মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে মেঘনা নদী পার হন হাতিয়ার বাসিন্দারা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মো: আবদুল মন্নান, হাতিয়া 


নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলা। দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাথে অন্য উপজেলা বা জেলা সদরে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম সী-ট্রাক। নোয়াখালীর হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ১৮ কিঃমিঃ মেঘনা নদী পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় মূল হাতিয়ায় । হাতিয়া বাসীর চলাচলের একমাত্র মাধ্যম ২টি সী-ট্রাক।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহনের (বিআইডব্লিওটিসি) দুটি সি ট্রাক দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ থাকায় ছোট নৌকা এবং ত্রুটিপূর্ণ ফিটনেসবিহীন ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে ১৮ কিলোমিটার উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছে হাজার হাজার যাত্রী। এসব ছোট নৌযানে নেই কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া চালকরা ইচ্ছে মতো অতিরিক্ত যাত্রী তুলছে। এতে করে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাতিয়া থেকে জেলা সদরে যাতায়াতের জন্য দুইটি সি ট্রাক রয়েছে। এর একটির নাম আবদুর রব সেরনিয়াবাত। যেটি হাতিয়ার চরচেঙ্গা-চেয়ারম্যানঘাট রুটে চলাচল করত। আর অপর সি-ট্রাকটি হল শেখ ফজলুল হক মনি। এটি চলাচল করত হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট-নলচিরা নৌ-রুটে। এ দুটি রুটে সি-ট্রাকে চড়ে গড়ে প্রতিদিন দেড়-দুই হাজার যাত্রী হাতিয়া যাতায়াত করতেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে নৌযান দুটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। যে কারণে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি তারা বারবার কর্তপক্ষকে জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না তারা। তাছাড়া, ঘাটে পল্টুন না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে উঠা নামা করতে হয় যাত্রীদের। যে কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

সি ট্রাকের সার্টার এজেন্ট গোলাম মাওলা বলেন, আবদুর রব সেরনিয়াবাত নামের সি ট্রাকটি সাড়ে চার মাস আগে নারায়ণগঞ্জের সোনাচোরা এক নম্বর ডক-ইয়ার্ডে নেওয়া হয়। অদ্যবধি সি-ট্রাকটির মেরামত শেষ হয়নি। এরই মধ্যে শেখ ফজলুল হক মনি নামের সি-ট্রাকটিও মেরামতের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে সেটি ডকে নেওয়া হবে।