ইনসাফ কার্যালয়ে ইসলামী সঙ্গীতশিল্পীদের মিলনমেলা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আলাউদ্দীন বিন সিদ্দিক


সচরাচর সিনিয়র শিল্পীদেরকে একসাথে মিলিত হতে দেখা যায় না। তবে গত ২৭ মে রাতে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র! ইনসাফের সম্পাদক সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকারের আমন্ত্রণে ইসলামী সঙ্গীত অঙ্গনের প্রায় সকল সিনিয়র শিল্পী, সুরকার ও গীতিকারকে দেখা গেলো এক টেবিলে।

বৈরিতা ভুলে ইসলামী সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কল্যাণে এক টেবিলে মিলিত হয়েছিলেন ইসলামী সঙ্গীত দলগুলোর দিকপালরা। বিশেষ করে কলরবের দুই অংশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলগণের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। এছাড়াও মরহুম আইনুদ্দিন আল আজাদ রহঃ- চার সাগরেদের মিলন মেলাও কোন অংশে কম আকর্ষণীয় ছিল না।

ইনসাফের এই ব্যতিক্রমী আয়োজনটির নাম দেয়া হয়েছিল ‘ইনসাফ আড্ডালাপ’ (আড্ডা ও আলাপ)। ইতিপূর্বেও ইনসাফের আড্ডালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তবে এবারের আয়োজনটা ছিল একটু অন্য রকম।

ইনসাফ আড্ডালাপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন, ইসলামী সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও জিন্নূ‌রাইন শিল্পীগোষ্ঠীর পরিচালক সিনিয়র শিল্পী আবুল কালাম আজাদ, ইসলামী সাংস্কৃতিক জোটের সেক্রেটারি ও আহবানের পরিচালক এইচএম সাইফুল ইসলাম, স্বপ্নসিঁড়ি পরিচালক হুমায়ূন কবীর শাবিব, কিব বাংলার পরিচালক কাজী আমিনুল ইসলাম, কলরব (আবু সুফিয়ান অংশ)-এর পরিচালক আবু সুফিয়ান,  কলরবের যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ বদরুজ্জামান, ইসলামী সাংস্কৃতিক সংসদের সেক্রেটারি মামুন আনসারী, আবৃত্তি শিল্পী ইবরাহীম কোব্বাদী ও ঐশীস্বর পরিচালক উমর ফারুক সাহিল প্রমুখ।

আড্ডালাপের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে  সবচেয়ে প্রাধান্য দেয়া হয় ইসলামী ঘরানারা সংবাদ মাধ্যমগুলোর সাথে সঙ্গীত অঙ্গনের সেতুবন্ধন কিভাবে করা যায় তা নিয়ে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে ইনসাফ সম্পাদক সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার বলেন, আমাদের লড়াইটা সাংস্কৃতিক, আমাদের বিপরিত পক্ষের লোকেরা সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের মাধ্যমে আমাদের ধংস করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। এবং তাঁরা সাফলও হয়েছে। সে তুলনায় আমরা নিতান্তই বেখবরই বলা যায়। আর আমাদের এই বেখবরির সুযোগে তাঁরা এগিয়েছে বহুদূর।

তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বা লড়াইয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত সবচেয়ে সফল অস্ত্রগুলোর একটা হলো সঙ্গীত। সঙ্গীতের মাধ্যমে খুব সহজে তাঁরা আমাদের মন মস্তিষ্কে তাঁদের চিন্তা চেতনা আদর্শ অনুপ্রবেশ করিয়ে দিচ্ছে। এই অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে লড়াইটা মাঠে করলে চলবে না, এ লড়াইটা হতে হবে সাংস্কৃতিক ভাবেই। আরো সহজ করে বললে, সঙ্গীতের লড়াই সঙ্গীত দিয়েই করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আজকে এখানে আপনারা যারা উপস্থিত হয়েছেন, তাঁরা একেকজন আমাদের দেশের ইসলামী সঙ্গীত অঙ্গনের দিকপাল। মোটামুটি আপনাদের হাতেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ইসলামী সঙ্গিতাঙ্গন। আপনাদের সাফল্য কম নয়, আশির দশকে শুরু হওয়া এই অঙ্গন আজ বড় একটি বাজার দখলে নিতে পেরেছে। এই অর্জনকে কোন ভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তবে এটা বাস্তব যে ইসলামী সঙ্গিতাঙ্গন ও ইসলামী ঘরানার মিডিয়া অঙ্গনের মধ্যে সেতুবন্ধন না থাকার কারনে আপনাদের অনেক অর্জনই সেভাবে জনগণের কান পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। এর জন্য আপনাদের যেমন দায় রয়েছে, আমরা যারা ইসলামী ঘরানার মিডিয়া নিয়ে কাজ করি, আমাদের দায়ও কম না। আমরাও সেভাবে আপনাদের অর্জনগুলোকে তুলে ধরতে পারিনা।  তাই আসুন সম্মিলিত ভাবে কাজ করি, নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করি। ইন শা  আল্লাহ, চূড়ান্ত বিচারে আমরা বিজয়ী হবো।

এরপর ইনসাফ সম্পাদক ইসলামী সঙ্গীত অঙ্গনের নেতৃত্ব দেয়া উপস্থিত সিনিয়র শিল্পীদের কাছে পরামর্শ চান। তিনি জানতে চান সঙ্গীত অঙ্গনের সাথে সমন্বয় করে কি ভাবে কাজ করা যায়। এ বিষয়ে একে একে  সকলেই মতামত দেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অনুষ্ঠান শেষে আগত সিনিয়ির অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে মাহফুজ খন্দকার বলেন, আজকের এই আয়োজনে আপনাদের মত ব্যক্তিত্বদের এক টেবিলে পেয়ে ইনসাফ টিম খুবই আনন্দিত। আমি ইনসাফ টিমের পক্ষ থেকে আপনাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

মতের ভিন্নতা থাকতে পারে, তারপরেও ইসলাম ও ইসলামী সাংস্কৃতির কল্যাণে আপনাদের এই উদারতা নিশ্চই একটা উদাহারন হয়ে থাকবে। মতের ভিন্নতার পরেও আপনাদের ইসলামী সাংস্কৃতির কল্যাণে আজ যেভাবে এক টেবিলে বসলেন, তা অবশ্যই অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা আগামীতেও আপনাদের এভাবে পাশে পেতে চাই, এক টেবিলে দেখতে চাই।