ইসলামে একজন নারীর একাধিক স্বামী থাকা নিষেধ কেন?

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ইসলাম ডেস্ক


অসংখ্য মানুষ যার মধ্যে অনেক মুসলমানও রয়েছে, প্রশ্ন করেন-মুসলিম পুরুষরা একাধিক স্ত্রী রাখার অনুমতি পাচ্ছে অথচ নারিদেরর ক্ষেত্রে সে অধিকার অস্বীকার করা হচ্ছে, এর যৌক্তিকতা কি?

এ সম্বন্ধে সীরাতে মুস্তফা গ্রন্থে তৃতীয় খন্ডের টিকায় সুন্দর আলোচনা করা হয়েছে। নিম্নে সে আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো।

১.  এক মহিলার একই সময়ে একাধিক স্বামী থাকলে তাদের প্রত্যেকের সমভাবে মিলনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। ফলে একই সময়ে একাধিক জনের মিলনের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হতে পারে এবং তারা একই সময়ে উক্ত মহিলাকে একান্তভাবে চাইতে পারে। সে ক্ষেত্রে নানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি উদয় হতে পারে, এমনকি পরিস্থিতি অবনতি হয় খুনাখুনি পর্যন্ত তা গড়াতে পারে।

২.  নারী হচ্ছে পরিচালিত এবং পুরুষ (স্বামী) হচ্ছে তার পরিচালক। এখন কোন নারীর একাধিক স্বামী থাকার অর্থ হলো তার পরিচালক একাধিক আর পরিচালক একাধিক হওয়ার অর্থ হচ্ছে, পরিচালিত ব্যক্তিটির অধিক থেকে অধিক লাঞ্ছিত হওয়া। পরিচালক একজন হলে এবং পরিচালিত ব্যক্তি বহু হলে কোন সমস্যা হয় না, যেমন-একজন পরিচালকের অধীনে শত-হাজার জন পরিচালিত ব্যক্তি থাকতে পারে এবং থাকছে, কোথায় ও কোন সমস্যা হচ্ছে না। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের পরিচালনায় কত হাজার জন পরিচালিত হচ্ছে, কোন সমস্যা হচ্ছে না।
কিন্তু যদি পরিচালিত ব্যক্তি একজন এবং তার পরিচালনায় রত থাকে কয়েকজন তাহলে যত অধিক পরিচালক থাকবে পরিচালিত ব্যক্তি তত বেশি লাঞ্ছিত হবে তেমনি ভাবেই একজন মহিলা একই সময়ে একাধিক স্বামী গ্রহণ করলে তার অতীব লাঞ্ছনা, অবমাননা ও কষ্টের শিকার হতে হবে। একই সঙ্গে সকালে খেদমত করা তার পক্ষে অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে যাবে এবং তা প্রায়ই অসম্ভব পর্যায়ে চলে যাবে। তাই ইসলাম একজন নারীর জন্য একই সঙ্গে একাধিক স্বামী রাখতে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন। তদুপরি কোন মহিলার যদি একই সঙ্গে একাধিক স্বামী থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই তারা একত্রে বাস না করে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বাস করবে এ অবস্থায় তাদের স্ত্রী তাদের কিভাবে খাদ্য করবে একই সঙ্গে সকল স্বামীর খোঁজ খবর নেওয়া তাদের প্রয়োজনীয় সেবা যত্ন করা ইত্যাদি-মহিলা কি করে এই কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করবে?

৩.  যদি একজন মহিলার একই সময়ে একাধিক স্বামী থাকে, তাহলে মহিলার যে সন্তানাদি হবে তাদের পরিচয় কি হবে?
সন্তানরা কার সন্তান বলে অভিহিত হবে? সকল স্বামী কি যৌথ পিতৃত্ব লাভ করবে, না একজনকেই এক সন্তানের পিতা বলে আখ্যায়িত করা হবে? যদি একজনকে পিতা বলা হয় তাহলে তার নির্ধারণ টা কিভাবে হবে? যদি স্ত্রীর একটি সন্তানই ভূমিষ্ঠ হয়, বিবাহের পর থেকে এ পর্যন্ত আর কোন সন্তান ভূমিষ্ট না হয়, তাহলে স্বামী চারজন থাকলে এক সন্তানকে চারজনের মাঝে কিভাবেই বা বন্টন করা হবে? আর যদি সন্তান একাধিক হয় তাহলেই বা তাদেরকে কোন নিয়মের ভিত্তিতে স্বামীদের মাঝে বন্টন করে দেয়া হবে? সন্তানদের মাঝে ছেলে-মেয়ে হওয়ার পার্থক্য আকার-আকৃতিতে পার্থক্য, স্বভাব-চরিত্রে পার্থক্য, শক্তি ও সাহসে পার্থক্য এবং বোধবুদ্ধি ও বিচক্ষণতায় পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। এতসব পার্থক্য থাকার দরুন সকল সন্তান এক
পর্যায়ভুক্ত বলে কখনোই গণ্য হবে না, নতুবা এক স্বামী যে কোনো এক সন্তানকে তার বলে গ্রহণ করে নিত। কিন্তু তা তো হবেই না। বরং এত নানামুখী পার্থক্যের দরুন তাদের মাঝে সন্তান বন্টন জটিল ও কঠিন সমস্যা রূপে আবির্ভূত হবে,
মারামারি-কাটাকাটি এবং আরও কত ফেতনা-ফাসাদ যে সৃষ্টি হবে তার কোন ইয়াত্তা নেই।

উপরোল্লেখিত কারণগুলো এমন যা যে কারো পক্ষে চেনা এবং বুঝে নেয়া সম্ভব। এছাড়া হয়তো আরো অসংখ্য কারণ থাকতে পারে যে কারণে অন্তহীন জ্ঞানের আধার সৃষ্টিকর্তা বিধাতা প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা নারীদের জন্য বহু স্বামী বরণ নিষিদ্ধ করেছেন।