বেজোর রাত্রিতে লাইলাতুল কদর

বেজোর রাত্রিতে লাইলাতুল কদর

 এহসান বিন মুজাহির তরুণ আলেম, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক


 

এহসান বিন মুজাহির
তরুণ আলেম, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক

 


 

 

লাইলাতুল কদরের ফজিলত অপরিসীম। কদরের ফজিলত বুঝাতে গিয়ে মহান আল্লাহতাআলা পবিত্র কুরআন কারীমে ‘কদর’ নামে আলাদা একটি সুরা অবতীর্ণ করেন। কেবল কুরআনেই নয় বরং হাদিসে ও কদরের ফজিলত রয়েছে বলে প্রমাণ রয়েছে। এ রাতের ফজিলত বর্ণনা করে এ রাতেই একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল হয়। লাইলাতুল কদর সর্ম্পকে মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আমি পবিত্র কুরআনকে লাইলাতুল কদরে অবতীর্ণ করেছি। আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কি? লাইলাতুল কদর হচ্ছে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। উক্ত রজনীতে ফেরেশতাগণও জিবরাঈল (আ:) তাদের প্রতিপালকের নির্দেশে প্রত্যেক বিষয় নিয়ে অবতীর্ণ হন। এটা শন্তিময় রজনী যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সূরা কদর: ১-৫) হজরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াব লাভের আশায় কদরের রাতে নফল সালাত আদায় ও রাত জেগে ইবাদত করবে আল্লাহ তার ইতোপূর্বের সকল সগীরা গুনাহ ক্ষমা করেদেন। (বুখারি)

কদরের রাতের ইবাদতের সুযোগ যাতে হাতছাড়া হয়ে না যায় সেজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশদিনের পুরো সময়টাতে ইতেকাফরত থাকতেন। (মুসলিম-১১৬৭)

যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরের রাতকে ইবাদতের মাধ্যমে সারা রাত জাগরণ করে কাটাবে তার পূর্বকৃত গুনাহসমূহকে মাফ করে দেয়া হবে’। (বুখারি)

বিখ্যাত সাহাবি হযরত আবু হোরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা:) এরশাদ করেন-‘মহানবী (সা:) এরশাদ করেন,-‘যদি তোমরা কবরকে আলোকময় পেতে চাও তাহলে লাইলাতুল কদরে জাগ্রত থেকে ইবাদত করো’। (মিশকাত)

রাসূল (সা:) এরশাদ করেন, ‘তোমরা লাইলাতুল কদরকে মাহে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাত সমুহে তালাশ কর’। (বুখারি)
হজরত উমর (রা:) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা:) এরশাদ করেন, ‘রমজানের ২৭ তারিখের রাতের ভোর পর্যন্ত ইবাদত-বন্দেগী আমার কাছে সারা রমজানের অন্য সব রাত্রের ইবাদত অপেক্ষা অধিক প্রিয়’। (তিরমিজি)

হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা:) এরশাদ করেন- ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর পেল কিন্তু ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে কাটাতে পারলো না তার মতো হতভাগা দুনিয়াতে আর কেউ নেই! রাসূল (সা:) আরো বলেন, যে লোক শবে কদর থেকে বঞ্চিত হয় সে যেন সমগ্র কল্যাণ থেকে পরিপূর্ণ বঞ্চিত হল। (ইবনে মাজাহ)

হযরত আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা আমি রাসূল (সা:) কে জিজ্ঞাসা করলাম হে আল্লাহর রাসূল আমি যদি কদরের রাত সর্ম্পকে অবহিত হতে পারি তবে আমি কি করব? তখন রাসূল (সা:) আমাকে এই দুয়া পাঠ করার জন্য বললেন। দুয়াটি হল, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি’।

রমজনের বেজোড় রাতে হওয়ার শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমরা রমাযানের শেষদশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ কর। (বুখারি)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও এরশাদ করেন যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর পেতে চায়, সে যেন রমাযানের শেষ সাত রাতের মধ্য তা অন্বেষণ করে’।(মিশকাত)

হে আল্লাহ! আপনি তো ক্ষমার আধার, আর ক্ষমা করাকে আপনি ভালোবাসেন। কাজেই আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (তিরমিজি)
লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট কোন তারিখ নেই। লাইলাতুল কদরের তারিখের ব্যাপারে হযরত উবায়দা (রা:) নবী করীম (সা: কে জিজ্ঞাসা করলে তখন নবী (সা:) সেই সাহাবীকে বললেন রমজানের বেজোড় শেষের দশ দিনের রাতগুলোকে তালাশ করো’। তাই রমজানের শেষ দশকের বেজোগড় রাতসমুহকে বেশি গুরুত্ব দেয়া জরুরি।

অশেষ ফজিলতের রজনী লাইলাতুল কদরকে যথাযথভাবে ইবাদত -বন্দেগীতে মনোনিবেশ করা কর্তব্য। বেশি বেশি নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, সালাতুস তাসবিহ, উমরী কাজা নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সাদকা, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইসতেগফার, দুয়া-দুরূদসহ ইত্যাদি নফল আমলের প্রতি মনযোগী হওয়া একান্ত জরুরি।