মসজিদ বন্ধ করে সভ্যতার দাবীদার ইউরোপিয়ানরা তাদের ভণ্ডামির মুখোশ খুলে দিয়েছে: আল্লামা কাসেমী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


ফাইল ছবি

অস্ট্রিয়ায় সাতটি মসজিদ বন্ধ করে দেয়া এবং ৬০ জন ইমামকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের খবরে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী। তিনি বলেন, সভ্যতার দাবীদার ইউরোপীয়দের ভণ্ডামির মুখোশ বিশ্ববাসীর সামনে দিন দিন আরো স্পষ্ট হচ্ছে। ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো, মিথ্যাচার ও বর্ণবাদী আচরণে ইউরোপের বেশ কিছু দেশ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মারাত্মক লঙ্ঘন করে চলেছে।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী অবিলম্বে মসজিদ বন্ধ ও ইমাম বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় অস্ট্রিয়ার বর্তমান সরকার ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন এবং সৃষ্টিকর্তার মহান আল্লাহর গজবের মুখে পড়বেন।

আজ (১১ জুন) সোমবার সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক প্রতিবাদ লিপিতে জমিয়ত মহাসচিব আরো বলেন, ইউরোপীয়দের সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের ইতিহাস অনেক পুরনো। মুসলমানদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে একের পর এক ক্রুসেড চালানোর ইতিহাস তাদের রয়েছে। সম্পৃদ্ধ স্পেন গড়ার কারিগর মুসলমানদের বিরুদ্ধে বর্বর হত্যাকাণ্ড ও নিষ্ঠুর উচ্ছেদাভিযান তাদের এক কালো অধ্যায়। এই ইউরোপীয়রাই ইহুদীদেরকে নিজেদের দেশ থেকে কৌশলে উচ্ছেদ করে ফিলিস্তিনের আরবভূমির উপর চাপিয়ে দিয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যকেই অগ্নিগর্ভ করে রেখেছে।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী আরো বলেন, বর্তমান আধুনিক বিশ্বে মানুষ শিক্ষা-দীক্ষা ও সভ্যতায় অনেক এগিয়ে গেলেও পশ্চিমারা এখনো তাদের সেই পুরনো মুসলিম বিদ্বেষের মতো চরম সাম্প্রদায়িক মনোভাব পরিত্যাগ করতে পারেনি। ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশেই উগ্রবাদী বর্ণবাদিরা মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিতে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুসমানদের দাড়ি, টুপি, ইসলামী শিক্ষা এবং মসজিদ প্রতিষ্ঠা ও নামায আদায়ে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। মাইকে আযান নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। মুসলমানদের ইবাদতগাহ মসজিদ নির্মাণে বাধা দেয়া হচ্ছে। মসজিদে শূকরের মাংস নিক্ষেপের মতো বর্বর ঘটনা ঘটতে দেখা যায় ইউরোপ জুড়ে। মুসলিম নারীদেরকে বোরকা, হিজাব পরতে বাধা দেয়া হচ্ছে। ধর্মকর্মের কারণে ইউরোপের অনেক জায়গায় মুসলমানদের হামলার শিকার হওয়ার খবর আমরা প্রায়শ:ই দেখতে পাই। অথচ তারাই মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে আমাদেরকে সবক দিতে আসে।

আল্লামা নূর হোসাইনে কাসেমী অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ানের নেতৃত্বের সরকারকে চরম রেইসিস্ট উল্লেখ করে বলেন, তারা যেটা করতে চাচ্ছে তাতে পুরো ইউরোপ অগ্নিগর্ভে পরিণত হতে পারে। এমন আচরণ ইউরোপের সামাজিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত, অস্ট্রিয়াসহ ইউরোপের যেসব দেশে পরিকল্পিতভাবে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, সেসব বন্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া। কারণ, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ বিশ্বশান্তির জন্য মারাত্মক হুমকিজনক।

বিবৃতিতে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী আরো বলেন, ইউরোপীয়দেরকে সভ্যতা উপহার দিয়েছে মুসলমানরা। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে মুসলমানদের কাছ থেকেই তারা পথনির্দেশিকা ও উৎসাহ পেয়েছে। অথচ তারা ইতিহাসের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে। তিনি বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে প্রকাশ্যে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালানোর ঘোষণা দিয়ে থাকে, সভ্যবিশ্বের জন্য এটা মারাত্মক হুমকি। ভিন্ন ধর্মের মানুষদের প্রতি রাজনৈতিক দল ও নেতাদের এমন ন্যাক্কারজনক হুমকির কোন নজির মুসলিম অধ্যুষিত কোন দেশে কেউ দেখাতে পারেবে না।

তিনি বলেন, বিশ্বের কোন একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশেও অমুসলিমদের গীর্জা, মন্দির, প্যাগোড়া বন্ধ করে দেয়ার নজির নেই। অমুসলিমদের ধর্মকর্মে মুসলমানরা কখনো বাধা দেয় না। কারণ, ইসলাম সবসময় ভিন্ন ধর্মের মানুষদের প্রতি সহনশীল ও সংযত আচরণে অত্যন্ত সতর্ক।