা সবাই কাঁদছে কিন্তু বাবাকে তো কাঁদতে দেখিনি। মা বলেছিলেন, তোমার বাবা খুব শক্ত মানুষ তাই সহজে কান্না আসেনা।

তবে একদিন খুব কাঁদতে দেখেছি বাবাকে।
তখন আমার বয়স ২০ এর উপরে।ঢাকা থাকি একটা কোম্পানীতে কাজ করি। হঠাৎ একদিন এক্সিডেন্টে আমার বাম পায়ের রগ কেটে যায়। অপারেশনের পর ডাক্তার পুরো পা টাই ব্যান্ডেজ করে দিয়েছিল যদিও ইনজুরি ছিল শুধু গোড়ালীর কাছে। আমার বাবা খবর পেয়ে ছুটে যান ঢাকায়। রুমে ঢুকে আমার পুরো পায়ে ব্যান্ডেজ দেখেই কান্না।আহ্, জীবনের প্রথম দেখলাম বাবাকে এভাবে কাঁদতে। বাবা ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন সাথে আমিও।এভাবে প্রায় মিনিট পাঁচেক চলে যায়। তারপর আস্তে আস্তে শান্ত হয় পরিবেশ। আহ্! কলিজাটা ছিঁড়ে যেতে চায় ঐ দৃশ্যটা মনে হলে।

সে সময় টানা দশ দিন বাবা আমার পেশাব পায়খানা সাফ করেছেন কেননা তখন আমার বিছানায় সুজা হয়ে শুয়ে থাকতে হত, কোনরকম নড়াচড়া করা একদমই নিষেধ ছিল। যে বাবা কোনদিন নিজে পায়খানা করার পর টয়লেটে পানি দেননি, সবসময় মা ই করতেন সে কাজটি। সেই বাবাই ১০ দিন পর্যন্ত নিজের হাতে সন্তানের প্রস্রাব পায়খানা সাফ করেছেন। আহ্! সন্তানের প্রতি ভালবাসা আর কাকে বলে ?

মায়ের স্নেহের কথা আর কি বলব ? তখনো আমার ছোট ভাইটির জন্ম হয়নি বলে আমি ছিলাম মা বাবার একমাত্র পুত্র সন্তান। মা আমাকে সব সময় চোখে চোখে রাখতেন। কোথায় যাচ্ছি, কার সাথে মিশছি, কার সাথে খেলা করছি, ঠিক মত স্কুলে যাচ্ছি কিনা এই সব কিছুর প্রতি তিনি সবসময়
তিক্ষ্ম দৃষ্টি রাখতেন।

আর একটু জ্বর হলেই মান্নত করা শুরুকরতেন। ফকির আসলেই মুরগীর বাচ্চা সদকা দিতেন।আর বলতেন জানের বদলি জান সদকা দিলাম। ফকিরকে বলতেন, চাচা আমার ছেলের জন্য দুআ করবেন। যেন আল্লাহ্ তাকে সমস্ত বালা মুসিবত থেকে হেফাজত করেন।

একবার টাইফয়েড জ্বরে আমার অবস্থা মরনাপন্ন হয়ে গেল। সাখরাতুল মউত মনে করে মানুষ আমার শিওরে বসে কালিমা পড়া শুরু করল। আর আমি স্বপ্নে দেখছিলাম দুইজন লোক আমাকে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ ছেড়ে দিল আর আমারর হুশ ফিরলে দেখলাম মা উঠানে আঁচল বিছিয়ে সেজদায় পড়ে আছেন।
আর জোরে জোরে বলছেন ইয়া আল্লাহ্, আমার পুত্রের জীবন ভিক্ষা দেন। হয়ত আল্লাহ্ তাআলা ঐ দিন মায়ের ফরিয়াদ কবুল করে আমার হায়াত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বলেই আজো বেঁচে আছি।

বর্তমানে আমার মা বাবাকে আল্লাহ্ তাআলা ভালই রেখেছেন।আর্থিক অনটনও তেমন নেই। বাবা প্রতি মাসে সরকারী ভাতা পাচ্ছেন যেহেতু তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। আর মাকেও আগের মত এত পরিশ্রম করতে হয়না।সংসার ছোট হয়ে গেছে।বাবা মা আর আমার মেয়ে সুমাইয়া। ছোট দুবোন রেবেকা ও মনিকার বিয়ে হয়ে গেছে।স্বামী- সংসার নিয়ে ভালই কাটছে তাদের দিন।ছোট ভাই সোহাগকে পড়াশুনার জন্য বাড়ির বাইরেই থাকতে হয় অধিকাংশ সময়। মা আমার সাথে মাস্তুরাত জামাতে সময় লাগানোর পর থেকে শরয়ী পর্দা করছেন। আর বাবা দাড়ি রাখলেও এখনো পাক্কা নামাজি হতে পারেন নি।

বাবা মার কঠোর পরিশ্রম আর মামার বাড়ির সাহায্যে আমাদের এখন নতুন বাড়ি হয়েছে। রাস্তার পাশে টিনের বেড়া দিয়েবেষ্টিত বাড়িটি খুব সুন্দর । মা সব সময় বাউন্ডারীর ভিতরেই থাকেন, বের হতে হয়না।বাড়ির ভিতরেই আছে সব কিছুর ব্যবস্থা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে আমাদের সংসারের এই সামান্য উন্নতির পিছনে আমার কিন্তু অবদান নেই কানা কড়িও, যদিও আমি বাবা মার বড় ছেলে।

এখন আমার মা বাবার কষ্ট একটাই। আর সেটা হচ্ছে স্ত্রী সন্তান নিয়ে আমার বাড়ির বাইরে থাকার বিষয়টি। আমাকেও এক প্রকার অপারগ হয়েই চাকরির কারনে বাড়ির বাইরে থাকতে হচ্ছে। আর একটা কমন সমস্যা তো আছেই, আজকাল মেয়েরা শ্বশুর বাড়িতে স্বামী ছাড়া আর কাউকেই আপন করে নিতে পারেনা। যে কারনে আগেকার দিনের মত পুত্রবধু আর শ্বশুর শ্বাশুরির মধ্যে মধুর সম্পর্ক হাজারে দুই একটা পরিবারেও পরিলক্ষিত হয়না।

বর্তমানে আমি ৩ সন্তানের বাবা। কিন্তু আমার মা বাবা ঠিক আগের মতই ভালবাসেন আমাকে।এখনো আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে টেনশন করেন। আমার বাচ্চাদেরকে কলিজা চিরে আদর করেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে আমাদের ৩ বাচ্চা হয়ে যাওয়ায় ৫ বছর বয়সের বড় মেয়েটা মার কাছেই থাকে অধিকাংশ সময়।দাদা দাদুর মাত্রাতিরিক্ত আদর পেয়ে আমাদেরকে অনায়াসেই ভুলে থাকতে পারে সে।

অনেক কথাই অনুল্লেখিত রয়ে গেছে এই লেখায়। বিস্তারিত লেখলে পুস্তকের আকার ধারন করবে, তাই এখানেই ইতি টানছি।

যত বারই লেখাটা রিভাইজ করছি ততবারই দুচোখ ভিজে যাচ্ছে অশ্রুতে। ইয়া আল্লাহ্, আমার মা বাবাকে হায়াতে তায়্যিবাহ্ নসীব করুন, তাদের উপর খাস রহমত বর্ষন করুন। আমীন