বাংলাদেশে এখন ভয়াবহ দুঃশাসন চলছে: ন্যাপ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


২৬ জুন জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক নির্যাতনবিরোধী দিবসটি অত্যন্ত তাৎপর্যময় বলে মন্তব্য করে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, এমন এক সময় দিবসটি পালিত হচ্ছে যখন বাংলাদেশে খোদ সরকার ও তার প্রশাসন বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের নির্যাতনে অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক নির্যাতনবিরোধী দিবস উপলক্ষে সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে নেতৃদ্বয় বলেন, বিশ্বের অন্যান্য জনপদের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্যাতনের মাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকে। বর্তমান সরকারের আমলে তারা নিজেদের ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ভিন্ন মতের ওপর নির্যাতন, হামলা-মামলাকে এক রকম প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে। মানবাধিকারের সংজ্ঞাকেও তারা বদলে ফেলার ন্যক্কারজনক প্রয়াস চালাচ্ছে। এ সরকার এবং তাদের লেলিয়ে দেয়া গুন্ডাবাহিনী ও প্রশাসন বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবর্গ ও সত্যভাষী সাংবাদিক, কখনো বা দুর্নীতি বিরোধী সামাজিক প্লাটফর্মগুলোর ওপরও অকল্পনীয়ভাবে হামলে পড়ছে। আন্তর্জাতিকমহল এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেও সরকার তাদের কর্মকান্ড অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

তারা বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ঔপনিবেশিক শৃক্মখল থেকে জাতিসমূহ স্বাধীনতা অর্জন করলেও আজও বিশ্বব্যাপী চলছে জাতিগত, বর্ণগত, ভাষাগত এবং ধর্ম ও সম্প্রদায়গত সংঘাত। আর এই সংঘাত ও বিরোধের কারণেই সাধারণ মানুষেরা দেশে দেশে নিষ্ঠুর স্বৈরশাসনের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে নিহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করছে। সারা বিশ্ব আজ যান্ত্রিক সভ্যতায় এগিয়ে গেলেও মানবিক সভ্যতা বেশি দূর এগুতে পারেনি। বাংলাদেশেও এখন ভয়াবহ দুঃশাসন চলছে।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে সাংবাদিক হত্যা এবং অসংখ্য সাংবাদিককে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এছাড়াও বিরাধী মত প্রকাশের স্বাধীনতা স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য সরকারি বাহিনীগুলো বেপরোয়াভাবে নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। সরকারের অগণতান্ত্রিক ও অসহিষ্ণু আচরণের প্রতিবাদ করতে গেলেই লেলিয়ে দেয়া হয় তাদের নিজস্ব পেটোয়া বাহিনী। এই সরকারের পোষ্য সন্ত্রাসীদের হাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুরাও ভয়াবহভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। মানুষ আদালতের কাছেও কোন ন্যায় বিচার পাচ্ছে না। এদেশে এখন বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদছে। সরকার স্বীয় স্বার্থে আদালতকে ব্যবহার করছে।

তারা জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবসে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল নির্যাতিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করে বলেন, মানবিকবোধে উদ্বুদ্ধ বিশ্বের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমেই নিষ্ঠুর নির্যাতনকারী মহল ও স্বৈরশাসককে পরাস্ত করা সম্ভব।