মাওলানা মহিউদ্দীন খান রহ. কে নিয়ে যা বললেন শরীফ মুহাম্মদ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | জামিল আহমদ


বাংলাদেশী আলেমদের বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের পথপ্রদর্শক, দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীন ও বাংলায় সীরাত সাহিত্যের জনক, তাফসীরে মাআরিফুল কুরআনসহ অসংখ্য গ্রন্থরে অনুবাদক, রাবেতা আলম আল ইসলামীর সদস্য, মাসিক মদীনা সম্পাদক ফখরে মিল্লাত মাওলানা মুহিউদ্দিন খান রহ.- ২০১৬ সালের ২৫ জুন ইন্তেকাল করেন। তার ইন্তেকালে জাতীর এই অভাবনিয় শূন্যতা পূরণ হবার নয়।

মাওলানা মহিউদ্দীন খান রহ. কে যারা কাছে থেকে দেখেছেন, তার কাছে আসা-যাওয়া ছিলো, তার সান্নিধ্যে সময় ব্যায় করেছেন তাদের অন্যতম একজন হলেন লেখক সাহিত্যিক ও সমাজ চিন্তক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ।

ইনসাফের সাথে আলাপকালে খান সাহেব রহ. এর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, মাওলানা মুহিউদ্দিন খান রহ কাছ থেকে দেখার শুরু ১৯৯১/৯২ সালে।  ‘মুসলিম জাহান’-এ লেখা দিতে যেতাম। তখন মতিঝিল মাদরাসায় শিক্ষকতা করতাম, এ সময় তার অফিসে কাজ করতেন মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, সৈয়দ জহিরুল হক জহুরী। তাদের সাথে বসে বিভিন্ন বিষয়ে কথা হতো। একসময় সেখানে কাজে যোগ দিলাম। কোনো কাজে আমাকে ডাকার তাঁর কোনো প্রয়োজন পড়ে না। এর মধ্যেও মাঝে-মধ্যে ডেকে এটা ওটা লিখতে বলতেন। কখনো কখনো লেখা দেখাতেও নিয়ে যেতাম। ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত ওনার নিকট আসা-যাওয়া ও যোগাযোগ ছিলো। অনেক সময় দিক-নিদের্শনা নেয়ার সুযোগ হয়েছে আমার। আমি ওনার  প্রতি কৃজ্ঞত।

তিনি বলেন, খান সাহেব রহ. এর বেশীরভাগ বই হলো অনুবাদ গ্রন্থ। আমার কাছে উনার লেখার মধ্যে সবচেয়ে ভালো লাগে মাসিক মদীনার সম্পাদকীয়। সম্পাদকীয়তে তিনি এত আবেগ দিয়ে আহবানমূলক কথা প্রতিমাসে লেখতেন, মনে হতো কবিতা, কিন্তু তা বাস্তবে কবিতা ছিলো না। মনে হতো জাতির এ ক্রান্তিকালে কবি জাতিকে জাগানোর আহবান করছেন। কীভাবে সমস্যা থেকে উত্তরণ পাওয়া যাবে, সে পথও বলে দিতেন। বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও নানা ধরনের সংকট সম্পর্কে জনসচেতনা ও রুখে দেয়ার জন্যও বলতেন।

মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, বিভিন্ন প্রশ্নত্তোর লেখার ধরণ, প্রশ্নত্তোরের অনেক দিক থাকতে পারে, উনি যে এত সুন্দর করে সাবলীলভাবে সরলীকরণ করে বা সর্ব সাধারণের জন্য বোধগম্য করে চমৎকার ভাবে উত্তরটা লেখে দিতেন তা সত্যিই অসাধারণ।  বই হিসেবে আমার কাছে ভালো লাগে জীবনের খোলঘরে ও তাহার সৌভাগ্যপূর্ণ একটি কাজ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআনের অনুবাদের সম্পাদনা।

মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ জানান, খান সাহেব রহ. তরুণ লেখকদের খুব উৎসাহিত করতেন। নতুন লেখকদের তিনি কাছে ডেকে বলতেনে এটা এভাবে এটা ওভাবে লিখলে সুন্দর হয়। নবীনদের লেখা ছাপিয়ে দিতেন, কোথাও লেখা ছাপা হয়নি এমন লেখাও যদি নবীনরা নিয়ে আসতো তা তিনি সম্পাদনা করে তা মাসিক মদীনায় ছাপিয়ে দিতেন, আমি এর জীবন্ত সাক্ষী। খান সাহেবের মতো এমন অর্গানাইজার তরুণদের জন্য তৈরী করে দিয়ে, তাদেরকে ডেকে এনে শূন্যতা পূরণের জন্য চেষ্টা করা আমি ঠিক উনার মতো অভিভাবক আর দেখছি বলে মনে হয়না।

মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, তিনি এমন কাণ্ডারী ছিলেন, উনি উনার সময়ে যে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এটাই অনেক বড় কথা। ৫০, ৬০ ও ৭০ এর দশকে প্রায় ৩০ বছর বাংলাদেশে একটি মাসিক পত্রিকাকে কেন্দ্র করে একটা বিপ্লব করা, মানুষের মধ্যে ইসলামী বিষয়াদি ছড়িয়ে দেয়ার যে সংগ্রাম করেছেনে এটা অনেক বড় ব্যাপার। এর ভিতরে অনেক লেখক তৈরী করেছেন সেটাও অনেক বড় অর্জন। বর্তমানে আমাদের লেখকদের যত বই বাজারে পাবেন তার বেশীরভাগের সাথে কোন না কোনভাবে খান সাহেব রহ. জড়িয়ে আছেন।


Notice: Undefined index: email in /home/insaf24cp/public_html/wp-content/plugins/simple-social-share/simple-social-share.php on line 74