ইনসাফের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠান পরিণত হয়েছিল আলেম-উলামাদের মিলন মেলায়

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি 


সাধারণত ইসলামী ঘরানার রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন গুলোকে একত্রিত হতে তেমন একটা দেখা যায়না। নিকট অতিতে হেফাজতের জাগরনের সময় একবার দেখা গিয়েছিল এক মঞ্চে আলেম-উলামা ও ইসলামী ঘরানার রাজনীতিবিদের। এরপর দীর্ঘদিন এভাবে একত্রিত হতে দেখা যায়নি ।  মাঝে কওমী মাদরাসার শিক্ষা বোর্ডগুলোর আয়োজনে অনেকগুলো দলের শীর্ষ পর্যায়ে থাকা নেতাদের এক মঞ্চে দেখা গিয়েছিল কিন্তু এরপর অার কোথাও এভাবে এক মঞ্চে আলেম-উলামা ও ইসলামী ঘরানার রাজনীতিবিদের দেখা যায়নি ।

গত ১৪ মে ইনসাফের চতুর্থ প্রতিষ্ঠা  বার্ষিকীতে পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকারের আমন্ত্রণে আবার সেই মিলন মেলার দেখা মেলে। একত্রিত হোন কওমী ঘরানার প্রায় সকল দল ও মতের নেতৃবৃন্দ। সেদিন কে ছিলেন না অনুষ্ঠানে? দেশের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরী। তিনি ইনসাফের চেয়ারম্যানও।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পক্ষ থেকে ছিলেন সংগঠনটির মহাসচিব দেশের অন্যতম সিনিয়র আলেম আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী। এছাড়াও জমিয়ত নেতাদের মধ্যে ছিলেন দলটির প্রবীণ নেতা ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, যুব জমিয়ত সভাপতি শরফুদ্দীন ইয়াহিয়া কাসেমী, সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম মাওলা ও  ছাত্র জমিয়তের চৌধুরী নাছির আহমদ প্রমুখ।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের পক্ষ থেকে ছিলেন, আমীরে শরীয়ত আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী ও  প্রচার সম্পাদক সুলতান মহিউদ্দিন প্রমুখ।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির পক্ষ থেকে ছিলেন, পার্টির সভাপতি খ্যাতিমান বরোণ্য আলেম মুফতী ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী। ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল্লাহ মাসউদ খান, মহাসচিব আতিক সিদ্দীকি ও  ঢাকা মহানগর সভাপতি এহতেশামুল হক সাখী প্রমুখ।

ইসলামী ঐক্যজোট থেকে ছিলেন, জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতীফ নেজামী, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা লোকমান হাকিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন রাজী প্রমুখ।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, প্রচার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি শেখ সাইফুল ইসলাম ও প্রচার সম্পাদক শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

খেলাফত মজলিস থেকে ছিলেন, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ আব্দুল জলিল।  বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে ছিলেন, অফিস ও বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল প্রমুখ।

এছাড়াও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (মুফতী ওয়াক্কাস অংশের পক্ষ) থেকে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান, যুব জমিয়ত নেতা মাওলানা রিদওয়ানুল বারী সিরাজী, ছাত্র জমিয়ত নেতা তোফায়েল গাজ্জালী ও  ছাত্র জমিয়ত মহানগর নেতা নিজাম উদ্দীন আদনান প্রমুখ।

লেখক সম্পাদক ও ইসলামী ব্যক্তিত্বদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মসিক আদর্শ নারীর সম্পাদক মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী, মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ, মুফতী হারুন ইজহার, উম্মাহ সম্পাদক মুনীর আহমদ, মাওলানা দেলোয়ার বিন গাজী, সাইমুম সাদী, কাজী আবুল কালাম সিদ্দিকী, হাবিবুর রহমান মিসবাহ, নূর সম্পাদক সৈয়দ শামসুল হুদা, ক্যারিয়ার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আফজাল হুসাইন, হাফেজ সালামত উল্লাহ, মুফতী ইমরানুল বারী সিরাজী, সবার খবর সম্পাদক আবদুল গাফফার, যুবকণ্ঠ সম্পাদক মুফতী নেয়ামত উল্লাহ আমীন, বাংলা ৫২’র সম্পাদক কাজী আওলাদ হোসেন, শিক্ষাবার্তা সম্পাদক এ এইচ এম সাইদুজ্জামান প্রমুখ।

সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলোর মধ্যে জিননূরাইনের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, আহবানের পরিচালক এইচএম সাইফুল ইসলাম, স্বপ্নসিড়ি পরিচালক হুমায়ূন কবীর শাবিব, মুফতী শামিম মজুমদার, কিব বাংলার পরিচালক কাজী আমিনুল ইসলাম, আবৃতি শিল্পী ইবরাহীম কোব্বাদী, ঐশীস্বর পরিচালক উমর ফারুক সাহিল, দাবানল শিল্পী গোষ্ঠী প্রশিক্ষণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ সাহাল, আবৃত্তি ও নাট্য পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ ইলয়াস প্রমুখ।

