বিশ্বাসের সম্পর্কের চেয়েও দল মত গোষ্ঠীর পরিচয় এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে: মুহিব খান

জাগ্রত কবি মুহিব খান


জাগ্রত কবি মুহিব খান

তিনি সবার, তাই আমাদেরও।
তিনি তো সবার, আমাদের নন।

একজন মানুষ শুধু মানুষ হিসাবে মানবতার খাতিরে সবার হতে পারেন, কিন্তু বিশ্বাস ও আদর্শের দিক থেকে সবার হতে পারেন না। হওয়া উচিত নয়। এটাই সত্য।

কিন্তু দুঃখজনক হলো, একই বিশ্বাস ও আদর্শের সবার সাথে চলাটাও এখন আর সহজ নয়। বিশ্বাসের সম্পর্কের চেয়েও দল মত গোষ্ঠীর পরিচয়ই যে এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে!

সময়ের বাস্তবতা হলো- যিনি চিন্তা চেতনা ও অবদানে সবার হন, তিনি এক হিসেবে যেমন সবার, অন্য হিসেবে আসলে কাওরই নন। দুঃসময়ে ভীষণ একা একজন।

তাকে নিজেদের প্রয়োজনে সবাই সঙ্গে পেতে চান, ডাকেন, সম্মান দেখান, প্রচার করেন। তখন ভাবেন, তিনি তো সবার, কাজেই তিনি আমাদেরও।
কিন্তু তাকে নিজেদের গোষ্ঠীগত কোনো বিশেষ সুবিধা ও সাফল্যের অংশীদার কেউই করেন না। তখন সবাই ভাবেন, তিনি যেহেতু সবার, তাহলে তো শুধু আমাদের না, অন্যদেরও। তাকে কেন তালিকায় রাখবো ?

বঙ্গভবন, গণভবনে তাকে কেন নেব? এরচে’ নিজেদের শালা-সম্বন্ধী, ড্রাইভার, খাদেম নিয়ে যাই।
ইউরোপ আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে তাকে কেন আনবো? তারচে নিজ দলের যদু মধুদের এনে মাহফিল করাই।
তার প্রশংসার তো সীমা নাই, তিনি তো আমাদেরই গৌরব। তবে তার বিরুদ্ধে দুষ্টদের নিন্দার জবাব আমরা দিতে যাবো কেন? তিনি কি শুধু আমাদের?

তিনি সবার পক্ষে লড়ে বিপদে পড়েছেন, মামলা খেয়েছেন, জেলে গেছেন, তো আমাদের কী করার আছে! অন্যরা করুক, তিনি তো আর শুধু আমাদের না।
অসুস্থ! এক কেজি আপেল নিয়ে ছবি তুলে দেখে আসলেই চলবে, চিকিৎসার দায়িত্ব আমাদের না, তিনি তো আর আমাদের নিজস্ব লোক না!
মারা গেছেন, আহা! জাতির অপুরণীয় ক্ষতি হয়ে গেলো, তবে আমাদের তেমন কিছু না।

এরপরও যারা সবার কথাই ভাবেন, সবাইকেই ভালোবাসেন, উম্মাহ হিসেবে সবার জন্যই জীবনের চিন্তা সাধনা ব্যায় করেন, তারা আর সবার মতো নন।


ফেসবুক থেকে