তুরস্কে ইসরাইলি পণ্য নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট 


ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যার প্রতিবাদে ইসরাইলি পণ্য নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন তুরুস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। তুরস্কের স্থানীয় একটি দৈনিকের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

আগামী জুনে দেশটির নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন এরদোগান। ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যা ও জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে মুসলিম দেশগুলোর জোট ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্যদের নিয়ে গত সপ্তাহে বৈঠক করেন তিনি। ওআইসির বৈঠকে গাজা হত্যাযজ্ঞ ও মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানো হয়।

রবিবার বসনিয়া থেকে ফেরার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এরদোগান। তিনি বলেন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৫৭ সদস্য ইসরাইলের পণ্যসামগ্রী আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে।

তুরস্কের স্থানীয় দৈনিক হুরিয়াতকে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, ওআইসির সদস্য দেশগুলো সুপারিশ অনুযায়ী ইসরাইলি পণ্য বয়কটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। কাজেই কোনোভাবেই ইসরাইলি পণ্য আমদানি করা উচিত হবে না। স্বাভাবিকভাবেই আমরা এই পরিস্থিতির মূল্যায়ন করবো।’

বৈঠকের পর শুক্রবার ওআইসি ঘোষণায় অবৈধ ইসরাইলি বসতির পণ্য-সামগ্রী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বাজারে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানানো হয়। ইসরাইলি পণ্য অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গোলান মালভূমিতে তৈরি করা হয় বলে ওআইসির ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়। তবে ইসরাইলি সব পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানায়নি ওআইসি।


এরদোগান মুসলিম বিশ্বের অঘোষিত সেনাপতি : মাওলানা সালমান নদাভী
মে ৩০, ২০১৮
ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | বেলায়েত হুসাইন



ভারতের বিশিষ্ট আলেম মাওলানা সালমান হুসাইন নদাভী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সমন্ধে বলেছেন, এরদোগান এখন  তুরস্ক ও তুর্কিদের সেনাপতি নন, বিশ্বের সমস্ত উলামা-মাশায়েখ ও ইসলামি নেতৃবৃন্দের চোখে তিনি অঘোষিতভাবে সমগ্র মুসলিমজাতির সেনাপতির স্থান দখল করে নিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল’১৮) শায়েখ নদাবী তার ফেসবুক একাউন্টে দেয়া এক ভিডিওবার্তায় বলেন, মুসলমানদের বড় একটি অংশের (প্রায় ৩০০ মিলিয়ন) বসবাস আমাদের এই হিন্দুস্তানে। এছাড়াও সারা বিশ্বের সব মুসলমান-আমরা একতাবদ্ধ হয়ে থাকতে চাই।

তিনি আরো বলেন, তুরস্কে বর্তমান অর্থনীতির হালচিত্রে লিরার (তুরকি মুদ্রা) অবমূল্যায়ন পরিলক্ষিত হচ্ছে, এর কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, শত্রুদের পতন, বন্ধু শত্রু হয়ে ওঠা এবং শত্রু চিরশত্রু হয়ে যাওয়া। এই ধরণের বিপর্যয়ে সব মুসলমানের উচিৎ এক কাতারে শামিল হয়ে এগিয়ে চলা।

শায়েখ নাদাবী গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিদ্বেষী শত্রুদের বিরুদ্ধে সব মুসলমানের অবস্থান এক করতে হবে। শত্রুরা চায় তুরস্কের পতন, আরো একবার তুর্কিদের অধঃপতন। শতশত বছর পুরোনো তুর্কিদের জাতীয় ঐতিহ্য, গৌরব এবং সুখাতীত থেকে এই জাতী পৃথক হয়ে পড়ুক-শত্রুরা এটাই কামনা করে।

এজন্য বিশ্বের সব মুসলমানদের সাথে তুর্কিদেরও একাত্ম হয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, মুসলিম-বিশ্বশক্তি, আলেমসমাজ, শিক্ষাবিদসহ ইসলামি জাহানের সমস্ত নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এরদোগানের সাথে রয়েছে।

শায়েখ সালমান এরদোগানের প্রশংসা করে বলেন, তিনি শুধু তুরস্ক ও তুর্কিদের সেনাপতি নন, বিশ্বের সমস্ত উলামা-মাশায়েখ ও ইসলামি নেতৃবৃন্দের চোখে তিনি অঘোষিতভাবে সমগ্র মুসলিমজাতির সেনাপতির স্থান দখল করে নিয়েছেন।

বিশ্বের সকল মুসলিমজাতির কথা উল্লেখ করে ভারতীয় এই প্রথিতযশা শায়েখ আরও বলেন, সব ভেদাভেদ ভুলে সমগ্র মুসলিমবিশ্ব আজ একাত্ম হয়ে এই আশা করছে যে, আধুনিকতা ও উন্নয়নশীলতা বজায় রাখতে তুর্কিরা আবার এরদোগানকেই সমর্থন দেবে। কেননা, মুসলিম জাতি ও তুর্কি জনগণের যে সংকট আজ সামনে এসেছে, এসব থেকে জাতিকে উদ্ধার করা এবং তুরস্কের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রচনা করা এরদোগানের পক্ষেই সম্ভব।