রমজান উপলক্ষে ডাইনিং এ খাবারের মূল্যবৃদ্ধি; হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আব্দুল মান্নান, হাবিপ্রবি


দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ডাইনিং গুলোতে পবিত্র রমজান উপলক্ষে লাগামহীন ভাবে খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা । রমজান মাস আসলে যেখানে খাবারের দাম কমে যাওয়া কথা সেখানে খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ডাইনিং গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজান শুরুর আগে দুপুর ও রাত দুবেলা মিলে খাবারের মূল্য ছিল ৬৫ টাকা কিন্তু রমজান উপলক্ষে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭০/ ৮৫ টাকা (গরু ৫৫টাকা , মুরগি ৪০ টাকা)।একই অবস্থা শহীদ জিয়াউর রহমান হলে । অন্যদিকে ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে আগে ছিল ৫০ টাকা এখন বাড়িয়ে তা করা হয়েছে ৬০ টাকা।

বিভিন্ন হলের আবাসিক কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকেও যদি এত চড়া দামে খাবার খেতে হয় তাহলে সেটা খুবই দুঃখজনক । আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মধ্যবিত্ত পরিবারের। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকে যদি কোন সুযোগ সুবিধা না পায়, তাহলে এটা কতটুকু ছাত্রদের প্রতি ন্যায়বিচার করা হচ্ছে সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভালো জানেন । তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইনিং এ খাবারের দাম এতো আছে কিনা আমার জানা নেই। খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ করেন বেশ কিছু শিক্ষার্থী।

শহীদ জিয়াউর রহমান হলের হল সুপার বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা.মো.ফজলুল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় জ্বালানি খাতে অনেক বেশি খরচ পড়ে একারনে দাম একটু বেশি রাখা হয়েছে । আর যারা ডাইনিং চালায় তাদেরও দিকটা তো একটু দেখতে হবে। তথাপি আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।

সহকারী হল সুপার ড. মো.আবু সাঈদ বলেন, শিক্ষার্থীরা খাবারের মান নিয়ে যে অভিযোগ করেছে তা সত্য নয় । এখানকার খাবারের মান বাহিরের যে কোন খাবারের চেয়ে অনেক বেশী ভালো। আমি নিজেই গিয়ে খেয়ে আসছি ।চাইলে আপনারও এসে দেখতে পারেন। দাম বেশির ব্যাপারে তিনি বলেন, বাজারে কাঁচা বাজার থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে । আগে পিঁয়াজের ধারা ১২০টাকা ছিল এখন তা বেড়ে ২০০ টাকার বেশি হয়েছে। মুরগি ১৯০/১৯৫ টাকা ছিল এখন সেটা ২৮০ টাকার মতো হয়েছে।অথচ আমরা আগে ৬৫ টাকা ছিল তা বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়েছে । আর যারা গরু খাবে তাদের জন্য ১৫ টাকা বেশি লাগতেছে যা বাহিরের বাজারের চেয়ে অনেক কম।

তাজউদ্দিন আহমেদ হলের সহকারী হল সুপারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায় নি।

অন্যদিকে শেখ রাসেল হলে ডাইনিং চালু না থাকায় শিক্ষার্থীদের বাহিরের হোটেলে খেতে যেতে হয়। কিন্তু সেখানেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে খাবার। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছে শেখ রাসেল হলের শিক্ষার্থীরা
শেষ বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান এসব বিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বাশেরহাটের ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথাও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় খাবার ও মেসের ভাড়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের অরাজকতা আছে বলে মনে হয় না আমার। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।