‘খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ; গণতন্ত্র উদ্ধারে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ’

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান।

আজ বুধবার বিকেল ৫টায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে যান তিনি।

কারাগার থেকে বেরিয়ে আহমেদ আজম খান গণমাধ্যমকে বলেন, “বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ্, তিনি গণতন্ত্র উদ্ধারে নেতা-কর্মীদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করতে বলেছেন।”

তিনি বলেন, “ম্যাডাম বলেছেন তার চিকিৎসার করানো জরুরী কিন্তু তা না করে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল ও সিএমএইচ এই দুই প্রতিষ্ঠানকে সরকার অযথাই বিতর্কিত করছে। সরকার এটা নিয়ে রাজনীতি করছে। একবার বলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে একবার বলে সিএমএইচে। এই দুটি প্রতিষ্ঠানকে সরকার অযথায় বির্তকিত করছেন। এই দুটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমার তো কোনো বির্তক নেই। কোনো অভিযোগ নেই।”

“আমি ইউনাইটেড হাসপাতালে আগে চিকিৎসা করিয়েছি। ওখানকার ডাক্তাররা আমার রোগ সর্ম্পকে জানেন। ওখানে আমি স্বস্তিবোধ করবো। অযথা এই দুটো প্রতিষ্ঠানকে সরকার বিব্রত করছে।” বলেন খালেদা জিয়া।

আজম খান বলেন, “ম্যাডামের শরীর ভালো না এটাতো সবাই জানেন। ৭৪ ঊর্ধ্ব মানুষ ওনার বিভিন্ন ধরণে রোগ রয়েছে যা আমি বলতে পারবো না। কারণ আমি ডাক্তার নই। ওনার শরীর ভীষণ খারাপ। ওনার এই মুর্হূতে চিকিৎসার দরকার।”

তিনি জানান, রাজনীতি প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেছেন, গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধারে যে আন্দোলন চলছে তা বেগবান করার নির্দেশ দিয়েছেন। এবং এই অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ওনি বাইরে থাকুন আর ভেতরে থাকুন ওনি নেতৃত্ব দেবেন।

খালেদা জিয়া গণমাধ্যমেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। গণমাধ্যম যেভাবে ওনার নির্জন কারাবাস ও অসুস্থতার খবর তুলে ধরেছেন এজন্য। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন শান্ত থাকার জন্য। নিবার্চনকালিন সময়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া জনগণ নিবার্চন মানবে না, এমনটিই বলেছেন খালেদা জিয়া।

নিবার্চন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেছেন, ওনাকে জেলে রেখে যে নির্বাচন সরকার করতে চান সেটা কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না। ৫জানুয়ারি যে ধরণের নির্বাচন হয়েছে ওই নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দেয়নি। ওনাকে জেলে রেখে একটা অর্থহীন নির্বাচন দেশের মানুষ দেখতে চান না।

এর আগে আজ খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছেন তাঁর চার স্বজন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় কারাগারে যান খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, ভাতিজা অভীক ও ভাগ্নে মামুন।

প্রায় সোয়া ঘণ্টা ভেতরে অবস্থানের পর বিকেল পৌনে ৬টার দিকে জেলগেট দিয়ে তাঁরা বেরিয়ে আসেন। তবে এসময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি কেউ।