সংকট মোকাবেলায় এই মুর্হূতে দরকার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন | insaf24.com

সংকট মোকাবেলায় এই মুর্হূতে দরকার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন

মারুফ কামাল খান (খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব)


মারুফ-কামাল-খানযা জানা গেলো:
গুলশান ট্রাজেডিতে ২৮জন নিহত। এদের দু’জন পুলিস অফিসার, ২০জন পণবন্দী হিসেবে আটক বিদেশী নাগরিক। বাকী ৬ জন সন্ত্রাসী হামলাকারী বলে মনে করা হচ্ছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তিন বিদেশী নাগরিকসহ ১৩ জনকে। একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের একজন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

রেস্তরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়ে এসে পরিস্থিতির গুরুত্ব ও ভয়াবহতা আঁচ না করেই পুলিস রেস্তঁরাটিতে অভিযান চালাতে গিয়ে দুজন অফিসার হারিয়েছে। প্রায় ৪০জন জখম হয়েছে সন্ত্রাসীদের গুলি-বোমায়। এরপর রাতভর আর নতুন করে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। কিন্তু রাতেই সন্ত্রাসীরা পণবন্দী বিদেশী নাগরিকদের ২০জনকেই কুপিয়ে মেরে ফেলে।

সেনা কমান্ডোরা সকালে মাত্র ১৩ মিনিটের ঝটিকা অভিযানে রেস্তরাঁটি অধিকার করে ফেলে। সশস্ত্রবাহিনীকে ধন্যবাদ। একটি ভয়ংকর দুঃস্বপ্নের রাত শেষে তারা একটি আপাতঃ স্বস্তির প্রভাত জাতিকে উপহার দিয়েছেন। এমন জাতীয় দুর্যোগ ও বিপর্যয় মোকাবেলায় তাদের অনিবার্যতা ও সামর্থ্য আরেকবার প্রমাণিত হলো। দুর্যোগের রাতে সরকারের কোনো অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়নি। আইনশৃংখলা বাহিনীগুলো আর মিডিয়াই ছিল যেন সবকিছু। সেনাকমান্ডো অভিযানে সব ঠান্ডা হবার পর সরকারী কর্তারা তাদের বাণী ও নানান শানে নযুল নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন।

যা এখনো জানা যায়নি:

হতাহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিদেশী নাগরিকদের নাগরিকত্ব এবং পেশা ও ব্যক্তিগত পরিচয় এখনো অজানা। জানা যায়নি হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গোষ্ঠীগত ও ব্যক্তিগত পরিচয়ও। তারা দেশী না বিদেশী, কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য, তাদের এ হামলার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য কী ছিল, তারা কোন দাবিতে বিদেশী নাগরিকদের এভাবে পণবন্দী করেছিল তার কোনোকিছুই এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট করে জানা যায়নি দায়িত্বশীল কারো কাছ থেকেই।

‘আইএস’ নামে পরিচিত মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সশস্ত্রগোষ্ঠী এর দায় স্বীকার করলেও তার সত্যতা এখনো প্রশ্নাতীত নয়। শেখ হাসিনার সরকার দেশে আইএস অস্তিত্ব অস্বীকার করে আসছে।

বহুমুখী নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে কূটনৈতিক এলাকায় এমন ভয়ঙ্কর আগ্নেয়াস্ত্র-বোমা-গ্রেনেড নিয়ে সন্ত্রাসীদল কেমন করে ঢুকতে পেরেছিল, এ প্রশ্নের সদুত্তরও কেউ দেয়নি এখন পর্যন্ত।

এ ভয়ংকর ঘটনা থেকে রাজনৈতিক ও দলীয় ফায়দা হাসিল এবং সাফল্যের আত্মপ্রচারণার মতন কুৎসিত বদঅভ্যাস রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ ছাড়বেন কিনা সেটাও এখনো বুঝা যাচ্ছে না। এর জন্য আমাদেরকে আরো কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

অনেক কিছু সন্দেহ করা গেলেও আর একটি বিষয় হয়তো কোনো দিনই সুস্পষ্টভাবে জানা যাবে না যে, এমন ভয়ংকর সন্ত্রাসী তৎপরতার পেছনে দেশী-বিদেশী কোনো মহলের ইন্ধন ও মদত রয়েছে কিনা। নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর এমন সন্ত্রাসী ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে কিনা।

তবে একটা বিষয় নিশ্চিত যে, বাংলাদেশ আজ বিপন্ন। জাতি আজ ভেতরে-বাইরে থেকে আক্রান্ত। নির্বিষ ঢোঁড়া সাপ বিরোধীদলকে ষড়যন্ত্র করে ও মেরেকেটে নাশ করে মেকি বিরোধীদল বানিয়ে পার্লামেন্ট ও সরকার সাজাবার যে সার্কাস চালু করা হয়েছে সেই প্রহসনই তো এমন ঘটনার দিকে জাতিকে ঠেলে দিয়েছে। দেশকে বিরোধীশূণ্য ভেবে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার সময়ে এখন বিষাক্ত কালকেউটেরা বিরোধীদল হয়ে ওঠার মরিয়া প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে হয়তো।

ঐক্য ও সমঝোতার কথা বললেই ক্ষমতাসীনেরা পরিহাস করতে থাকে। তবে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ যাই করুন না কেন, এই সংকট থেকে বেরুবার একমাত্র পথ হচ্ছে মহাসংকটকালীন জাতীয় ঐক্য ও সংহতি। এটা মুখের আহ্বানে হবে না। কাজে সে ঐক্য-সংহতির প্রমান দিতে হবে।

এখন যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের মহাসংকটকালীন এই জাতীয় ঐক্য-সংহতির উদ্যোগ নেয়ার ও নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা ও সামর্থ না থাকলে তাদের সরে দাঁড়ানোই একমাত্র কর্তব্য। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষ দলীয় ও দৃষ্টিকোণবর্জিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন আজ দরকার। প্রয়োজন কার্যকর জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা। দরকার আইনশৃংখলা বাহিনীকেও ঢেলে সাজানো।


 ফেইসবুক থেকে