সাদিয়া হত্যার মামলা নিচ্ছেনা হালিশহর থানা

ইনসাফ টোয়েন্টিফর ডটকম | আলামিন ফারাজ


 চট্টগ্রাম হালিশহর শান্তিনগরস্থ সাদিয়া হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১২ মে সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত সাদিয়ার মামা ওলিউল্ল্যাহ সুমন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ৬ মে হালিশহর থানাধীন শান্তিনগর এলাকার কাজী জাফরের বাসায়, ৫নং রোড মসজিদের উত্তর পার্শ্বে, বিল্ডিং এর ৪র্থ তলা ভবনে সাদিয়াকে (১৫) ধর্ষণ চেষ্টা করেন কাজী জাফর সাহেবের ছেলে তমিজ উদ্দিন (২৫)।

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তমিজ উদ্দিন ও তার বন্ধুবান্ধব সহ সাদিয়াকে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে হত্যা করে।

পরে তাকে বাথরুমে পানির কলের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। কেয়ার টেকারকে ফোন করা হলে সে বাসায় এসে ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে ফ্লোরে রাখা হয়। কিন্তু পুলিশকে কোন ফোন দেয়া হয়নি। প্রায় ২ ঘন্টা পর থানায় গিয়ে তমিজ উদ্দিন জানায়, তাদের কাজের মেয়ে ফাঁস খেয়েছে। পরে পুলিশ এসে লাশ নিয়ে যায়। আমার মেয়ে মুখে বালিশ চাপ দেওয়ার আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এতকিছুর পর আমাদের জানানো হয় প্রায় ৪/৫ ঘন্টা পর। আমরা থানায় গিয়ে জানতে পারি লাশ চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ময়না তদন্ত শেষে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে আমাদেরকে লাশ বুঝিয়ে দেয়। পরে আমরা নিজ এলাকায় চলে যাই। লাশ দাফন করতে গেলে মসজিদ কমিটি ধারা বাধা প্রদান করা হয়। জিজ্ঞাসা করা হলে মসজিদ কমিটি বলে লাশের মৃত্যুর সনদপত্র দেখাতে বলে। যাহা থানা হতে আমদের দেওয়া হয়নি। থানায় বলেছিলো লাশ দাপন করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। এমতাবস্থায় আমরা স্থানীয় মেম্বারদের সহযোগীতা নিয়ে লাশটি দাফন করতে সক্ষম হয়। পরদিন থানায় যোগাযোগ করে সমস্ত ঘটনার বিবরণীসহ একখানা অভিযোগ প্রদান করি। কিন্তু থানা তা গ্রহণ না করে একটি অপমৃত্যু মামলা রুজ করেন হালিশহর থানায়।

কাজী জাফরের বাসায় কাজ করার অবস্থায় আমাকে আমার মেয়ে বরাবরে বলতো সে ঐখানে আর কাজ করবে না। কিন্তু আমরা তখন বুঝতে পারিনি কি কারণে সে কাজ করতে চাচ্ছিলো না। তাদের এক ছেলে এসে আমাদের একটি ভিজিটিং কার্ড দিয়ে বলে আমি বিসিএস ক্যাডার আমার সাথে উপর মহলের সবার সাথে সম্পর্ক আছে। মামলা করে কিছুই করতে পারবি না। বরং কিছু টাকা নিয়ে চুপ করে থাক। এতে আমরা রাজি না হওয়ায় সে এবং তার অন্যান্য ভাইয়ের আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকী দিচ্ছে এই ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য। তারা আরো বলে থানায় গিয়েও কোন লাভ হবে না। আমরা থানা মেডিকেল সব মেনেজ করেছি। একটি মিমাংসানামা করে কিছু টাকা নিয়ে যা। এ অবস্থায় আমরা জীবনের নিরপত্তহীনতায় ভুগছি।

আমার মেয়ের হত্যার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তারসহ লাশটি পুনরায় ময়নাতদন্ত করার জন্য দাবী জানান। এবং পরিবারে নিরাপত্তা জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এই ভাবে আমার মেয়ের মত ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে জীবন দিতে হবে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন নিহত সাদিয়ার বাবা মুনির হোসেন, মা লায়লা বেগম, শামসুউদ্দিন, জাহাঙ্গীর, আলমগীর, জিয়া উদ্দিন, জাবেদ, শাহাজাহান, মহিউদ্দিন, রহিমা আক্তার প্রমুখ।