কীভাবে পরিচালিত হয় কওমী মাদরাসা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


বাংলাদেশের কওমী মাদরাসা গুলোতে কারা পড়ে? মাদরাসা গুলো কীভাবে পরিচালিত হয়? অর্থ কোথা থেকে  অাসে? কারা অর্থের যোগান দেয়? কওমী মাদরাসার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেন বিশিষ্ট লেখক গবেষক চিন্তিক আলেম মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ যার চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।

কওমী মাদরাসায় টাকা আসে কোথা থেকে?
কওমী মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার সুযোগ পায়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষই তাদের থাকা-খাওয়া এবং পড়াশোনার খরচ বহন করে। অনেক মাদ্রাসা আছে যেখানে নির্ধারিত কোন বেতন নেই। শিক্ষার্থীদের আর্থিক সচ্ছলতার উপর নির্ভর করে বেতন নেয়া হয়।

কওমী মাদরসার যারা সমালোচক তাদের মনে এসব নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। এতো বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের ব্যয় বহন করছে কারা? কোথা থেকে আসছে এতো টাকা?

সম্পর্কে লেখক এবং গবেষক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, বাংলাদেশের সবগুলো কওমী মাদরাসা কোন বিদেশী সহায়তা নয়, সমাজের ভেতর থেকে অনুদান নিয়ে পরিচালিত হয়।

প্রায় সব গুলো কওমী মাদরাসাতেই এক তৃতীয়াংশ বা এক চতুর্থাংশ ছাত্রের জন্য, যারা দরিদ্র পরিবার থেকে আসে বা নিজে এতিম।এদের লেখাপড়া, থাকা-খাওয়ার খরচ গুলো মাদরাসার থেকে যোগান দেয়া হয়।

আর মাদরাসায় যোগানটা আসে সমাজের মানুষের পক্ষ থেকে। এটা একটি বিস্ময়কর প্রশ্ন যে, মানুষ কি এতো অংশগ্রহণ করে? আসলেই মানুষ এতো অংশগ্রহণ করে যে, এটা যদি আপনি প্রত্যেকটা সমাজে ঢুকেন তাহলে দেখবেন। এবং ঢাকা থেকে নিয়ে গ্রাম পর্যায়ে প্রত্যেকটা জায়গায় যান, মাদ্রাসার এই ভবনটা কে করে দিলো? কে এই টাকা গুলো দিচ্ছে? দেখবেন সমাজের ভিতর থেকেই লাখ লাখ টাকার জোগান আসে।  যদি আপনি এটা সারা বাংলাদেশের সীমানা ধরেন তাহলে সংখ্যায় অনেক বড় হবে।

বাংলাদেশের সবগুলো কওমী মাদরাসা সমাজের ভেতর থেকে অনুদান নিয়ে পরিচালিত হয়। “জুম্মার নামাজে অংশগ্রহণ করে এমন কোন ধার্মিক মুসলমান আপনি পাবেন না যার কওমী মাদরাসায় ১০ টাকার অংশগ্রহণ নেই। ১০ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা, এক কোটি টাকা অনুদান দেবার মতো মানুষ এ সমাজে আছে,” এমন কোন মুসলমান  সমাজে পাবেন না যার ১০ টাকার অংশগ্রহণ কওমী মাদরাসায় নাই।

লেখক এবং গবেষক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদও মনে করেন, দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের স্বীকৃতি দিলেও অধিকাংশ কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ভিন্ন কোন-কর্মসংস্থান বেছে নেবে না।

তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রের জন্য সরকারি স্বীকৃতিকে বিশাল কোন প্রাপ্তি হিসেবে মনে করেন না কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। আগে কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সরকারিভাবে শিক্ষাপ্রাপ্ত হিসেবে বিবেচনা করা হতো না। সরকারি স্বীকৃতির মাধ্যমে সে জায়গা থেকে উত্তরণ ঘটেছে বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, ” তাদের প্রধান কর্মতৎপরতা বা অংশগ্রহণ ধর্মীয় ক্ষেত্রগুলোতেই ব্যাপক থাকবে। এখান থেকে বের হয়ে কেউ সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা ধারায় চলে যাবে, এটা আমার কাছে মনে হয় না।” কওমী মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকদের বিশ্বাস, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র বাড়তে থাকবে।