কিংবদন্তি মনীষী মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের বহুমূখী কর্মতৎপরতা ও অবদান

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


বাংলায় সীরাত সাহিত্যের জনক, ইসলামী রেনেসাঁর অগ্রদূত, তাফসীরে মাআরিফুল কুরআনসহ অসংখ্য গ্রন্থরে অনুবাদক, রাবেতা আলম আল ইসলামীর সদস্য, মাসিক মদীনা সম্পাদক ফখরে মিল্লাত মাওলানা মুহিউদ্দিন খান রহ.-এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ২৫ জুন। ২০১৬ সালের এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ. জন্ম ৭ বৈশাখ ১৩৪২ বাংলা, জুমার আজানের সময় ময়মনসিংহের মাতুলালয়ে। ইসলামি সাহিত্য সাংবাদিকতা জগতে তিনি জীবন্ত কিংবদন্তি। বাংলা ভাষায় সিরাত চর্চা প্রবর্তন, ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো দুষ্প্রাপ্য ও উচ্চাঙ্গের কিতাবাদি সহজ- সরল, সাবলীল ভাষায় সবার বোধগম্য করে প্রকাশ করেন। তিনি আমাদের কাছে দূর আকাশের দীপিত তারকা। এছাড়া বংলাদেশের ইসলামি রাজনীতি, তাহজিব তামাদ্দুনের তিনি ছিলেন পুরোধা। জাতীর এক মহান রাহবার।

মাওলানা মহিউদ্দীন খান গোটা পৃথিবীর দু’একজন বিরল সম্মানের অধিকারী বিশ্ব মুসলিম মনীষাদের অন্যতম। যার প্রতিটি কথা হয় গ্রন্থিত। জীবনের প্রতিটি দিক একেকটি ইতিহাস। প্রতিটি বক্তৃতা সংকলিত। রচিত পুস্তক হয় চিরন্তন সাহিত্য। চিন্তার প্রতিটি ক্ষণ হয়ে উঠে দিব্যদৃষ্টির বার্তা। উপলব্দি ও মূল্যায়ন হয় ইতিহাসের আক্ষরিক পথ নির্দশন।

আধুনিক বিশ্বের চিন্তা, গবেষণা, ইসলামি জাগরণ আর কর্ম সাধনার অন্যতম প্রাণপুরুষ। যার লেখা গ্রন্থ ইউরোপের শ্রেষ্ট বিদ্যাপিঠ ক্যামবিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য। তিনি কেবল একজন ব্যক্তি নন; বরং বহুমুখী কর্মতৎপর একটি সফল প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের মানুষ আজ গভীর ভাবে এই মহান ব্যক্তিত্বের অভাব অনুভব করে।

আসুন, একনজরে বিশ্বব্যাপী তার বিশাল কর্মময় জীবন সর্ম্পকে জেনে নেই।

ইসলামী একাডেমী প্রতিষ্ঠা : পাকিস্তান আমলেই তিনি ঢাকাতে ইসলামী একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। সরকার যা পরবর্তিতে অধিগ্রহণ করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর যা পরবর্তিতে বঙ্গবন্ধু ইসলামি ফাউন্ডেশন নামে রূপান্তরিত করেন।

আধুনিক বাংলা ইসলামি সাহিত্যের নির্মাতা : আধুনিক বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ইসলাম চর্চার পথিকৃৎ তিনি৷ তাকে অনুসরণ করে এবং তার পৃষ্ঠপোষকতার মধ্য দিয়ে এদেশে অসংখ্য লেখক, অনুবাদক ও গবেষক তৈরী হয়েছেন৷

মাসিক মদীনা : ষাটের দশকের প্রথম দিকে ১৯৬১ সালে তার প্রতিষ্ঠিত মাসিক মদীনা পত্রিকা এদেশের সবচেয়ে বহুল প্রচারিত জনপ্রিয় বাংলা প্রত্রিকা। দেশ-বিদেশে যার পাঠক সংখ্যা কয়েক লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। বাংলা ভাষায় ইসলামি পত্রিকার নতুন এই ধারার পথপ্রদর্শক তিনি। তার অমর কীর্তি মাসিক মদীনার অনুকরণে অনেকগুলো ইসলামি ম্যাগাজিন এদেশে পরবর্তিতে চালু হয়েছে৷

