সুবর্ণচরে চিংড়ি পোনা সংগ্রহের নামে হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা নিধন

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |  আরিফ সবুজ নোয়াখালী প্রতিনিধি


নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মেঘনা নদী ও সংযোগ খাল থেকে জেলেরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে গলদা চিংড়ির পোনা ধরছেন। এতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা তদারক না করায় এবং আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়ার এভাবে অবাধে মাছের পোনা নিধন চলছে।

মশারি জাল দিয়ে নদীর পানি ছেঁকে গলদা চিংড়ির পোনা ধরা হয়। এসব পোনা ধরার সময় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ওঠে। চিংড়ির পোনা বাছাইয়ের সময় বাইলা (বেলে), সুরকা, পোয়া, পাঙাশ, বাছা, বাতাসি, পাবদাসহ ৭০টি প্রজাতির মাছের ডিম ও পোনা নষ্ট হয়ে যায়।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় এবং পোনা ধরার সঙ্গে জড়িত জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদ ইউনিয়ন থেকে চর ক্লার্ক ইউনিয়ন পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকা গলদা চিংড়ি পোনার বিচরণক্ষেত্র। চৈত্র মাস থেকে এসব এলাকার জেলেরা মশারি জাল, কারেন্ট জাল, ছাঁকনি ও চাদর দিয়ে পোনা ধরা শুরু করেন। জ্যৈষ্ঠ/আষাঢ় মাস পর্যন্ত চলবে পোনা শিকার। জেলেরা এসব পোনা স্থানীয় আড়ৎদারদের নিকট বিক্রি করেন এবং আড়ৎদাররা এসব পোনা যশোর, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় গিয়ে বিক্রি করেন।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে উপকূলীয় এলাকা থেকে বাগদা চিংড়ির পোনা আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার প্রায় ২ হাজার জেলে পোনা ধরছে। সরেজমিনে গেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাতজন জেলে বলেন, গলদা চিংড়ি ধরার সময় বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য পোনা-ডিম মশারি জালে উঠে আসে। পরে তাঁরা গলদা চিংড়ির পোনাগুলো বেছে রেখে অন্যগুলো নদীতে বা ওপরে ফেলে দেন। শতাধিক গলদা চিংড়ির পোনা বাছাই করে নেওয়ার সময় অন্য প্রজাতির মাছের কয়েক হাজার পোনা ফেলে দেওয়া হয়।

উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের জেলে মোঃ বাবুল ও মোঃ মহসিন বলেন, একজন জেলে প্রতিদিন ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০০ হাজার পোনা ধরতে পারে। প্রতিটি পোনা তাঁরা আড়তদারের কাছে দেড়-দুই টাকা দরে বিক্রি করেন। আড়তদার চিংড়ি ঘের-মালিকদের কাছে প্রতিটি পোনা আড়াই-তিন টাকা দরে বিক্রি করেন। বড়ইতলা বাজারের পোনার ব্যবসায়ী সিরাজ বেপারি বলেন, ‘গলদা চিংড়ির পোনা ধরা যে অবৈধ, তা আমরাও জানি। এ ব্যবসায় আমাদের লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এর সঙ্গে আমাদের এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাই তারা পোনা না ধরে থাকতে পারে না।’

সাত বছর ধরে চিংড়ি পোনার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চর নোমান গ্রামের জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, মেঘনার গলদা চিংড়ির পোনা অল্প সময়ে বড় হয়ে যায়। এ জন্য যশোর, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাসহ দেশে চিংড়ি ঘের মালিকদের কাছে মেঘনার পোনার কদর বেশি। প্রতি মৌসুমে এখানে শতাধিক কোটি টাকার গলদা চিংড়ির পোনা বিক্রি হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পিযুষ প্রভাকর চিংড়ির পোনা ধরার সময় অন্য প্রজাতির মাছের ডিম ও পোনা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি পোনা ধরা প্রতিরোধে প্রশাসনের কর্মকর্তারা যে অভিযান চালান না, সে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেঘনায় অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর কেউ যেন চিংড়ি পোনা না ধরেন, সে জন্য মেঘনা নদী এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে মৎস্য কর্মকর্তার এ দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।