প্রস্তুত ইসি, গাজীপুরে ভোট আগামীকাল

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আগামীকাল ২৬ জুন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। আর এ সিটিতে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত এই সিটির নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে তার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

আগামীকাল গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এলাকার গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্প কারখানাও বন্ধ থাকবে।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে সর্বশক্তি নিয়ে রবিবার শেষ দিনের প্রচারণা চালিয়েছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণার গতকাল শেষ দিনে ছিলো উত্সব মুখর পরিবেশে।

আজ সোমবার দুপুর থেকেই ভোট কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ যাবতীয় নির্বাচনী সমঞ্জাম পাঠানো হবে।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন জানান, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো ও উৎসব মুখর রয়েছে। ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। আজ প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের মালামাল পৌঁছে যাবে। নির্ভয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

কেন্দ্রের বাইরে ২৯ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ৫৮টি টিম এবং পুলিশের ৫৭টি মোবাইল ও ২০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্র পাহারায় ২৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। বাকি সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ২২ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন।

এই সিটিতে ৬ কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট নেয়া হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিবেচনায় সিটির কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার সহায়তায় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এসব প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য আইটি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হয়েছে।

এ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং এবং পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ৮৭০৮ জন। এর মধ্যে প্রতি কেন্দ্রে ১ জন প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে ৪২৫ জন, প্রতিটি কক্ষে ১জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে ২৭৬১ জন এবং প্রতিটি কক্ষে ২ জন পোলিং অফিসার হিসেবে ৫৫২২ জন থাকবেন।

৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গঠিত। গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ৩ পদে ৩৪৭জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এর মধ্যে মেয়র পদে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা), বিএনপির মো. হাসান উদ্দিন সরকার (ধানের শীষ), ইসলামী ঐক্যজোটের ফজলুর রহমান (মিনার), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নাসির উদ্দিন (হাতপাখা), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. জালাল উদ্দিন (মোমবাতি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাজী মো. রুহুল আমিন (কাস্তে) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহমদ (টেবিল ঘড়ি)।

এর মধ্যে ৫৬টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২৫৬ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৮৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় সংসদের গাজীপুর-১, ২ ও ৩ আসনের কিছু কিছু অংশ নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকা গঠিত। সিটি করপোরেশনের মোট ওয়ার্ড ৫৭টি। ভোটকেন্দ্র ৪২টি, ভোটকক্ষ ২৭৬১টি।

দেশের সবচেয়ে বেশি ভোটার গাজীপুর সিটিতে। এ সিটি কর্পোরেশনে ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৫ জন ও নারী ভোটার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১ জন। এ নগরীতে নতুন ভোটার ১ লাখ ১১ হাজার।