শিশু মারিয়া হত্যায় দুই জনের ফাঁসি

134123_1কোনাবাড়িতে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে স্কুলছাত্রী মারিয়া হত্যার দায়ে বাড়ির কেয়ারটেকার সুমন শেখ ও দারোয়ান আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

একই ঘটনায় দারোয়ানের স্ত্রী শেফালী বেগমকেও দেয়া হয়েছে ৫ বছরের কারাদণ্ড।

মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক এ আদেশ দেন। এ সময় আসামি আব্দুল আলিম ও তার স্ত্রী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

নিহত মারিয়া গাজীপুর শাহীন ক্যাডেট একাডেমি, কোনাবাড়ি শাখার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা মো. আক্তারুজ্জামান কোনাবাড়ি বিসিক শিল্প এলাকার আজিজ ফুড কারখানার ম্যানেজার।

মারিয়াদের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের লক্ষ্মীপুরে। এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়। পরিবার নিয়ে তার বাবা আক্তারুজ্জামান কোনাবাড়ির এসবার নগরের এআর মঞ্জিলের তৃতীয় তলায় নিজ ফ্ল্যাটে থাকতেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই সকালে মারিয়া আক্তার স্কুলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। বিকেলে তাকে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ খবর নেয়া হয়। পরে বাড়ির কেয়ারটেকার সুমন শেখ ও দারোয়ানকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানে না বলে জানায়। কিন্তু মারিয়ার আত্মীয় স্বজনরা বাড়ির গ্যারেজের ভেতর খোঁজ করতে চাইলে দারোয়ান আব্দুল আলিম ও তার স্ত্রী মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করে। রাতে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তদের হেফাজত থেকে গ্যারেজের চাবি নিয়ে তালা খুলে সুমনের চৌকির নিচে মারিয়ার মরদেহ দেখতে পায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তদের আটক করে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আক্তারুজ্জামান ১৫ জুলাই জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলম চাঁদ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত সুমন শেখ ও আব্দুল আলিমকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেন। একই সাথে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সরকারি পিপি অ্যাডভোকেট হারিছ উদ্দিন আহমদ ও আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট এস এম রফিকুল ইসলাম মুকুল। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নিহতের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মারিয়ার পরিবার সূত্র জানায়, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কেয়ারটেকার সুমন শেখের বাড়ি ফরিদপুর সদরের মমিনখার হাট এলাকায়। আট বছর বয়স থেকে মারিয়ার পরিবারের সঙ্গে থাকতো সুমন। আগে বাসায় কাজের ছেলে হিসেবে কাজ করতো। কিন্তু মারিয়া বড় হওয়ার পরে তাকে ঘর থেকে সরিয়ে অফিসের পিয়ন পদে চাকরি দেন আকতারুজ্জামান। সেই সঙ্গে থাকা খাওয়ারও ব্যবস্থা করে দেন।

মারিয়ার বাবা সুমনকে খুব বিশ্বাস করতেন। তার পরিবারকে বিপদে-আপদে সাহায্যও করতেন। ঈদ উপলক্ষে সুমনের মা-বাবার জন্য জামা কাপড়ও কিনে দিতেন। কিন্তু এতোকিছুর পরেও সুমনের কুদৃষ্টি পড়েছিল মারিয়ার ওপর। ঘটনার দিন ধর্ষণে ব্যর্থ হয়েই হত্যা করা হয় মারিয়াকে।