সাপ্তাহিক মুসলিম জাহান : উম্মাহর চিন্তা ও বাঙ্গালী মুসলমানের সুখ দুঃখের কথা ফুটিয়ে তুলতে তিনি প্রতিষ্টা করেছিলেন সাপ্তাহিক মুসলিম জাহান। এটাও বাংলা ভাষা ও সাংবাদিকতায় প্রথম কোন ইসলামি ধারার সাপ্তাহিক। তাঁর স্বপ্ন ছিল দৈনিক মুসলিম জাহান তৈরির। সামাজিক বৈরি পরিবেশ ও রাজনৈতিক হিংস্রতার ফলে দৈনিক মুসলিম জাহান প্রতিষ্টা না করতে পারলেও সাপ্তাহিক মুসলিম জাহানের মাধ্যমে যে কর্মী বাহিনী ও কলম সৈনিক তিনি তৈরি করেছিলেন, তারাই পরবর্তিতে জাতীয় দৈনিক ও মিডিয়াতে এখন এডিটর, সাব এডিটরসহ সাংবাদিকতায় অনেক বড় অবস্থানে কাজ করছেন ।

মদীনা পাবলিকেশন্স : তাঁর অমর কীর্তি ঐতিহ্যবাহী মদীনা পাবলিকেশন্স। মকসুদুল মুমিন আর নেয়ামুল কুরআনের অশুদ্ধ পাঠ চর্চা থেকে তিনি এই প্রতিষ্টানের মাধ্যমে বাঙ্গালী মুসলমানকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন বিশ্ব সাহিত্যের ইসলামি বিশাল ভাণ্ডারের সাথে। শুধু ইসলামি বইকে বট তলা থেকে আধুনিক করণই করেন নি; বরং আজ থেকে অর্ধ শতাব্দি আগে এমন মান ও শৈল্পিকতার সাথে ইসলামি বইয়ের সমাহার নিয়ে একটি প্রকাশনীর যাত্রা যখন করলেন, তখন বাম পাড়াতেও এমন মানসম্পন্ন প্রকাশনা চোখে পড়েনি। মদীনা পাবলিকেশন্স এর পথ ধরে পরবর্তিতে শতশত ইসলামি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান তৈরী হয়েছে৷ বাংলা বাজারে ইসলামি টাওয়ার আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল ইসলামি বই বাজার নিয়ে। এর পেছনে যে মানুষটি শক্তি সাহস ও প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন, তিনি মাওলানা মহিউদ্দীন খান। মদীনা পাবলিকেশন্স শুধু বাংলা একাডেমী ২১শে বই মেলাতে নয়, কলিকতা ও সৌদি আরবের বইমেলাতেও অংশগ্রহণ করে আমাদের মুখোজ্জল করেছে।

রাবেতায়ে আলম আল ইসলামী : বিশ্বের বরেণ্য ইসলামি স্কলার ও পণ্ডিতদের আন্তজাতিক এই প্রতিষ্টানের তিনি বাংলাদেশের প্রথম সদস্য। দীর্ঘদিন রাবেতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব সংস্থার নির্বাহী পর্ষদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে আরব বিশ্ব ও বিশ্বের বড় বড় পণ্ডিতদের সাথে তাঁর কাজ করার সুযোগ হয়েছে । রাবেতার মাধ্যমে এদেশে অসংখ্য মসজিদ-মাদরাসা, দাতব্য চিকিৎসালয় তিনি তৈরি করেছেন।

বিনামুল্যে কুরআন বিতরণ : সংক্ষিপ্ত মাআরিফুল কোরআনের অনুবাদ ও সৌদি বাদশা ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজের সৌজন্য ও মাওলানা মহিউদ্দীন খানের তত্বাবধানে বাংলা ভাষাভাষি মানুষদের জন্য লক্ষ কোটি কপি মাআরিফুল কোরআন তরজমা ও কোরআন শরিফ বিনামুল্যে কয়েক যুগ ব্যাপী বিতরণ তাঁর এক অসমান্য মকবুল একটি খেদমত ।

মদীনা ইউনিভার্সিটির স্কলার : বিশ্বখ্যত মদীনা ইউনিভার্সিটির একজন সম্মানিত স্কলার ও ভিজিটিং প্রফেসার মাওলানা মহিউদ্দীন খান। তাঁর সত্যায়ন ও সুপারিশে অগণিত বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থী আল আজহার কিংবা মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্টানে শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন৷ যা বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে এক অসামান্য অবদান তৈরি করেছে।

অনুবাদ : বিশ্বসাহিত্যের ইসলামি গ্রন্থকে বাংলা অনুবাদের এই মহান কাজটি তিনিই প্রথম শুরু করেন। দার্শনিক ইমাম গাজ্জালী, ইবনে তাইমিয়াসহ বিশ্বের বড় বড় মুসলিম লেখককে তিনিই প্রথম পরিচয় করিয়ে দেন বাঙ্গালী মুসলমানদের সাথে। এহিয়ায়ে উলুমুদ্দীন, কিমিয়য়ে সাদত, মুর্শিদুল আমিন, বার্নাবাসের বাইবেলের মতো গ্রন্থ তিনি অনুবাদ ও প্রকাশ করেছেন। মুফতি শফি রাহ.’র তাফসিরে মাআরিফুল কোরআনের মতো বিশাল গ্রন্থ ১০ খণ্ডে তিনি অনুবাদ করেছেন এককভাবে। এছাড়া অসংখ্য আরবী, উর্দু, ফার্সি, ইংরেজি গ্রন্থ তিনি অনুবাদ করেছেন ।

