ইসলামের পক্ষে মিডিয়া তৈরী না করলে জাতি আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে: আল্লামা কাসেমী (ভিডিও)

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


গত ১৪ মে রাজধানীর ফকিরাপুলে হোটেল রাহমানিয়া ইন্টারন্যাশনালের কনফারেন্স রুমে দেশের প্রথম ইসলামী ঘরানার অনলাইন পত্রিকা ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন দেশের সিনিয়র আলেম-উলামা, রাজনীতিবিদ, শিল্পী-সাহিত্যিক, কবি-সাংবাদিকসহ বিভিন্ন বিভিন্ন মত ও পথের নেতৃত্বদানকারী বরেণ্য ব্যাক্তিরা।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, ‘ইনসাফ গত চার বছরে কতটা সফলতা ও মানুষের মন জয় করতে পেরেছে তা আজকরে এই কনফারেন্স রুমের দিকে থাকালেই প্রমাণ হয়। বিশ্বাস অর্জন করা অনেক কষ্টের, বিশ্বাস নষ্ট করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইনসাফ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে সর্তক থাকা আবশ্যক। যাতে তাদের অর্জিত বিশ্বাস তাদের কোন কাজে নষ্ট না হয়।’

আল্লামা কাসেমী বলেন, মৌলিকভাবে কোন জাতির জাতিসত্ত্বা নির্ভর করে তার চিন্তা চেতনা মন মানসিকতার উপর। যদি চিন্তা-চেতনা, মন-মানসিকতা সচ্ছ থাকে, স্বাধীন হয়, তাহলে সে জাতির জাতিসত্বা ঠিকে থাকবে। আর যে জাতি তার চিন্তা চেতনা মন মানসিকতার দিক থেকে সচ্ছ না, পরাধীন হয়, সে জাতির জাতিসত্বা টিকে থাকতে পারে না। সে জাতি মৌলিকভাবে মূর্দা (মৃত) জাতি। কোন জাতি যদি জিন্দা থাকতে চায়, তাহলে তার চিন্তা চেতনা সচ্ছ থাকতে হবে।
আর মানুষের মধ্যে চিন্তা চেতনাটা আসে সুস্থ সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম চর্চার মাধ্যমে। তার আগে ভাষার দখল থাকতে হবে। যার ভাষার ক্ষেত্রে যত বেশী দখল আছে তার ততো মর্যাদাও আছে এবং বিভিন্ন স্থানে কাজও করতে পারে, আর যাদের ভাষার ক্ষেত্রে  দখল নাই তারা সকল জায়গায় কাজ করতে পারেনা।

এবং ভাষা প্রকাশের মাধ্যমও থাকতে হবে। আমাদের দেশে সাধারণত দুটি মিডিয়া ব্যবহার হয়ে থাকে। ১ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া। ২ অনলাইন মিডিয়া। এই দুটি মিডিয়ার মাধ্যমে গোটা দুনিয়ার মানুষের মন-মানসিকতা, চিন্তা-চেতনার বিস্তার ঘটানো হচ্ছে। যত মিডিয়া আছে তার মধ্যে প্রায় সবই ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থানরত, সামান্যতম কিছু মিডিয়া ইসলামের পক্ষে কাজ করছে তার মধ্যে ইনসাফও আছে।

তিনি আরো বলেন, আজ আমাদের দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন।  আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ভারতীয় বিজাতী সংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না। পাশ্চাত্য অপসংস্কৃতি তো আগে থেকেই গ্রাস করে আছে। এসব আগ্রাসন থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হলে আমাদেরকে মিডিয়ায় আরো এগিয়ে আসতে হবে। ইসলামের পক্ষে মিডিয়া তৈরী না করলে জাতি আগামীতে আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দেশের প্রবীণ এই আলেম রাজনীতিবিদ বলেন, আমরা সংঘবদ্ধভাবে কাজ করলে একদিন ইনশা আল্লাহ মিডিয়া আমাদের হস্তগত হবে। ইনসাফের মাধ্যমে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। এসব কাজ যদি চালু থাকে আশাকরি এদেশের আলেম উলামাগণ মিডিয়ায় কাজ করতে সাহায্য সহযোগীতা করতে এগিয়ে আসবেন।

তিনি বলেন, আজ সারা বিশ্বে অশান্তির একমাত্র কারণ হলো কোথাও ইনসাফ বিদ্যমান নাই, যদি এই বিশ্বে সত্যিকারের শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হয় তাহলে ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

জমিয়তের মহাসচিব বলেন,  ইনসাফের দৃষ্টিভঙ্গি চাই ইনসাফ। সত্যকে সত্য বলবে আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলবে। সে মুসিলম হোক আর অমুসলিম, সে বিএনপি হোক আর আওয়ামী লীগ হোক, সে জমিয়ত হোক আর খেলাফত যেই হোক অনিয়ম করলেও সেটা তাদেরকে ধরিয়ে দেয়া এবং অবশ্যই ভালো কাজ করলেও সেটা প্রকাশ করে দেশ ও জাতিকে জানিয়ে দেয়া। তাই আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ইনসাফের সাথে কাজ করি ইসলামী মিডিয়াকে শক্তিশালী করি।