হুজুরের ইয়াবা ব্যবসা; পুরো ঘটনাটাই সিনেমাটিক

সাইমুম সাদী | সাহিত্যিক, সমাজ বিশ্লেষক


পুরো ঘটনাটাই সিনেমাটিক হয়ে গেল! এগুলো আমরা সিনেমায়, নাটকে দেখি, বাস্তবে কঠিন। হুজুর ইয়াবাবা নিয়ে বের হলেন ওৎ পেতে থাকা গোয়েন্দা ঝট করে ইয়াহু বলে ধরে ফেললেন. এবং সময়মত সময় টিভিও হাজির!

স্ক্রিপ্ট রাইটার চেঞ্জ করা অতি জরুরী । দুর্বল কাহিনী দিয়ে সবাই বিপদে পড়বেন।

আজ হজুরের মাদক সংক্রান্ত ঘটনার কোন বিশ্লেষণ করছিনা। আমার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে ছোট্ট একটা ব্যাপার নিয়ে। মিডিয়া বলতে ভুলেনি যে এই হুজুর পটিয়া ও দেওবন্দ মাদ্রাসা থেকে মাওলানা হয়ে এসেছেন।। এবং জানতে পারলাম এটা সঠিক না। অন্তত পটিয়া মাদ্রাসায় উনি কখনো পড়েননি।

এ পর্যন্ত শতাধিক লোক কতল হয়েছেন ক্রসফায়ার নামক কথিত যুদ্ধে এই অভিযান চলাকালে। গ্রেফতার হয়েছেন কয়েক হাজার। কে কোথায় পড়েছেন মিডিয়া কখনো বলেছে? বলেনি। কিন্তু এইক্ষেত্রে বলার উদ্দেশ্য কি?

খুব সহজ বিষয়, পটিয়া মাদ্রাসা বাংলাদেশের শীর্ষ মাদ্রাসা। এদেশের উলামায়ে কেরামের কাছে দেওবন্দ একটি আলাদা চেতনা বহন করে। শুধু ইলমি ঐতিহ্য নয়, বৃটিশ বিরোধি আজাদি আন্দোলনের একটি গৌরবময় ইতিহাস বহন করে চলেছে।

দেওবন্দ, এবং এর অনুসারী হিসেবে উলামায়ে কেরাম প্রাউড ফিল করেন। দেওবন্দি এবং কওমিয়ান বলে আলেমরা রাজপথে ঝাপিয়ে পড়েন। হেফাজতের মত নিরস্ত্র একটা আন্দোলন তৈরি হয়ে যায় কওমি আলেমদের নেতৃত্বে, অতএব এই চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করাটা অতি জরুরি।

সেকুলার এবং এন্টি ইসলামি থিংক ট্যাংক হয়ত এই এজেন্ডা দিয়েছে যে, দেওবন্দের অনুসারী যারা তারা মাদক বিক্রেতা, চরিত্র খারাপ এইসব নিউজ ব্যাপকভাবে করতে হবে, তাহলে জনমনে এদের সম্পর্কে খারাপ ধারণা হতে বাধ্য।

সেকুলার মিডিয়া এক সময় কওমি মাদ্রাসায় জংগি প্রমাণে ব্যাস্ত ছিল। প্রধানমন্ত্রী থেকে নিয়ে প্রশাসনের সকল স্তর থেকে যখন বলা হল, কওমিতে জংগি নেই তখন তারা রণেভংগ দিয়েছে। মুন্নি সাহাকে দিয়ে মাঝেমধ্যে কাতুকুতু দেয়ার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি, উল্টো হাস্যকর হয়েছে।।

কওমি এবং দেওবন্দ এইদেশে একটা সামাজিক শক্তির নাম। একটি দ্বিনি চেতনার নাম। এই শক্তিকে বলপ্রয়োগ কতে দমাতে গেলে সামাজিক ক্ষোভ দেখা দেবে, তারচেয়ে এরা চরিত্রহীন এইকথা যদি সামাজিকভাবে প্রচার করা যায় তাহলেই এদের আস্থার জায়গাটা নষ্ট হবে, দুর্বল হয়ে পড়বে।

আমি অবাক হবনা, আরো কয়েকজন মাদকাসক্ত গেফতার হয়ে যদি ক্যামেরার সামনে হড়হড় বলে যে, আমি হাটহাজারি এবং দেওবন্দ ফেরত আকাবিরে কওমিয়ান ছিলাম!

আমাদের বরং চিন্তার পুণর্গঠন করা উচিত, আমরা ইনসাফ এবং আওয়ার ইসলাম এর মত আরো অসংখ্য মিডিয়া তৈরির উদ্যোগ নেব নাকি যা আছে তা নিয়ে সন্তোষ্ট থাকব।

মিডিয়া কর্মী যদি আপনার না হয় তাহলে মিডিয়াতে শুধু দেখতেই থাকবেন, শুনতেই থাকবেন, ‘গ্রেফতারকৃত এই হুজুর দেওবন্দ এবং পটিয়া মাদ্রাসায় পড়েছেন বলে জানা গেছে’।


ফেসবুক থেকে