ইনসাফ পরিবারের পক্ষ থেকে অতিথি বরন ও আপ্যায়নে ছিলেন, উপদেষ্টা সম্পাদক মাওলানা মুসা বিন ইজহার, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, সাবেক উপদেষ্টা সম্পাদক মাওলানা মীর ইদরীস নদভী, মাওলানা কামরুল কাসেমী, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও সিনিয়র সহ-সম্পাদক মারজান হুসাইন চৌধুরী, প্রযুক্তি ও কারিগরি সম্পাদক আবদুস সবুর খান সুমন, সহকারী-সম্পাদক সাঈদ আলা হাসান, যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক আলাউদ্দীন সিদ্দিক, নজরুল ইসলাম, মুহাম্মাদ ইয়ামিন, জুবাইর আহমদ নকী, ওয়াসিক ইবনে হাফিজ, জুনাইদ আহমদ, আলামিন ফারাজ, আরিফুল ইসলাম, সংবাদ পাঠক রায়হানুল কাবির, ইংরেজি সংবাদ পাঠক জুবায়ের আহমাদ, মাহাবুবুল মান্নান, সোহেল আহমেদ, আরিফ সবুজ, মুহাম্মাদ জিন্নুরাইন, বেলায়েত হুসাইন প্রমুখ।

অনুষ্ঠান বিষয়ে মূল্যায়ন জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দীন বলেন, আমার খুবই ভালো লেগেছে কারণ আমাদের অঙ্গনে এমন অনুষ্ঠান কখনই হয় না। ইনসাফই প্রথম আয়োজন করল। অাহ! কি সুন্দর পরিবেশ। আমরা ভিন্ন দলের নেতাকর্মী হয়ে আজ সকলেই একসাথে। আমাদের তরুণ ভাইদের বক্তব্যগুলো আমায় বিমোহিত করেছে। আমাদের উজ্জবীত করেছে।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, ইনসাফের কাজ গুলো আমার কাজেই সবসময়ই ভালো লাগে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে দেখা গেল এক নতুন আমেজ। ইসলামের প্রচার প্রসারে জন্য মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে যা অতীব জরুরী ছিল। আর ইনসাফ সকল ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দকে এক মঞ্চে একত্রিত করতে পেরেছে এদিন। যা আমাদের  ঐক্য গড়ার ক্ষেত্রে অনেক কাজে লাগবে বলে মনে করি।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব ও আরজাবাদ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া বলেন, ইনসাফের চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠান আমাদের সকলের জন্য একটি মাইলফলক, আমরা যদি এভাবে আরো বেশী বেশী একসাথে বসে ভাবের বিনিময় করতে পারি, তাহলে আমাদের সকলের সর্ম্পক আরো গাঢ় মজবুত হবে ইনশা আল্লাহ।

ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, ইনসাফের আয়োজন সফল ও স্বার্থক হয়েছে বলে মনে করি। কেননা এ অনুষ্ঠানে শুধু আলেম-উলামা নয় বিভিন্ন জেনারেল শিক্ষিতরাও এসেছেনে। প্রায় সব ইসলামী দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনেক দিন পর আবার এক মঞ্চে সকলের সাথে দেখাও হলো। এমন আয়োজন আরো হউক।

খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ আব্দুল জলিল বলেন, দেশের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার আলেম-উলামা ও পেশাজীবিদেরকে একত্রিত করেছে ইনসাফ। এটা ইনসাফের এক বড় সফলতা, এখানে যেমন হেফাজত, জমিয়ত, খেলাফতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক অরাজনৈতিক সংগঠনের লোকদের পাশাপাশি কবি সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি অনুষ্ঠানের প্রায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলাম, আমার কাছে খুব আনন্দ লেগেছে যে, দেশ বরেণ্য আলেম উলামাদারে সাথে আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেরও অনেকের সাথে মতবিনিময়ের সুযোগ হলো। এটা আমি মনে করি একটি মিলন মেলা। যেখানে আমাদের বড়দেরর পামাপাশি আমরা ছোটরাও উপস্থিত ছিলাম।

উম্মাহ সম্পাদক মুনীর আহমদ বলেন, অনেক ভাল লেগেছে। এক ছাদের নীচে নক্ষত্র তুল্য শীর্ষস্থানীয় সিনিয়র ও তরুণ উলামায়ে কেরামের ব্যাপক অংশগ্রহণ ইনসাফের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছিয়ে দিয়েছে বলে আমি মনে করি। ইনসাফ এবং ইসলামি মিডিয়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার উপর সকলে মতামত দিয়েছেন,মতামত শুনেছেন। এটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমি মনে করি এতে মিডিয়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধিতে নিতে আলেম সমাজ, ইসলামী রাজনীতিবিদ ও দ্বীনের দায়ীগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হবে। পাশাপাশি মিডিয়ায় তরুণ আলেমদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে উৎসাহ যোগাতেও ইনসাফের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হবে।

লেখক মাওলানা রুহুল আমীন সাদী (সাইমুম সাদী) বলেন, একটা জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ইনসাফ পরিবার। ইনসাফের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দল ও মতের লোকজন এসেছিলেন শুভেচ্ছা জানাতে। একটা ভালো লাগার মুহূর্ত ছিলো সময়টা।

একটি অনলাইন পত্রিকা কতটুকু আন্তরিকতার সাথে কাজ করলে এই একাকিত্ব, ভালবাসাহীন নির্মম সময়ে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে কাছে টানতে পারে, এক টেবিলে বসাতে পারে তার উত্তম নজীর হয়ে থাকবে প্রোগ্রামটি। ইনসাফ আগামী দিনগুলোয় কতটুকু ইনসাফের সাথে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে সেই অপেক্ষায় রইলাম।