হাজারো ভাইয়ের ত্যাগ ও শহীদের রক্ত নিয়ে উপহাস করবেন না

মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন  রাজী | সাংগঠনিক সম্পাদক: ইসলামী ঐক্যজোট


ইতিহাসে মুসলমানদের যত যুদ্ধ, সংগ্রাম, আন্দোলন হয়েছে পরবর্তীতে তা নিয়ে চুলচেরা বিচার বিশ্লেষণ হয়েছে। বিজয় হলে বিজয়ের কারণ, কারো কারো অবদান, বীরত্ব ও কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরাজিত হলেও পরাজয়ের কারণ চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে এ থেকে ইবরত হাসিল করার চেষ্টা করা হয়েছে। কাউকে বীরের খেতাব দেয়া হয়েছে, কারো ভাগ্যে জুটেছে মীর জাফরের লাঞ্ছনা। ঠিক সেভাবে শাপলার আন্দোলন, কর্মপন্থা-কর্মপদ্ধতি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হতে পারে। এবং ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে সামনে আরো সুন্দর ও সার্থক কর্মসূচি পালনে শিক্ষা গ্রহণ করা যেতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, মূল আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে। হাজারো নিবেদিত প্রাণের ত্যাগ ও কুরবানীকে তুচ্ছ করে দু’য়েক জনের কর্মকাণ্ড বিবেচনায় এনে পুরো আন্দোলনকেই কারো প্ররোচনার ফসল হিসেবে আখ্যা দেয়া হবে।

মনে রাখতে হবে, হেফাজতের যতগুলো কর্মসূচি পালিত হয়েছে সবগুলোই হেফাজতের নেতৃবৃন্দ বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সর্বশেষ অবরোধ শেষে মতিঝিলে অবস্থানের বিষয়টিও হেফাজতের সর্বোচ্চ নেতৃবৃন্দের পরামর্শ সাপেক্ষে গৃহীত সিদ্ধান্ত ছিল। এছাড়া কারো এককভাবে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও ছিল না।

হ্যাঁ, আমাদের দ্বারা ভুল হতেই পারে। আমরা কেউ হয়তো দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছি কিংবা ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারে সচেষ্ট ছিলাম বা কেউ হয়তো লোক দেখানোর জন্য নানা কাজে কথায় বাড়াবাড়ি করেছি। কিন্তু মূল আন্দোলনটি অবশ্যই সর্বসম্মতক্রমে হয়েছে এবং যারা ত্যাগ এবং কোরবানি দিয়েছেন তারাও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই দিয়েছেন। যারা শহীদ হয়েছেন তারা আগে থেকেই শাহাদাতের তামান্না নিয়ে ময়দানে এসেছিলেন। আল্লাহ্‌ পাক তাদেরকে কবুল করেছেন এবং তাদের পরিবারকেও ধৈর্য ধরার তৌফিক দিয়েছেন, যা তাদের নানা সাক্ষাৎকার ও বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বুঝে আসে।

এখন যদি আমরা এ আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করি, তাহলে হাজারো ভাইয়ের ত্যাগ ও শহীদের রক্ত নিয়ে উপহাস করা হবে। আর যারা এমনটি করে তারা কখনোই হেফাজতের পক্ষে ছিল না। তাদের দ্বারা বরাবরই শাহবাগীরা লাভবান হয়েছে।
কতিপয় মিডিয়া বরাবরের মতই হেফাজত ও হেফাজতের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অনাস্থা সৃষ্টির লক্ষ্যে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের কোনভাবেই বিভ্রান্ত হওয়া চলবে না। আল্লাহ্‌ তায়ালার হাতে ইনসাফের দায়িত্ব অর্পণ করে যতক্ষণ সম্ভব ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম -এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখকের মতামতের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না ইনসাফ কর্তৃপক্ষ।