ধন্যবাদ! আবুল বারকাত!

কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক

আবুল বারকাতগত শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ : কোন পথে আমরা?’ শীষর্ক আলোচনা সভায় বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে ড. আবুল বারকাত বলেন, “কওমি মাদরাসার একটা বড় অংশ জঙ্গি ও মৌলবাদী হিসেবে তৈরি হয়। যারা তৈরি হয় তারাও গরিব লোকের সন্তান।”

ঠিক আছে! বারকাত সাহেব! আপনার নামের প্রথমাংশ আমার নামের সাথে মিল আছে। মিল-অমিল থাক বা না থাক, আপনার কথার বরকতে আমরা যারপরনাই মুগ্ধ। তবে আমাদেরকে আরো কিছু প্রশ্নের জবাব দিতে পারলে আরো বেশি মুগ্ধ হতাম।
. বলুন তো- কওমি মাদরাসার একটা বড় অংশ জঙ্গি ও মৌলবাদী হিসেবে তৈরি হলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কেন কওমি মাদরাসায় পড়লেন? শেখ মুজিবুর রহমান তো তাঁরই শিষ্য। নাকি?
. কওমী মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন মাওলানা তর্কবাগীশ। তিনিও কি গরিব লোকের সন্তান? আমরা তো শুনেছি তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের অন্যতম ফাউন্ডার। ১৯৫৫ সালে ছিলেন দলটির সভাপতি।
. আচ্ছা, জঙ্গি ও মৌলবাদী হিসেবে তৈরি সত্ত্বেও মাওলানা ভাসানী কেন কওমি মাদরাসায় পড়তে আসেন? যিনি স্বাধীনতার পক্ষে প্রথমেই ঘোষণা করেন ” আসসালাম…”
. আপনি আরো অবাক হবেন জেনে যে, কওমীতে লেখাপড়া করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।যাকে ছাড়া এই জাতিসত্তা অপূর্ণ থেকে যায়।
. শুধু তাই নয়; কওমী মাদরাসার ছাত্র ছিলেন রামমোহন রায়। যার ভাবশিষ্য ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর!
. আপনি বক্তব্যের অন্য অংশে বলেছেন- ‘আমি জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে অর্থমন্ত্রীর কাছে পত্র দিয়ে ছিলাম যে, আমরা রাষ্ট্রীয় ব্যাংক মিলে ৪০ কোটি টাকা দেবো। তিনি শুধু টেলিফোনে আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’ জানেন! এই অর্থমন্ত্রীর বাবা কে? তিনি হলেন এডভোকেট আবদুল হাফিজ। তিনি ছিলেন কওমি মাদরাসার একজন সক্রিয় সহযোগী। যিনি না থাকলে আবুল মাল আবদুল মুহিত মানুষের দুনিয়ায় জন্ম নিতে পারতেন না। আপনাকেও তিনি আর ধন্যবাদ দিতেন না।
তবে, আমরা আপনাকে ধন্যবাদ দিতে কার্পণ্য করতাম না। কারণ, হিংসা-নিন্দা ইসলামের শিক্ষা নয়।