রাজধানীতে ট্রেনের গতি কম থাকার ৮ কারন

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট 


প্রতিদিন রাজধানী ঢাকার ওপর দিয়ে প্রায় ১০০ ট্রেন আসা-যাওয়া করে। তবে ঢাকার রেলপথে চলতে গিয়ে ট্রেনের গতি এতই কম যে, কোথাও দাঁড়িয়ে যেতে হয়। ধীরগতির শুরুটা হয় ঢাকায়। একই অবস্থা হয় ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার সময়ও। গত দেড় বছরে রাজধানীতে ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ৪ কিলোমিটার কমিয়ে আনা হয়েছে। ট্রেনের ধীরগতির কারণে রাজধানীতে যানজট বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও বাড়ছে।

যে গতিতে রাজধানীতে চলছে ট্রেন :

ব্রডগেজ ও মিটারগেজ ২ ধরনের রেললাইন রয়েছে রাজধানী ঢাকায়। এর দৈর্ঘ্য ৩৫ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলার উপযোগী করে ব্রডগেজ রেললাইন প্রস্তুত করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার গতি নিয়ে ট্রেন চললেও মিটারগেজ রেললাইনের কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু ঢাকার সীমানায় আসার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের গতি হয়ে যায় মন্থর। গত ১ বছরে ঢাকায় ট্রেন চলাচলে গতি ঘণ্টায় ৪ কিলোমিটার কমিয়ে ৩৬ কিলোমিটার থেকে ৩২ কিলোমিটার করা হয়েছে।

৫ বছর আগে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে তেজগাঁও রেলস্টেশন পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো হতো। কয়েক বছর পর ৩ কিলোমিটার কমিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৬ কিলোমিটার একটি ট্রেনের গতি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ আরও ৪ কিলোমিটার গতি কমানো হয়। এখন কমলাপুর থেকে তেজগাঁও রেলস্টেশন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩২ কিলোমিটার গতি নিয়ে চালানো হয় ট্রেন। তেজগাঁও থেকে টঙ্গী পর্যন্ত রেললাইনে ট্রেনের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা আছে ৬২ কিলোমিটার। টঙ্গী থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ট্রেন চলে ৭৫ কিলোমিটার গতিতে।

ট্রেন গতি কমার ৮ কারণ : 

৮ কারণে ট্রেনে গতি কমিয়ে আনা হয়েছে এগুলো হলো :

১. রেললাইনের ওপর দিয়ে মানুষের চলাচল, ২.দুপাশে অবৈধ স্থাপনা, ৩.রেললাইনের ওপর বাজার, ৪.রেললাইনের পাথর তুলে নেওয়া, ৫.পাথর নিক্ষেপ, ৬. ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগির ছাদে মানুষ দাঁড়ানো, ৭. অসংখ্য লেভেল ক্রসিং এবং রেললাইনে পানি জমে থাকা ৮. লোকজনের চলাচল ও চুরির কারণে পাথর থাকছে না।

জানা যায়, একটি ট্রেনের সম্পূর্ণ ওজন চাকাগুলোর ওপর এসে পড়ে। সেখান থেকে এই ভার পড়ে রেললাইনের নিচে থাকা স্লিপারে। ট্রেনের সঙ্গে স্লিপারের ভারসাম্য রাখতে রেললাইনে পাথর বা ব্যালাসড বসানো হয়। কিন্তু ঢাকায় রেললাইনে এখন পাথর রাখা যাচ্ছে না। ট্রেনের গতিবেগের সঙ্গে কম্পনের বিষয়টিও জড়িত। এসব বিবেচনা করে রেললাইন নির্মাণ করা হয়। ট্রেন চলাচলে প্রতি বছর ১০ শতাংশ পাথর মাটির সঙ্গে মিশে যায়। তবে রাজধানীতে রেললাইনের ওপর ২৪ ঘণ্টাই মানুষের চলাচল করে। এর ফলে রেললাইনের ওপর পাথর থাকছে না। অনেক জায়গায় পাথর চুরি হয়ে যায়। তাই পাথর না থাকায় গতি কমিয়ে চলছে ট্রেন।

এদিকে টঙ্গী ও উত্তরা থেকে ঢাকায় স্বল্প সময়ে যাতায়াতের জন্য যাত্রীরা ট্রেনকে বেছে নেন। আন্তনগর বা ডেমো ট্রেনের কোনো বাছবিচার করা হয় না। উত্তরায় বিমানবন্দর স্টেশনে আসার পর হুড়মুড় করে লোকজন ট্রেনের ইঞ্জিন ও ছাদে উঠে যায়। বাধা দিলে অনেকে ক্ষিপ্ত হয়ে পাথর ছুড়ে মারে। তাই চালকেরা ধীরগতিতে ট্রেন চালাতে বাধ্য হন।

রেললাইনে পানিনিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকাও ট্রেনের গতি কমার বড় কারণ বলে ধরা হয়। ঢাকা শহরের রেললাইনের ওপর অসংখ্য মানুষ চলাচল করে। এ কারণে রেললাইনে বর্জ্য জমাট বাঁধে। তা ছাড়া রেললাইনের স্লিপারের পাশের জায়গাগুলোয় মাটি উঠে আসে। বৃষ্টি হলে তাই রেললাইনে পানি জমে যায়। ভারী বৃষ্টিতে রেললাইনের ওপর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। গেন্ডারিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জ রুটে রেললাইনে এ অবস্থা বেশি দেখা যায়। জলাবদ্ধতার কারণে মাটি নরম হয়ে রেললাইন বসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে লাইনচ্যুতও হতে পারে ট্রেন। এ জন্য ট্রেনে গতি কমিয়ে আনা হয়।

ক্রসিং বেশি থাকার কারণেও ট্রেনের গতি কম। জানা গেছে, প্রতি এক কিলোমিটারের একটি করে রেলক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে বৈধ ৩১টি এবং অবৈধ অর্ধশত রেলক্রসিং রয়েছে। সব মিলিয়ে টঙ্গী রেলস্টেশনের পর ঢাকার ৭০টি রেলক্রসিং অতিক্রম করে একটি ট্রেনকে কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত যেতে হয়।