ফিলিস্তিন ইস্যুতে জালিমদের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে: এরদোগান

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | বেলায়েত হুসাইন


তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে  মঙ্গলবার তার দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন।

সোমবার ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনে এক বক্তৃতানুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট বলেন, ফিলিস্তিনিরা আমাদের ভাই-এজন্য তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে আগামীকাল থেকে (আজ থেকে) তুরস্কে তিন দিনের জন্য জাতীয় শোক ঘোষণা করা করা হলো।

এসময় এরদোগান অত্যন্ত জোর দিয়ে এদিকে ইংগিত করেন যে, আগামী শুক্রবার তুরস্কের প্রাচীনতম শহর ইস্তাম্বুলে ফিলিস্তিনিদের পক্ষ হয়ে জালিমদের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা পবিত্র রমজানে বিভিন্ন দাতব্য দেশসমূহ থেকে ফিলিস্তিনিদের জন্য সাহায্য সংগ্রহের প্রচারণা চালাবে।

এরদোগান বলেন, ইসরাইল সন্ত্রাসবাদের অনুশীলন করছে, এটি একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। তাদের কর্মকান্ডকে গণহত্যা ছাড়া আর কিছু বলা যায়না। বর্তমান সময়কে মানবতার সংকটময় মুহূর্ত অবহিত করে তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, এই গণহত্যা যাদের দ্বারাই সংগঠিত হবে আমি তাদের প্রতি তীব্র নিন্দা জানাই-চাই যুক্তরাষ্ট্র হোক কিংবা ইসরাইল!

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, তিনি এই রাষ্ট্রীয় গণহত্যা বন্ধে বিশ্বের নেতৃস্থানীয় লোকদের সাথে শীঘ্রই আলোচনায় বসবেন-বিশেষভাবে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তিনিও গোতারেসের কথা উল্লেখ করেন।
এবং মুসলিমবিশ্বের নেতৃবৃন্দ ও বুদ্ধিজীবীদেরকে ফিলিস্তিনিদের উপর এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে জোরালো কন্ঠে প্রতিবাদ জানানোর জন্য আহবান জানান।

কাতার ভিত্তিক অনলাইন সংবাদ-মাধ্যম আল জাজিরা মুবাশির জানায়, ইতিমধ্যে রেডক্রিসেন্ট নামক তুরকি সাহায্য-সংস্থাটি গাজার হাসপাতালগুলোতে একলক্ষ মার্কিন ডলারের জরুরি ত্রাণসামগ্রী প্রেরণ করেছে এবং আহতদের উদ্ধারের জন্য তুরস্ক সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ইসরাইলে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে হস্তান্তরের দিনটির ব্যাপারে এরদোগান বলেন, আজকের দিনটি আমাদের নিকট খুশির দিন নয়, আমাদের মর্মাহত হবার দিন। তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইদের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে দিয়েরবাকির রাজ্যে বিশাল গণসমাবেশ করবো।


জেরুসালেম হারানো মানে কাবা শরিফ হারানো : এরদোগান
ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, অন্যদের সুবিধার জন্য মুসলিম বিশ্বের মানচিত্র বদলের ষড়যন্ত্র চলছে।

গতকাল ইস্তাম্বুলের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সপ্তম হাদিস ও সিরাত অধ্যয়ন পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, এক শ’ বছর আগের মতো আবারো চ্যালেঞ্জের মুখে মুসলিম বিশ্ব। রক্তপাত, চোখের পানি আর ভাইয়ে ভাইয়ে বিভেদের মাধ্যমে আমাদের ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। বক্তৃতায় তিনি মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিচালিত হামলা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানান।

এরদোগান বলেন, মুসলিমদের মধ্যে যখন মতভেদ থাকে, তখন এর সুযোগ নেয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো এবং ইসরাইলের মতো দেশগুলো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস কাজে লাগায়।

অনুষ্ঠানে তুর্কি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জেরুসালেম ঘোষণার আবারো নিন্দা জানান। ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার পর এরদোগানের উদ্যোগে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা ওআইসির জরুরি সম্মেলন ডেকে এ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করা হয়।

এরদোগান বলেন, ওআইসির এই পদক্ষেপ বহুমুখী প্রভাব ফেলবে এবং তা অন্য দেশগুলোকে এ বিষয়ে ওআইসির নেতৃত্বকে অনুসরণ করতে উৎসাহ জোগাবে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, জেরুসালেম হারানো মানে কাবা শরিফ ও অন্যান্য ইসলামি রাজধানী হারানো। আর জেরুসালেমকে রাজধানী স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে বোমা নিক্ষেপ করেছেন।

তিনি বলেন, কুদস হাতছাড়া হলে আমরা মদিনা মুনাওয়ারাও রক্ষা করতে পারব না, মদিনা হারালে আমরা মক্কাকেও রক্ষা করতে পারব না। আর মক্কার পতন হলে আমাদের কাবা শরিফকেও হারাতে হবে। তিনি আরো বলেন, জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও সব মুসলমানের ওপর এক নতুন হামলা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত মোকাবেলায় আরো নানা পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে তুরস্ক।

এরদোগান বলেন, জেরুসালেম বিশ্বের সব মুসলমানের সম্মানের জায়গা। আল্লাহর আদেশ ও পূর্বসূরিদের আমানত হিসেবে জেরুসালেম রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব কিছুই আমরা করব। তিনি বলেন, তুরস্ক জাতিসঙ্ঘের কাছে মার্কিন সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি করবে। এই হঠকারী ও অবৈধ সিদ্ধান্ত প্রতিরোধে আমরা প্রথমে নিরাপত্তা পরিষদে যাবো। যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দিলে তারপর যাবো জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে। শুক্রবার কনোয়া রাজ্যের সেন্ট্রাল আনাতোলিয়া শহরে এক টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে জনতার উদ্দেশে এরদোগান এ কথা বলেন।