শোলাকিয়া ঈদগাহে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, অাকাশে উড়বে ড্রোন ক্যামেরা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


ফাইল ছবি

কিশোরগঞ্জের শহরের উপকণ্ঠে নরসুন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত উপমহাদেশের প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহের চেকপোস্টে সনত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ঈদগাহ জামাতের ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদকে টার্গেট করে ওই হামলা চালানো হয়। তবে পুলিশ সদস্যরা সে হামলা রুখে দেন। ঈদগাহ ময়দানের অনতিদূরের জঙ্গি হামলা এড়িয়ে ৪ লাখ মুসল্লী শরিক হন সবচেয়ে বড় এই ঈদুল ফিতরের জামাতে।

ওইবছর হামলার ঘটনার পর শোলাকিয়ার ঈদজামাতকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়। মাঠ ও মাঠের আশপাশের এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয়। আর এ নিরাপত্তাব্যবস্থার গভীর পর্যবেক্ষণে এবার থাকছে ড্রোন ক্যামেরা।

দীর্ঘ ১ মাসের সিয়াম সাধনা শেষে মুসলমানরা তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উৎযাপন করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরের মতো এবারও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৯১তম ঈদুল ফিতরের জামাত।

ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায়। জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

news-imageলাখো মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায়ে অধিক সওয়াবের আশায় এ মাঠে অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতরের জামাতে প্রতি বছর দেশ-বিদেশের প্রায় ৪ লাখেরও বেশি মুসল্লীর সমাগম ঘটে থাকে। এবারের ঈদ জামাতকে ঘিরে আরো সুচারু ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছে ড্রোন। নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির জন্য ২টি ড্রোন উড়বে শোলাকিয়ায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে মাথায় রেখে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান অঞ্চলকে ১৬টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। ২৪টি চেকপোস্ট ও ১২টি পিকেট ব্যবস্থা থাকছে। মাঠে স্থাপন করা হয়েছে ৬ টি ওয়াচ টাওয়ার। এর ৪ টিতে পুলিশ বাহিনী ও ২ টিতে র‌্যাব বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়ে ঈদজামাতের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা তদারকি করবেন।

ঈদগাহ ময়দান, আশেপাশের এলাকা এবং অলিগলিসহ মাঠ সংলগ্ন চারপাশের অন্তত ২ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে আসা হচ্ছে কোজ সার্কিট ক্যামেরায় আওতায় থাকবে। ঈদগাহ ময়দানের মোট ২১টি প্রবেশ পথের মধ্যে মুসল্লিদের জন্য ৬ টি প্রবেশপথ উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে। সেসব প্রবেশ পথে স্থাপিত আর্চওয়ে দিয়ে মুসল্লিদের ঢুকতে হবে ঈদগাহ ময়দানে। এর আগে আরো অন্তত ৩ দফা মেটাল ডিটেক্টরে মুসল্লীদের দেহ তল্লাসি করা হবে।

এছাড়াও রয়েছে ময়মনসিংহ থেকে একটি স্পেশাল ট্রেন ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে সকাল সাড়ে ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছবে এবং অপর একটি স্পেশাল ট্রেন ভৈরব থেকে ভোর ৬টায় ছেড়ে সকাল ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছবে। জামাত শেষে দুপুর ১২টায় ওই ঈদ স্পেশাল ট্রেন দুটি নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে কিশোরগঞ্জ ছেড়ে যাবে।

উল্লেখ্য জনশ্রুতি আছে, প্রায় ৭ একর আয়তনের এই মাঠে একবার ২৬৫টি কাতারের প্রতিটিতে ৫০০ জন করে মোট সোয়া লাখেরও বেশি মুসল্লি একসঙ্গে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। বর্ত মানে ৪ লাখের বেশী মুসল্লী এক সাথে নামাজ আদায় করেন। সেই থেকে এ ঈদগাহ ময়দানটিকে সোয়লাখিয়া নামে ডাকা শুরু হয়। কালক্রমে উচ্চারণ বিবর্তনের কারণে শোলাকিয়া নামে পরিচিতি লাভ করে।