মৌলিক রচনা : অর্ধশতের উপরে তিনি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেছন। তার অসামান্য আত্মজীবনী গ্রন্থ “জীবনের খেলাঘর” বাংলা সাহিত্যে বহুল পাঠিক একটি ক্লাসিক্যাল গ্রন্থ । স্বপ্নযুগে রাসুল সা. তার লিখিত একটি জনপ্রিয় গ্রন্থ “রওজা শরিফের ইতিকথা”। এছাড়া তার লিখিত শতাধিক গ্রন্থ বাংলা ভাষার পাঠকরের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় ।

নওমুসলিম পূর্ণাবাসন কেন্দ্র : গরীব, অসহায় অসংখ্য নওমুসলিমকে তার প্রতিষ্টিত এই সংস্থার মাধ্যমে পুনর্বাসন করেছেন। খিস্টান মিশনারির বিকল্প দাওয়াতের কাজে অমুসলিমদের মাঝে প্রতিষ্টানটি ব্যাপক সফলতা তৈরি করে। বাংলাদেশ নওমুসলিম পূর্নবাসন আইডিয়াটি তিনিই প্রথম তৈরি করেন ।

সীরাত চর্চার পথিকৃৎ : বাংলা ভাষায় সীরাত চর্চার পথিকৃত মাওলানা মূহিঊদ্দীন খান । মাসিক মদীনা, মুসলিম জাহান এর সীরাতুন্নবী সংখ্যা বিশাল কলরবে ঈদ সংখ্যার মতো প্রকাশ করার আইডিয়ার জনক তিনি। তিনি মদীনা পাবলিকেশন্স এর মাধ্যমে অসংখ্য সীরাত গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। রাসুলে পাক সা.’র সীরাত চর্চায় বাংলা ভাষায় কোন বিশ্ব সীরাত সাহিত্যের তিনি প্রাণপুরুষ ।

জাতীয় সিরাত কমিটি : তাঁর মহান কার্যক্রমের অন্যতম একটি হল জাতীয় সিরাত কমিটি। এর মাধ্যমে জাতীয়ভাবে সীরাত চর্চা শুরু হয়। অনুষ্ঠিত হয় সীরাত সম্মেলন। জাতীয় সীরাত স্মারক এপর্যন্ত ৬খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। যা বাংলা সাহিত্যে এক বিশাল অবদান তৈরি করেছে। তিনি জাতীয় সিরাত কমিটির চেয়ারম্যান।

সীরাত স্বর্ণ পদক : তার অসমান্য অবদানের একটি সিরাত স্বর্ণ পদক। সীরাত চর্চাকে উৎসাহিত করতে এবং যারা সিরাত চর্চা ও সীরাত সাহিত্য অবদান রেখেছনে এরকম অসংখ্য মনীষাকে তিনি মুল্যায়িত করেছেন এই পদক প্রদান করে। খতিব উবায়দুল হক রাহ., আল্লামা আহমদ শফিসহ অনেক বিখ্যাতজনরা এপদকে ভূষিত হয়েছেন।

আগ্রাসন প্রতিরোধ কমিটি : মাওলানা মহিউদ্দীন খান দেশ মাতৃকার এক জাগ্রত সিপাহসালার। তিনি এই আলোচিত সংগঠনটির মাধ্যমে সামজ্রবাদী আগ্রাসনের বিরোদ্ধ তিনি প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ করেছেন আজীবন। তার নেতৃত্বে এই অরাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ডানপন্থী বিদ্ধুজীবি লেখকদের একটি প্লাটফর্ম তৈরি করেছেন।

আনসার নগর কমপ্লেক্স : খান সাহেবের পিতা হাকীম আনসার উদ্দীন খানের নামে ময়মনশাহীর গফরগাঁও আনসার নগর এক সুবিশাল শিক্ষা কার্যক্রমের যাত্রা করেছেন। এতিমখানা, মাদরাসা, মহিলা মাদরাসা, ইসলামিক স্কুল, সেবা ট্রাস্ট, হাসপাতাল, মসজিদ, গন পাঠাগারসহ বহুমুখি কার্যক্রম তার অমর কীর্তি।

