২৯ মিনিটের বক্তৃতার ২২মিনিটই শহীদ জিয়ার সমালোচনা করলেন বিচারপতি মানিক

বিচারপতি শামসুদ্দিনপ্রায় ২৯ মিনিটের বক্তৃতায় ২২মিনিটই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সমালোচনা করলেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন হায়দার চৌধুরী মানিক।

মঙ্গলবার বিকালে ধানমন্ডির বিলিয়া মিলনায়তনে কবীর চৌধুরী স্মারক বক্তৃতা-৫ অনুষ্ঠানে তিনি সমালোচনা করেন। বক্তৃতার বিষয়বস্তু ছিল ‘বাংলাদেশে জঙ্গি মৌলবাদ : বিপন্ন মুক্তচিন্তা’।

বিচারপতি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ‘দেশকে অসাম্প্রদায়িক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা থাকলেও জিয়াউর রহমান তা হতে দেননি। ’৭৫ এরপর তিনি গোলাম আযমসহ অন্য যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে রাজনৈতিক অধিকার দেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্রেও ছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল দেশকে পাকিস্তান বানানো।

অনুষ্ঠানে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা সাংবাদিক কামাল লোহানীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে অধ্যাপক অজয় রায়, কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. নুজহাত চৌধুরী বক্তৃতা করেন।

সামসুদ্দিন আরও বলেন, জিয়াউর রহমান দেশে জামায়াতের পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের সম্পদের পাহাড় গড়তে সহায়তা করেন। মীর কাশেম, সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ অনেক যুদ্ধাপরাধীই দেশে সম্পদের পাহাড় গড়েন। এভাবে জামায়াতের আর্থিক মেরুদ- শক্ত হয়। তাদের এ মেরু- ভাংতে হবে।
বিচারপতি বলেন, বিলেতে পড়াশোনার সময় শুনিইনি, জিয়াউর রহমান নামের কেউ আছেন। তার দল আজকে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কাজ করে, তার স্ত্রী শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে। যুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান ওপারে কী পাকিস্তানের চর হিসেবে গিয়েছিলেন, নাকি অন্য কারণে তা নিয়ে আজকে প্রশ্ন উঠেছে। যুদ্ধে তার ভূমিকা কী বাংলাদেশের জন্য নাকি পাকিস্তানের জন্য ছিল তা স্পষ্ট। গবেষকরা এ নিয়ে আরও কাজ করছেন।

বাংলাদেশস্থ পাকিস্তানি দূতাবাস নিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের দাবি উঠেছে। যদি এটা বাস্তবায়ন না করা যায়, তবে তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক যেন নিু পর্যায়ে রাখা হয়। এই দূতাবাস দেশে জঙ্গিবাদের ইন্ধন দিচ্ছে।

পাকিস্তান কখনই বাংলাদেশে বন্ধু হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ৯৫ হাজার সৈন্য হারানোর গ্লানি পাকিস্তান কখনই ভুলতে পারবে না। মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও তিনি সমালোচনা করেছেন। পুলিশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের অনেক জাতীয় সংকট পুলিশ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে। কিন্তু এই যে ব্লগারদের হত্যাকারী কারা, তাদের চিহ্নিত করতে পারল না, এটা কলঙ্কজনক।