রিজভীর প্রশ্ন; বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী কার মুখপাত্র ছিলেন?

রুহুল কবির রিজভি (1)প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুখপাত্র হয়ে থাকলে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী কার মুখপাত্র ছিলেন, এটা গোটা দেশবাসী জানে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী আদালত প্রাঙ্গণকে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কেন্দ্র বানানোর চেষ্টা চালিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি খালেদা জিয়ার মুখপাত্র বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর এ বক্তব্যের ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী এই মন্তব্য করেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে ওই সংবাদ সম্মেলন হয়।

সাংবাদিকদের ওই প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর উদ্দেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, যদি প্রধান বিচারপতি খালেদা জিয়ার মুখপাত্র হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি কার মুখপাত্র ছিলেন, এটা দেশবাসী জানে। তিনি বলেন, দেশের উচ্চ আদালত মানুষের শেষ ভরসাস্থলকে আপনারা বানিয়ে তুলেছিলেন আওয়ামী শাসক গোষ্ঠীর কর্মসূচি বাস্তবায়নের কেন্দ্র। সেটা যখন সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছেন না, তাই খেদ হচ্ছে। মানুষের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে বলেই এ আক্রমণ।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সত্য কথা বলা বন্ধের প্রথম ভূমিকা রেখেছিলেন, আদালতের মতো পবিত্র অঙ্গনকে কলুষিত করেছিলেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী। তিনি আদালত প্রাঙ্গণকে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কেন্দ্র বানানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। আজ যখন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ন্যায্য কথা বলছেন, সত্য, সংবিধান এবং আইনের শাসনের কথা বলছেন, এখন তা সহ্য করতে পারছেন না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এ দেশে ব্রিটিশ আমল থেকে উচ্চতর আদালত কখনো এত বিতর্কিত ও অশ্রদ্ধেয় হয়নি। এটা করেছেন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী আর খায়রুল হকরা (সাবেক প্রধান বিচারপতি ও বর্তমান আইন কমিশনের চেয়ারম্যান)।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর কথা শুনলে মনে হবে একজন ‘কসাই’ কথা বলছে। কোনো বোধ, বুদ্ধি বিচারসম্পন্ন মানুষের কথা এগুলো নয়। এর কারণে তিনি বিভিন্ন সময়ে মানুষের রোষানলে পড়েন। এখন প্রধান বিচারপতি যখন ন্যায় ও আইনের পক্ষে কথা বলছেন, তখন তা সহ্য হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনের মূল বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী ‘আমার দেশ’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, বিএনপির নেতা এম কে আনোয়ার, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানিসহ কারাবন্দীদের মুক্তি দাবি করেন।