সমকালীন জিজ্ঞাসার জবাব : তিনি চলন্ত এক বিশ্বকোষ। মাসিক মদীনাকে ঘিরে তিনি যে প্রশ্নোত্তর বিভাগ চালু করেছিলেন তা, খান সাহেবর এক অমর জ্ঞান ভান্ডার। প্রতি মাসে শতাধিক প্রশ্ন উত্তর নিয়ে এই বিশাল আযোজন ছিল মদীনা পত্রিকার মূল আর্কষন। এককভাবে বাগত ৭০ বছর যাবৎ কয়েক লক্ষ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। মহাকাশ, বিজ্ঞান, ফেকাহ, কোরআন, হাদীস, মনীষা, বিভিন্ন সভ্যতা, এমন কোন বিষয় নেই যার উত্তর তিনি দেন নি। “সমকালিন জিজ্ঞাসা” জবাব নামে যা শতাধিক খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। যা বিশ্ব ইতিহাসে একক এক বিশ্বকোষ বা জ্ঞান ভান্ডারের মর্যাদা লাভ করেছে।

রাবেতা আল আদব : বিশ্ব ইসলামি সাহিত্য পরিষদের তিনি অন্যতম প্রতিষ্টা। সৌদি আরবের রিযাদ কেন্দ্রীক আন্তজর্তিক এই সাহিত্য সংগঠনটির মাধ্যমে পুরো পৃথিবীতে সাহিত্য চর্চার ইসলামিক ধারার নব যুগের সূচনা কর বিশ্ব দরবারে অমর হয়ে আছেন। রাবেতা আল আদবের মাধ্যমে কিনি পৃথিবীর সবকটি মুসলিম দেশ সফর করেছেন। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে বহুদেশ ভ্রমন করে তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্ব্যব্যাপি মানব সভ্যতার নির্মান ও বিকাশ সম্পর্কে বহু গ্রন্থ লিখেছেন।

ইসলামী পত্রিকা পরিষদ : বাংলাদেশের সকল ইসলামি পত্রিকার সমন্বয়ে ইসলামি পত্রিকা পরিষদ গঠন তাঁর অমর কীর্তি। জাতীয় লেখক সম্মেলন, লেখক পুরস্কার তাঁরই অমর কীর্তি।

টিপাইমূখ লংমার্চ : নদী আগ্রাসন প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে তিনিই প্রথম ভারতীয় নদী আগ্রাসন ও টিপাইমূখ বাঁধের বিরোদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন। তার নেতৃত্বে লাখো জনতার টিপাইমূখ বাঁধ বিরোধী টিপাইমূখ অভিমূখে লংমার্চ মুহিউদ্দীন খানের জীবনের ঐতিহাসিক নেতৃত্বের সফলতা।

বাংলাদেশ সবোর্চ্চ উলামা পরিষদ : বাংলাদেশের সব মত পথের আলেমদের নিয়ে সবোর্চ্চ উলামা পরিষদ গঠন খান সাহেবের অনন্য ব্যক্তিত্বের আরেকটি মাইল ফলক। দেওবন্দি, ছারছিনা, ফুলতলি, বায়তুশ শরফসহ নানান মতের উলামাদের নিয়ে ইসলাম বিরোধি যে কোন কাজে তিনি প্রতিবাদ করেছেন। এবং আজীবন উলামাদের ঐক্য ও মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের পক্ষে কাজ করেছেন। তাঁর দরবার সব মত পথের আলেমরা আশ্রিত হবার শেষ ঠিকানা।

মাসিক মদীনা পত্রিকার মরধ্যমে তিনি যে লেখক কাফেলাকে এদেশে এক বিনি সুঁতার মালায় গেথে ছিলেন, তারাই মূলত এদেশের তাহযিব-তামাদ্দুন সংরক্ষণ বিকাশ ও লালনে অসামান্য অবদান রেখেছেন।

প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ, কবি ফররুখ আহমদ, কবি বন্দে আলী মিয়া, নুর মোহাম্মদ আজমী, দেওয়ান আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক আবু তালিব, সৈয়দ আব্দুস সুলতান, সৈয়দ আশরাফুল হক আকিক, এজেড শামছুল আলম সিএসপি, আব্দুল খালেক জোয়ারদার, জহুরী, কবি মুজ্জাম্মেল হক, সৈয়দ আব্দুল্লাহ, কবি আব্দুল হালিম খা, অধ্যাপক আবুল হোসেন মল্লিক, সৈয়দ মোস্তফা কামালের মত বিশাল এক লেখক কাফেলা তিনি মাসিক মদীনা পত্রিকার মাধ্যমে তৈরি করেছিলেন। কিংবদন্তিতূল্য সেসব লেখকদের অনেকেই আজ এ পৃথিবীতে নেই। তবে তাদের কর্ম আলো ছড়াচ্ছে চারদিকে।