খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না : রিজভী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি 


চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলটির  সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। খালেদা জিয়া বিহীন কোন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি যাবে না, যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। এই মূহুর্তে বিএনপি’র ইশ্তেহার হচ্ছে-চেয়ারপার্সনেরমুক্তি, জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেয়া এবং দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকালের বক্তব্যে প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে নির্বাচনের বিশাল সম্পর্ক আছে। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে নির্বাচন থেকে দুরে রাখা গভীর ষড়যন্ত্র। এই বক্তব্য জবরদস্তিমূলক একতরফা নির্বাচনেরই ইঙ্গিতবহ। খালেদা জিয়া যে ক’টি আসনে দাঁড়িয়েছেন তিনি কখনোই সেই নির্বাচনে পরাজিত হননি। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পরাজিত হয়েছেন। সেজন্য বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তায় প্রধানমন্ত্রীর এতো বিদ্বেষ। আর এজন্যই বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দুরে সরাতে এতো ষড়যন্ত্র।’

তিনি বলেন, ‘আমি সেতুমন্ত্রীকে  উদ্দেশ্যে বলতে চাই-বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া মানেই জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক, খালেদা জিয়া মানেই বিএনপি, খালেদা জিয়া মানেই গণতন্ত্র। খালেদা জিয়া জনগণের সাথে কখনো প্রতারণা করেননি। জনগণের প্রতি যখন যে ওয়াদা করেছেন সেটি পালন করেছেন নির্দিধায়, প্রদত্ত অঙ্গীকারের কখনো বরখেলাপ করেননি।’

রিজভী আরো বলেন, ‘সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আপনি হয়তো ভুলে গেছেন ৮৬ এর নির্বাচনের কথা, ১০ টাকা কেজি চালের কথা, ঘরে ঘরে চাকুরী দেয়ার কথা? আমরা কাউকে মাইনাস করতে চাই না, কিন্তু যারা অন্যকে মাইনাস করতে চায় তারা প্রাকৃতিক নিয়মে নিজেরাই মাইনাস হয়ে যায়। সুতরাং আইন আদালতসহ সবকিছু কব্জা করে বেগম খালেদা জিয়াকে জোর করে সাজা দিয়ে আপনাদের ক্ষমতার ঝাড়বাতির রোসনাই আর বেশী দিন থাকবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনার বক্তব্যে পরিস্কার হয়ে গেছে- খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাই আপনাদের ভয়, আর সেজন্যই আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে মিথ্যা তথ্যের ওপর সাজানো মামলায় তাঁকে কারাবন্দী করে রেখেছেন, জামিনযোগ্য মামলায়ও আপনাদের নিষেধের কারনেই জামিন পাচ্ছেন না তিনি। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কষ্ট পেলেও তাঁকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। খালেদা জিয়াকে বন্দী করে ৫ জানুয়ারী মার্কা একতরফা নির্বাচনের খায়েশ আপনাদের আর পূরণ হবে না। জনগণ প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে আপনাদের সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দিতে।’