চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যায় পানির নিচে অধিকাংশ এলাকা; বন্যার্তদের পাশে হেফাজত

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আরিফুল ইসলাম


পানিতে তলিয়ে গেছে মেখল মাদ্রাসা

টানা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামে নজিরবিহীন বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পরেছেন লক্ষাধিক মানুষ। অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। গত ৬০ বছরে এমন বন্যা কেউ দেখেনি বলে জানান স্থানীয়রা।

চট্টলার মেখল মাদরাসার সহযোগী শিক্ষা পরিচালক মাওলানা জাকারিয়া নোমান জানান, হাটহাজারী পৌরসভা,ফটিকছড়ি, মেখল, গড়দোয়ারা,মাদার্শা, ছিপাতলি, ফরহাদাবাদ, গুমানমত্তন, ফতেপুর সহ প্রায় উত্তর চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে।

তিনি আরো জানান, মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থাও প্রায় বিচ্ছিন্ন। গাড়ির বদলে নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও খাবারের ভোগান্তি এবং সর্বোপরি জনসাধারণের জীবনযাপন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ হতে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, প্রশাসনের কোন কাজ দৃষ্টিগোচর হয়নি। তবে হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠন সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী এক বিবৃতিতে উত্তর চট্টগ্রামকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করার দাবি জানান। তিনি হেফাজতে ইসলাম নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও বিত্তবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান। তিনি সকল মানুষকে আল্লাহ’র নিকট দোআ, এস্তেগফার ও তওবা করার জন্য বলেন।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন,”হাসপাতালের নিচতলা পানির নিচে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সাপেকাটা চার রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

পটিয়া থেকে ইনসাফ প্রতিনিধি মাহবুবুল মান্নান জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রামেও বন্যার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির পাশাপাশি জোয়ারের পানি আসায় চন্দনাইশ উপজেলার বরকল, সাতবাড়ীয়া,বরমা, দোহাজারী ও বৈলতলী ইউনিয়ন এবং পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা,জঙ্গলখাইন,আশিয়া,কৈয়গ্রাম, শোভনদন্ডী ও ভাটিখাইন ইউনিয়নে বন্যার পরিস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে। মেইন রোড ছাড়া সবজায়গায় যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। জনমানুষের চলাফেরা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।