মার্কিন নওমুসলিমের প্রথম রোযার অভিজ্ঞতা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট 


জেরেমি রান্ডাল এবং আরিয়াম মুহাম্মাদ চলতি বছরের ৫ মে যখন তাদের বিবাহের তারিখ নির্ধারণ করেন, ৩৯ বছর বয়সী জেরেমি রান্ডাল ছিলেন একজন খ্রিস্টান। আরিয়াম মুহাম্মাদেড় অনুরোধে চলতি বসন্তের শুরুতে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। একমাস আগে বিয়ে করেছেন এবং তারপরই রমজান চলে এসেছে। এটি রান্ডালের জন্য প্রথম রমজান এবং দম্পতি হিসেবে তার ও আরিয়ামের জন্য প্রথম রমজান। বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মুসলিমদের মতো তারাও রোজা পালন, প্রার্থনা ও আত্মত্যাগে অংশ নিচ্ছেন।

এই দম্পতি ওয়াশিংটন ডি.সি’র বাসিন্দা। সেখানে এখন বসন্তকাল চলছে। বসন্তকালের দীর্ঘতম দিনগুলোতে তাদেরকে টানা প্রায় ১৬ ঘন্টা উপবাস থাকতে হচ্ছে। তাদেরকে সকালে ফজরের নামাজের আগে ভোর ৪টা ০৮ মিনিটের আগে সেহরির খাবার শেষ করতে হয় এবং সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের আগে ৮টা ৩৫ মিনিটে তাদের ইফতারের সময় শুরু হয়।

রান্ডাল হলেন আরিয়াম মুহাম্মাদের দ্বিতীয় স্ত্রী। ৫ বছর আগে তার প্রথম স্ত্রী ক্যান্সারে মারা যান। তার প্রথম সংসারে জেরেমিয়া নামে ১০ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে। রান্ডাল ওয়াশিংটনের হোয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট অফিসার। তিনি চিকাগোর নেপারভিলে আফ্রিকান মেথোডিস্ট এপিসকোপাল চার্চের একটি ধর্মীয় পরিবারে বেড়ে ওঠেন। রান্ডাল বলেন, আরিয়াম আমাদের জীবনে যে আনন্দ ও সৌন্দর্য এনেছে, তার তুলনায় একটু কম খাবার, একটু কম পানীয়, সামান্য অস্বস্তি অত্যন্ত ক্ষুদ্রতর। নতুন বিশ্বাস অধ্যয়ন করছেন তার রমজান অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উপবাস সম্পর্কে আরো কিছু আবিষ্কার করেছেন। ‘রোজা স্পষ্টভাবে মন এবং আত্মাতে শক্তিশালী করে -আমি এটিতে বেশ আরামবোধ করছি।

আরিয়াম মুহাম্মাদ পেশায় একজন মানব সম্পদ অফিসার। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে পেশাগত কাজের জন্য দুবাইতে যাওয়ার আগে তার একজন বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে তাদের দু’জনের প্রথম পরিচয় ঘটে। আরিয়াম বলেন, আমাদের মধ্যে ধর্ম একটা বাধা ছিল, যা নিয়ে আমাদের সম্পর্কে ব্যাপক কথোপকথন হয়েছে। কিন্তু আমরা উভয়ই একে অপরের প্রতি প্রকৃতই আগ্রহী ছিলাম। এ কারণে সব বাধা অতিক্রম করতে পেরেছি।’