প্রধান বিচারপতির কোনো আদেশ মানব না: বিচারপতি শামসুদ্দিন

বিচারপতি শামসুদ্দিনঅনিষ্পন্ন রায়ের সব মামলার ফাইল জমা দিতে প্রধান বিচারপতির নির্দেশ মানবেন না বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

সোমবার বিকাল ৩টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের বাইরে মাজার গেটের পাশে রাস্তার ওপর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।

এ সময় অবিলম্বে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করেন সম্প্রতি অবসরে যাওয়া বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা বিচারাঙ্গনকে বিতর্কিত করে চলেছেন। রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে খালেদা জিয়ার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।

শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি তার কোনো আদেশ মানি না, মানব না। এটি অবৈধ আদেশ। সংসদেও তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আজকে আমি আমার লিখিত কয়েকটি রায় ও আদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. ঈমান আলীর কাছে জমা দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘রোববার সন্ধ্যায় আমার লিখিত রায় ও আদেশগুলো নিতে রাজি হন আপিল বিভাগের অপর বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। আমি অবসরে যাওয়ার পর আমার রুমে প্রধান বিচারপতি তালা দিয়েছেন এবং আমার সব কর্মচারী, কাগজপত্র, কম্পিউটার নিয়ে গেছেন। এ কারণে আমি রায় লিখতে পারছি না। হাতে-কলমে রায়গুলো লিখে যাচ্ছি।’

গত বছরের অক্টোবরে অবসরে যান আপিল বিভাগের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। অবসরে যাওয়ার পর তার কাছে ১৯৬টি মামলার আদেশ ও রায় লেখার কাজ বাকি ছিল। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের রোজিস্ট্রার দফতর থেকে তাকে দ্রুত রায় লেখা এবং রায়ের নথি ফেরত দেয়ার জন্য কয়েক দফা চিঠি দেয়া হয়। জবাবে পাল্টা চিঠি দেন তিনি। এরপর ১৯ জানুয়ারি এক বাণীতে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের রায় লেখা অসাংবিধানিক আখ্যা দেন।